অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার তুলনায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই আধুনিক যুগে প্রধানতম লক্ষ্য। শিক্ষা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ গ্রহণ করেছে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট ইত্যাদির মাধ্যমে। এসব প্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তি শিক্ষকরা তথা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যারা মুখ্য ভূমিকা পালন করেন এবং মহৎ শিক্ষাদান কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকেন তারাই সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি বা শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা ও এগুলোর পরিচালনা থেকে শুরু করে সিলেবাস-কারিকুলাম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নসহ সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রমই নির্ভর করছে শিক্ষকদের ওপর। প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়ন এবং কল্যাণ সাধনে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য জাতির ভবিষ্যৎ রচনায় তারাই প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেন। প্রতিষ্ঠানের সফলতা, ব্যর্থতা, সুনাম-দুর্নাম এ সবই নির্ভর করছে শিক্ষকদের যথাযথ তৎপরতা ও কার্যক্রমের ওপর। এমতাবস্থায় নিঃসন্দেহে বলা চলে, শিক্ষার মৌলিক দর্শনের আলোকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গঠন ও পরিচালনায় শিক্ষকদের ভূমিকা মুখ্য। বিশেষ করে যে সব নিবেদিত আদর্শ শিক্ষক আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়) নিয়োজিত আছেন তাদের অবস্থান, ভূমিকা, দায়িত্ব ও করণীয় সম্পর্কেই এখানে আলোচনা করছি। ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আদর্শবাদী শিক্ষকদের অবস্থান নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। এ সব প্রতিষ্ঠানে কার্যরত শিক্ষক যারা মানবীয়, মহৎ ও ইসলামী আদর্শে উজ্জীবিত তাদেরকে তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে কোন ধরনের ভূমিকা পালন করা আবশ্যক এবং কিভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার কৌশল নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন।
আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান : সাধারণত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন ও উপযোজনের জন্য আমাদের দেশের শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক কতগুলো পূর্বশর্ত আরোপ করা হয় যেগুলোর পূরণ বা বাস্তবায়নের পরিপ্রেক্ষিতে একটি প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। কিন্তু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ‘আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান’ হিসেবে পরিগণিত করার জন্য এ সব পূর্বশর্ত যথেষ্ট নয়। যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিম্নের অবস্থা বিরাজমান সেগুলোকেই আমরা আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে আখ্যায়িত করতে পারি।
সুষ্ঠু শিক্ষানীতি : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একটি সুষ্ঠু শিক্ষানীতির আলোকে পরিচালিত হবে। এ শিক্ষানীতি দেশের বা রাষ্ট্রের ঘোষিত শিক্ষানীতির বিপরীত বা ভিন্ন কিছু হবে না। তবে প্রচলিত শিক্ষানীতির সাথে সমন্বিত বা আদর্শ শিক্ষানীতির অন্তত কিছু উপাদান সংযোজন করার নিজস্ব প্রয়াস থাকবে প্রতিষ্ঠানের। এ শিক্ষানীতির আলোকেই গড়ে ওঠে গোটা শিক্ষাব্যবস্থা, সিলেবাস-কারিকুলাম, শিক্ষার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, দেশের ভবিষ্যৎ ইত্যাদি।
উপযুক্ত সিলেবাস কারিকুলাম : প্রতিষ্ঠানের আওতায় নিয়ন্ত্রিত শিক্ষাকার্যক্রমের মূল ভিত্তিই হচ্ছে একটি কল্যাণমুখী ও উপযুক্ত সিলেবাস কারিকুলাম; যা দিকনির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রকৃত জ্ঞান, সচ্চরিত্র ও যোগ্যতা সৃষ্টির আসল চালিকাশক্তি হচ্ছে এ সিলেবাস, কারিকুলাম, তদানুযায়ী লিখিত বইপুস্তক এবং এগুলোর সঠিক উপস্থাপনা।
