কুরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা পরস্পরের ধনসম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ে ফেলো না। লেনদেন হতে হবে পারস্পরিক রেজামন্দির ভিত্তিতে। আর নিজেকে হত্যা করো না। নিশ্চিত জানো, আল্লাহ তোমাদের প্রতি মেহেরবান।’ (সুরা আন নিসা-২৯)। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে আমরা আল্লাহ তায়ালার এই নির্দেশকে উপেক্ষা করে নিজেরাই নিজ জাতিকে ধ্বংস করে চলেছি। বিষয়টি ব্যাখ্যা করলে আশা করি সবাই বুঝবেন।
আমাদের দেশে বড় বড় মহাজনেরা বিশাল বিশাল অটো রাইস মিলে চাল তৈরি করে বাজারে সরবরাহ করে থাকেন। মালিকরা মিল প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যাংক থেকে যত টাকা ঋণ গ্রহণ করে থাকেন, সেই পরিমাণ টাকা মিলে খরচ না করে অন্যত্র খরচ করে থাকেন। এখান থেকেই শুরু হয় প্রতারণা ও জালিয়াতি। মিলে ক্রয় করা ধান থেকে চাল উৎপাদনের জন্য চালকে ঝকঝকে পরিষ্কার করার জন্য ক্ষতিকর রসায়নসহ ইউরিয়া ব্যবহার করে থাকেন। এই ইউরিয়ার মিশ্রণ আমাদের শরীরে প্রবেশ করে প্রথমেই আঘাত করে কিডনিকে। এ ছাড়া অন্যান্য অঙ্গের ক্ষতিতো করেই থাকে। আবার মোটা চাল মেশিনে ছাঁটাই করে চিকন চালে রূপান্তর করে বেশি দামে বিক্রি করে জনতাকে প্রতারিত করে এবং জাতিকে ঠকায়। আমরা বাজার থেকে মুড়ি ক্রয় করে থাকি। মুড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান একে আকর্ষণীয় সাদা রঙের জন্য চালের সাথে ইউরিয়া সার ব্যবহার করে থাকেন। রান্নার জন্য সরিষা অথবা সয়াবিনের তেল আমাদের রান্নাঘরের অত্যাবশ্যকীয় এক উপাদান। তেল ছাড়া রান্নার কথা কল্পনাও করা যায় না। এসব তেলের মধ্যে বহু প্রকারের রসায়ন ও ভেজাল মিশানো হয়। সে খবর ‘বিএসটিআই’ এর ইঞ্জিনিয়ার কতটুকু জানেন আমরা জানি না।
ইক্ষুর রস থেকে উৎপাদিত গুড় সবার জন্য প্রিয় একটি খাদ্য উপাদান। বীরের জাতি বাঙালি এখন দেশে আর আখের চাষে মনোযোগী নয়। তাই আখ থেকে আর আগের মতো গুড় তৈরি হয় না। যতটুকু উৎপাদিত হয় সেই গুড়ের মধ্যে ইদানীং আটা মিশানো হয়। আবার শোনা যায় গুড় তৈরির সময় কম দামের চিনি মিশানো হয়। এ ছাড়া ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্যতো মিশানো হয়-ই। সুতরাং গুড়ের তৈরি কোনো খাদ্য আর স্বাস্থ্যকর নয়। শীতকালের খেজুরের রস এবং গুড় একটি মুখরোচক খাদ্য। সারা দেশ থেকে শীতকালে রস নামানো হয় এবং রস থেকে লালি অথবা পাটালি তৈরি করা হয়। লোভী ব্যবসায়ীরা গাছ থেকে নামানো রসের সাথে পানি মিশিয়ে বিক্রয় করে থাকে। আবার যে লালি বা পাটালি তৈরি করা হয় অধিক লাভের জন্য গাছিরা সেই লালি বা গুড়ের সাথে চিনি মিশিয়ে থাকে। ফলে এখন আর পিওর লালি পাওয়া যায় না এবং পাটালিকে আকর্ষণীয় করার জন্য তার মধ্যে অনেক ক্ষতিকর রসায়ন মিশানো হয়। এসব গুড় খেলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। বেকারির কেক, বিস্কুট, পাউরুটি, বাটারবন ইত্যাদি আমাদের সবার নাশতার টেবিলের প্রিয় আইটেম। বেকারিতে তৈরি এসব খাদ্যের মধ্যে নষ্টডিম, নিম্নমানের তেল, নিম্নমানের আটা ময়দা চিনি ব্যবহার করা হয় এটা সবার জানা কথা। ফলে বেকারির তৈরি খাবার খেয়ে আমাদের জীবনীশক্তি কমছে। বাজার থেকে আমরা আম,কলা, পেঁপে, আপেল, আনার ইত্যাদি ক্রয় করে খাই। আপনি জেনে আশ্চর্য হবেন যে এসব ফলের বেশির ভাগ এখন ফরমালিন, কার্বাইড বা ক্ষতিকর রসায়নমুক্ত নয়।