আদর্শ শিক্ষক : আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি গুরুত্ব¡পূর্ণ শর্ত হচ্ছে শুধু যেকোনো শিক্ষক নিয়োগই নয় বরং উপযুক্ত, যোগ্য, চরিত্রবান, আদর্শবাদী ও মূল্যরোধে বিশ্বাসী শিক্ষকদের নিয়োগ ও তাদের সক্রিয় ভূমিকা। শিক্ষা বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরোপিত শর্তানুযায়ী শুধু প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ করলেই ‘যথেষ্ট’ বলে ধরা হয়। অথচ একমাত্র শিক্ষার দর্শনের আলোকে বিচার করলেও নীতি-নৈতিকতাবিরোধী শিক্ষকমণ্ডলী গোটা শিক্ষার লক্ষ্যকে ব্যাহত এবং শিক্ষার পরিবেশকে অনৈতিকতা ও অপসংস্কৃতিতে ভরে দিতে পারেন। তাই এ ব্যাপারে সতর্কতা প্রয়োজন।
শিক্ষার নৈতিক পরিবেশ : আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে আরেকটি উল্লেখযোগ্য পূর্বশর্ত হচ্ছে- শিক্ষার নৈতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখা। মূলত শিক্ষা-কার্যক্রমের বাস্তবায়ন বহুলাংশে নির্ভর করে শিক্ষার সুস্থ ও উপযোগী পরিবেশের ওপর। সাধারণত সহশিক্ষার বিলোপ ও ক্ষেত্র হিসেবে মেয়েদের জন্য আলাদা শিক্ষার ব্যবস্থা, ত্রুটিপূর্ণ পরীক্ষাপদ্ধতির সংস্কার পূর্বক সঠিক মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রবর্তন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা চালু, নৈতিকতাসম্পন্ন যোগ্য ও আদর্শ শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষা বর্ষপঞ্জির যথাযথ অনুসরণ, নির্দোষ ও নিষ্কলুষ খেলাধুলার ব্যবস্থা, শিক্ষাঙ্গনে মসজিদ প্রতিষ্ঠা ইত্যাদির মাধ্যমে শিক্ষার নৈতিক মান সৃষ্টি হয়ে থাকে।
ছাত্র-শিক্ষক মধুর সম্পর্ক : ছাত্র-শিক্ষকের মধুর ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সৃষ্টির ওপরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা-কার্যক্রম নির্ভর করে। অতীতের ছাত্র আজকের শিক্ষক আর আজকের ছাত্র ভবিষ্যতের শিক্ষক। সুতরাং ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে কৃত্রিম দূরত্ব ঘুচিয়ে উভয়ের মধ্যে মধুর সম্পর্ক স্থাপন করতে পারলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনেক অঘটন ঘটানোর স্থান না হয়ে জ্ঞান বিতরণ ও আহরণের ক্ষেত্রে পরিণত হবে। একমাত্র আদর্শ শিক্ষকরাই চরিত্রবান ও জ্ঞানী ছাত্র তৈরি করে এ ব্যবধান ঘোচাতে পারেন।
শিক্ষক-অভিভাবক সুসম্পর্ক : ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্কের মতোই শিক্ষক-অভিভাবক সম্পর্কও আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গঠনের ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সচেতন অভিভাবক ও জ্ঞানসাধক শিক্ষকের মধ্যে বিরাজমান সম্পর্ক, প্রতিষ্ঠানের জন্য চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্ষদের শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত এবং সুসম্পর্ক রক্ষা করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে; অন্যথায় প্রতিষ্ঠানের অকল্যাণ হতে পারে।
সুষ্ঠু প্রশাসনিক কাঠামো : আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত হচ্ছেÑ সৎ ও যোগ্য শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী সমন্বয়ে একটি সুষ্ঠু প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা, যার ওপর শিক্ষার মূল দর্শনের বাস্তবায়ন থেকে শুরু করে শিক্ষাদান কার্যক্রম এবং প্রশাসন ও পরিচালনা নির্ভর করবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম এবং দুর্নামও বহুলাংশে নির্ভর করে প্রশাসনের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের সততা ও দক্ষতার ওপর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করার জন্য শিক্ষা বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক আরোপিত শর্তাবলি ছাড়াও উপরোল্লিখিত অতিরিক্ত পূর্বশর্ত পূরণের মধ্য দিয়েই একটি প্রতিষ্ঠান আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে উল্লিখিত অতিরিক্ত শর্তাবলির মধ্যে গোটা শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা ও প্রতিষ্ঠানের সার্বিক সফলতা নির্ভর করে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের আদর্শিক মান ও পেশাগত যোগ্যতার ওপর তথা শিক্ষকদের গুণাবলি ও ভূমিকাই নিরূপণ করে একটি প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক বা শিক্ষার মান ও আদর্শবাদিতা।