খামারিরা অধিক লাভের আশায় গরুর শরীরে বিক্রয়ের কিছু দিন আগেই ক্ষতিকর ইনজেকশন করে থাকে ফলে গরু খুব দ্রুত মোটা হয় এবং গায়ে গোশতের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। মুরগির শরীরে বেশি বেশি গোশতের জন্য ক্ষতিকর খাদ্য খাওয়ানো হয়। বাজার থেকে হলুদ-মরিচের গুঁড়ায় মরিচের পাতা বোঁটা,নষ্টমরিচ, হলুদের গায়ের ধুলা মাটি এবং অধিক লাভের জন্য মিশানো হয় ইটের গুঁড়া যা স্বাস্থ্যের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর। আমরা যে প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকি। এগুলোর মধ্যে পুরনো বোতলে নকল প্রসাধনীও থাকে। এসব প্রসাধনী ব্যবহার করার কারণে দেহে চর্মরোগ ও ক্যান্সারের মতো রোগ সৃষ্টি হয়। মধু সবার পছন্দনীয় খাদ্য এবং প্রাকৃতিক একটি ওষুধ। এখন তো বিশুদ্ধ মধু অধরা। পত্রিকায় পড়েছি, চিনি পিষে গুঁড়া করে তার মধ্যে গ্নিসারিন ও গন্ধ এবং রঙের কেমিক্যাল মিশিয়ে মধু তৈরি করে বোতলজাত করে থাকে। শুনেছি সুন্দরবন এবং পাহাড়ি অঞ্চলে মৌচাক থেকে যে মধু নামানো হয় তা নাকি জঙ্গলের বাইরে আসতে আসতেই ভেজাল মধুতে রূপান্তরিত হয়। বোতলের গায়ে আকর্ষণীয় মোড়ক লাগিয়ে সেগুলো বাজারে বিক্রি করা হয়।
বাজার থেকে ছানার তৈরি রসগোল্লা ক্রয় করে আমরা খেয়ে থাকি। সাদা টিস্যু পেপার পানিতে দীর্ঘক্ষণ ভিজিয়ে রেখে ছানার সাথে মেশানো হয় এবং এই ছানা দিয়ে রসগোল্লা বানানো হয়। পাঁচ কেজি ছানার সাথে যদি আধাকেজি টিস্যু পেপার মিশানো হয় তাহলে লাভ কত? ঠিক দই বানাতেও একই প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়। হাটে বাজারে যে দই এবং মিষ্টি খাই সেসব এই প্রক্রিয়াই যে তৈরি হয়নি তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। দুধ সবার প্রিয় একটি আদর্শ খাবার। বাজার থেকে, দুধ সরবরাহকারীর নিকট থেকে অথবা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে প্যাকেটজাত দুধ আমরা কিনে থাকি। দুধে পানি মেশানো সহজ এবং এতে লাভ বেশি। সমাজে একটি কথা প্রচলিত আছে আগে দুধের মধ্যে বেশি লাভের আশায় পানি মেশানো হতো আর এখন পানির মধ্যে দুধ মেশানো হয়।
আশির দশকে এবং নব্বইয়ের দশকে রেডিওতে একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো। বিজ্ঞাপনটি এরকম যে ‘হাসিনার মা মাইয়্যাডারে এবার বিয়া দিয়া দিমু। হাসিনার মা বলে, বিয়া দিবা টাকা কই? হাসিনার বাবা বলে, টাকা দিবো ফুরাডান। মা আশ্চর্য হয়ে বলে, ফুরাডানতো ধানের পোকা মারনের ওষুধ, টাকা দিবো কেমন্যে? বাবা এবার সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, আরে ধান লাগাইয়া ফুরাডান দিছি, ফলন যা হইবো না? ধান বেইচ্যা মাইয়্যাডারে বিয়া দিমু। এবার মা বলে, আল্লাহ ফুরাডানরে বাইচ্যা রাখুক। অর্থাৎ এই বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্য হলো ফুরাডান নামে একটি কীটনাশকের প্রচার। তখন গ্রামে গেলে দেখতাম কৃষক এই কীটনাশক ব্যবহার করে প্রকৃতপক্ষেই ফসলের ভালো ফলন পেতো। প্লাস্টিকের প্যাকের এই কীটনাশকটি লাল রঙের এবং দানাদার। কিছুদিন পর জানা গেল অসাধু ব্যবসায়ীরা প্যাকেট কেটে কীটনাশকের সাথে লাল ইটের গুঁড়া মিশিয়ে নতুন করে প্যাকেটজাত করে বাজারে ছেড়েছে। আমাদের দেশের সহজ-সরল কৃষক এই প্রতারণা না বুঝতে পেরে কীটনাশকটি ব্যবহার করে প্রভ‚ত ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ঠিক একইভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা প্লাস্টিকের বোতল থেকে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াই আসল কীটনাশক বের করে বোতলের মধ্যে ভেজাল মিশিয়ে বাজারজাত করে থাকে। এসব কীটনাশক ফসলে ছিটানো হলে কোনো উপকার পায় না কৃষক। টাকা খরচ করে তারা উৎপাদনে মার খায়।
এবার আসি মানুষের জীবন রক্ষাকারী ওষুধের কথায়। মাঝে মধ্যে পত্রিকার পাতায় দেখা যায় যে নকল ওষুধ প্রস্তুতের সময় হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় প্রতারককে। এই প্রতারকরা নামীদামি কোম্পানির ওষুধ নকল করে নিজেরই মোড়ক তৈরি করে বাজারজাত করে থাকে। ধরা পড়ার আগে তারা অসংখ্য রোগীর সর্বনাশ করে ফেলে। এসব প্রতারক আমাদের জাতির একটি অংশ। এক-এগারো সরকারে সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধের মান নির্ণয়ে একটি পরীক্ষামূলক তদন্ত কমিটি গঠন করে ওষুধের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল যে দুই-একটি কোম্পানির ওষুধ মানসম্পন্ন, অধিকাংশ কোম্পানির ওষুধ মানসম্পন্ন নয়। অর্থাৎ উপাদানগুলো যথাযথ পরিমাণে নেই। তাহলে চিন্তা করে দেখুন মানুষের জীবন-মরণ যেই ওষুধের সাথে জড়িত সেই ওষুধ মানসম্পন্ন নয়, তাহলে জাতি হিসেবে আমরা কেমন? ভেজাল খাদ্য ও ভেজাল ওষুধের প্রভাবে দেশে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন রোগের জন্ম নিচ্ছে এবং দেশে ক্লিনিক, ডায়াগনোস্টিক সেন্টার, হাসপাতালের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। চিকিৎসা করতে আমাদের আয়ের বড় অংশ ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। বিদেশে যাচ্ছে প্রচুর পরিমাণ টাকা চিকিৎসা বাবদ। অর্থাৎ আমরা রুগ্ণ জাতিতে পরিণত হচ্ছি।
সরকারি চাকরিজীবীদের কথা আর নতুন করে কী বলব। নিয়মিত বেতনের ওপর ঘুষ না পেলে কোনো ফাইল নড়ে না এটা সবাই জানেন। সরকারি কেনাকাটা এবং ঠিকাদারিতে যে কী রকম অর্থের লোপাট হয় তা মাঝে মধ্যে পত্রিকার পাতায় দেখা যায়। রাস্তা নির্মাণে অর্থের লোপাট হলেও রাস্তা টেকসই হয় না। রাস্তার এই মাথা রিপেয়ার করে অপর মাথায় যাওয়ার আগেই পূর্বের কাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে অথচ এসব কাজে সরকার বরাদ্দ দিতে কোনো রকম কার্পণ্য করে না। নদীভাঙন রোধ এবং বন্যা প্রতিরোধের জন্য সরকার প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করে থাকে। প্রতি বছর বন্যায় জনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নদীর পাড় অব্যাহতভাবে ভেঙেই যায়। অপর দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বাড়ি গাড়ির অভাব নেই। নদীর করাল গ্রাসে হাজার হাজার বাড়িঘর ফসলি জমি খেত খামার নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আর কর্মকর্তাদের নতুন নতুন ফ্ল্যাট গজিয়ে ওঠে রাজধানীর বুকে। উঁচু বহুতল ভবন, বাড়ি, বাঁধ, ব্রিজ কালভার্ট, সেতু নির্মাণে স্টিলের রড ব্যবহার করা অত্যাবশ্যক। পত্রিকায় দেখলাম স্টিল মিলে এখন ভেজালযুক্ত রড তৈরি হচ্ছে যা ভবিষ্যতের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।
তিতাস গ্যাস, বিদ্যুৎ, ভ‚মি অফিস, শিক্ষা অফিস, ব্যাংক বীমা, স্থানীয় সরকার বিভাগ, হাসপাতাল, স্বাস্থ্য বিভাগ, রেল মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহনসহ এমন কোনো বিভাগ ও মন্ত্রণালয় নেই যেখানে সরকারি অর্থের লোপাট হয় না। দেশকে সুরক্ষার জন্য দেশের সীমান্তে বেতনভুক বিজিবি যোদ্ধা রেখেছি দেশকে পাহারা দেয়ার জন্য। এই বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছে আমাদের গর্বিত সেনাবাহিনীর চৌকস মেধাবী অফিসার। এসব অফিসার ও বিজিবির পাহারার মধ্য দিয়ে দেশের মধ্যে প্রতিনিয়ত ঢুকছে অবৈধভাবে মাদক, ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ মারাত্মক রকমের নেশাজাত দ্রব্য। এগুলোকে ধরার জন্য আছে দেশের মধ্যে চৌকস পুলিশ বাহিনী। এসব নেশাদ্রব্য সেবনের ফলে যুবসমাজ ধ্বংস হচ্ছে, জলজ্যান্ত সংসার ধ্বংস হচ্ছে, হাজার হাজার কোটি টাকা দেশের বাইরে যাচ্ছে। তা হলে কথা দাঁড়ালো ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবে লাভের জন্য, হবে দেশের সেবা এবং জনগণ হবে উপকৃত। এই মহান দেশসেবা কোনো পক্ষ থেকেই হচ্ছে না। তাহলে আমরা দোষ দিবো কাকে?