শিক্ষকদের মৌলিক গুণাবলি : মানবকল্যাণমুখী জ্ঞান-সাধনায় ও বিতরণে আত্মোৎসর্গকারী ও সম্মানিত ব্যক্তিরা যারা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেন এবং যাদের গুণাবলি ও তৎপরতার ওপর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়া নির্ভরশীল তাদের গুণাবলি সম্পর্কে কিছুটা আলোকপাত করা আবশ্যক; যাতে করে এটা আমাদের কাছে স্পষ্ট থাকে যে, কোন ধরনের মৌলিক গুণাবলি সম্পন্ন শিক্ষকরা একটি প্রতিষ্ঠানকে আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার যোগ্যতা রাখেন ও সাহসী ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসতে পারেন।
১. শিক্ষক হবেন মূলত জ্ঞানের আধার। বস্তুগত জ্ঞানের সাথে নৈতিক জ্ঞানের সমন্বয় অবশ্যই তার মধ্যে থাকতে হবে। বিশ্ব সৃষ্টি সম্পর্কে, জীবন ও জগত সম্পর্কে, জীবনের উৎস, অবস্থান ও পরিণতি সম্পর্কে স্বচ্ছ-জ্ঞান শিক্ষকের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করবে যা তার বস্তুগত জ্ঞানকে মানবকল্যাণমুখী করবে এবং তার এই মৌলিক গুণ তাকে অনন্য ও ব্যতিক্রমধর্মী করবে। এ জন্য প্রকৃত জ্ঞানের উৎস এবং ওহির জ্ঞান একজন শিক্ষকের জন্য আবশ্যক। ২. চারিত্রিক বলিষ্ঠতা এবং অনাবিল ব্যক্তিত্ব একজন শিক্ষকের মৌলিক গুণাবলি হিসেবে স্বীকৃত। জাতির ভবিষ্যৎ রচনায় নিয়োজিত শিক্ষকের জন্য নৈতিক গুণাবলি ও বিষয়ের জ্ঞানের সাথে সাথে চারিত্রিক দৃঢ়তা প্রদর্শন অপরিহার্য। কেননা, শিক্ষক যা পড়ান ছাত্রছাত্রীরা শুধু তাই শেখে না; বরং তার বাহ্যিক আচরণ ও চারিত্রিক সৌন্দর্যের প্রতিও তারা আকৃষ্ট হয়, শিক্ষা গ্রহণ ও অনুকরণ করে। ৩. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাজ থেকে শুরু করে সার্বিক কাজে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও এতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে প্রতিষ্ঠানের সর্বমহলে শিক্ষক তার অবস্থানকে অপরিহার্য করিয়ে নেয়ার মতো মৌলিক গুণও নিজের মধ্যে সৃষ্টি করবেন। মূলত একজন শিক্ষক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য কল্যাণকামী চালিকাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন এবং কোনো ব্যাপারেই শৈথিল্য প্রদর্শন করবেন না। ৪. শিক্ষকমণ্ডলী ও ছাত্রদের মধ্যে একজন শিক্ষক তার নিজস্ব বিষয়ে এক্সপার্ট বা বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত হবেন যার জন্য প্রয়োজন নিরলস জ্ঞানসাধনা, গবেষণা, ঐকান্তিকতা ও সহিষ্ণুতার মতো মৌলিক গুণ। নিজ নিজ বিষয়ে বা সাবজেক্টে নিজস্ব চিন্তাভাবনা, গবেষণা ও অবদান রাখা শিক্ষকতার একান্ত দাবি। শুধু তাই নয়, নিজের বিষয়টিকে মানবীয় দর্শন যা ইসলামী দর্শন ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে না, এর আলোকে ও দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণপূর্বক উপস্থাপন করা বাঞ্ছনীয়। জ্ঞানের ইসলামীকরণের আন্তরিক প্রয়াস তার থাকতে হবে। ৫. যোগ্যতা, তৎপরতা ও দক্ষতা সহকারে প্রতিষ্ঠানের বিবিধ কাজ সম্পন্ন করাও একজন শিক্ষকের মৌলিক গুণ হিসেবে স্বীকৃত। একাডেমিক ও নন-একাডেমিক সব দায়িত্ব। সুষ্ঠুভাবে যথাসময়ে পালন করা জরুরি। অন্যথায় প্রতিষ্ঠানের গোটা কার্যক্রমের মধ্যে একটি স্লথ গতি সৃষ্টি হতে পারে, যাতে বিরাট ক্ষতি বা বিপদের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে। ৬. একজন শিক্ষক জ্ঞানের সাধক হওয়ার পাশাপাশি সব ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হবেন। শিক্ষাঙ্গনে সংঘটিত সন্ত্রাসী কার্যকলাপ থেকে শুরু করে যাবতীয় অন্যায় কাজকর্মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মতো বলিষ্ঠ সাহসও একজন শিক্ষকের মৌলিক গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত। সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা এবং অসত্য ও অন্যায়ের অবসানের জন্য একজন শিক্ষক সদা জাগরূক ও সচেষ্ট থাকবেন। ৭. শিক্ষকতাকে জীবিকার্জনের মাধ্যম বা পেশা হিসেবে গ্রহণ করাই নয়; বরং এটাকে জীবনের একটি মিশন বা ব্রত হিসেবে মনে করাও একজন শিক্ষকের মৌলিক গুণ বলে স্বীকৃত হবে। শিক্ষকতার দর্শন ও জীবনের মিশনের মধ্যে কোনো ফাঁক বা ব্যবধান থাকবে না। তাহলেই একজন শিক্ষকের জীবনে কোনো ব্যর্থতার বা হতাশার ছাপ দেখা যাবে না এবং শিক্ষাঙ্গনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতেও তিনি পিছপা হবেন না, বরং আন্তরিকভাবে অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন।
লেখক : উপাধ্যক্ষ, রোকনউদ্দিন মোল্লা গার্লস ডিগ্রি কলেজ, আড়াউহাজার, নারায়ণগঞ্জ