ধনসম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করতে আল্লাহ নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন পরস্পরের সম্মতি ও স্বচ্ছতার সাথে ধনসম্পদ আদান-প্রদান ও শ্রমের বিনিময় হবে। সেখানে থাকবে না প্রতারণা, জালিয়াতি, আত্মস্যাৎ, চুরি, ডাকাতি ইত্যাদি। এমন করে আমরা নিজেদেরকে নিজেরা হত্যা করছি। ভেজালযুক্ত খাবার, ভেজালযুক্ত ওষুধ প্রয়োগ, ভেজাল পণ্যদ্রব্য ব্যবহারে আমাদের জীবনপ্রদীপ মৃত্যুর দিকে অকালে এগিয়ে যাচ্ছে। জুলুম করা ঘুষের প্রভাব আমাদেরকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা যদি নিজেরাই নিজেদেরকে ধ্বংস করি তাহলে কে আমাদের বাঁচাতে আসবে? তাই মৃত্যুই অনিবার্য। বাঁচতে হলে নিজেদের মধ্যে ইচ্ছাশক্তি ও প্রতিরোধশক্তি জাগিয়ে তুলতে হবে। মানুষের মধ্যে বিবেক জাগ্রত করতে হবে। শিশুকাল থেকে আমাদের সন্তানদের হালাল ও হারামের পার্থক্য বুঝিয়ে দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। পাঠ্যপুস্তক রচনায় এসবের প্রতিফলন থাকতে হবে। শিশুকে বাল্যকালেই শিখাতে হবে ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য। শিশুর মধ্যে জাগাতে হবে মনুষ্যত্ব, শিখাতে হবে মানুষকে, দেশকে, দেশের সম্পদকে ভালোবাসার প্রেরণা।
শিশুর মধ্যে আল্লাহকে ভালোবাসার প্রেরণা আল্লাহকে ভয় করার আচরণ, নবী সা:কে ভালোবাসার ও অনুসরণ করার প্রেরণা এবং সর্বোপরি আখেরাতের প্রতি দৃঢ়বিশ্বাস ও ভয় শিশুর মধ্যে জাগাতে হবে তাহলে আজকের শিশু আগামী দিনের সুনাগরিক তৈরি হবে। আমরা জাতি হিসেবে টিকে থাকতে চাই এবং আমাদের ভাগ্যের উন্নয়ন করতে চাই তাহলে অবশ্যই আমাদেরকেই চেষ্টা করতে হবে। আল্লাহ তায়ালা এই কথাটি কুরআনে স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন, ‘প্রত্যেক ব্যক্তির সামনে ও পেছনে তার নিযুক্ত পাহারাদার লেগে রয়েছে, যারা আল্লাহর হুকুমে তার দেখাশোনা করছে। আসলে আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো জাতির অবস্থা বদলান না যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের গুণাবলি বদলে ফেলে। আর আল্লাহ যখন কোনো জাতিকে দুর্ভাগ্য কবলিত করার ফয়সালা করে ফেলেন তখন কারো রদ করায় তা রদ হতে পারে না এবং আল্লাহর মোকাবেলায় এমন কোনো জাতির কোনো সহায় ও সাহায্যকারী হতে পারে না।’ (সূরা রাদ আয়াত : ১১)।
লেখক : শিক্ষক
