আজকের পত্রিকা

মাতামুহুরীর দুই রাবার ড্যাম সচল, সেচের আওতায় ৬০ হাজার একর জমি

মাতামুহুরীর দুই রাবার ড্যাম সচল, সেচের আওতায় ৬০ হাজার একর জমি
মাতামুহুরী নদীর ওপর নির্মিত দু’টি রাবার ড্যাম : নয়া দিগন্ত

রফিক আহমদ চকরিয়া (কক্সবাজার)

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী নদীর ওপর নির্মিত দু’টি রাবার ড্যাম অবশেষে সচল করা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের সাথে আসা পলিমাটিতে চাপা পড়ে ড্যাম দু’টি আংশিক অচল হয়ে পড়ায় বোরো মৌসুমের শুরুতে সেচ সঙ্কটের আশঙ্কায় পড়েছিলেন কয়েক হাজার কৃষক। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ পলিমাটি অপসারণ করে ড্যাম দু’টিতে মিঠা পানি প্রবেশ করিয়ে পুনরায় সচল করায় সেচের আওতায় এসেছে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার একর জমি।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে চিরিঙ্গা ইউনিয়নের পালাকাটা রামপুর ও কোনাখালী ইউনিয়নের বাঘগুজারা পয়েন্টের রাবার ড্যাম দু’টি সচল হওয়ায় মাতামুহুরী নদী ও এর শাখা-প্রশাখায় মিঠা পানির প্রবাহ বেড়েছে। এতে বোরো ধান ও বিভিন্ন সবজি চাষে সেচ সঙ্কট কেটে গিয়ে কৃষকরা পুরোদমে মাঠে নেমেছেন।

পাউবো সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৩ সালে চকরিয়াকে সেচ সুবিধার আওতায় আনতে মাতামুহুরী নদীতে অস্থায়ী ক্রসবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে অস্থায়ী মাটির বাঁধ দিয়ে পানি আটকে কৃষকরা বোরো ও সবজি চাষ করতেন। পরবর্তী সময়ে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ২০০৯ সালে মাতামুহুরী সেচ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে পালাকাটা রামপুর ও বাঘগুজারা পয়েন্টে দু’টি রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হয়। তখন থেকে প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে ড্যাম ফুলিয়ে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

চকরিয়া পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান জানান, পালাকাটা রামপুর পয়েন্টের রাবার ড্যামটি গত ২২ ডিসেম্বর সফলভাবে ফোলানো হয়। বাঘগুজারা পয়েন্টে পলিমাটি অপসারণ শেষে ১৮ ডিসেম্বর থেকে কাজ শুরু করে ২৪ ডিসেম্বর ড্যামটি পুরোপুরি সচল করা হয়। বর্তমানে নদীতে মিঠা পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রয়েছে। চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন, সময়মতো ড্যাম দু’টি সচল হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে সেচ সঙ্কটের শঙ্কা কেটে গেছে। সেচ পাম্পের মাধ্যমে দুই উপজেলার অন্তত ৬০ হাজার একর জমিতে নির্বিঘেœ বোরো ও রবি ফসল চাষ সম্ভব হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার জানান, বাঘগুজারা ড্যামটি পলিমাটিতে চাপা পড়ায় তা দ্রুত পরিদর্শন করে পাউবোর সাথে সমন্বয় করে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হয়। ফলে সময়মতো ড্যাম সচল হওয়ায় কৃষকদের উদ্বেগ দূর হয়েছে।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও ড্যামগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই সম্পর্কিত আরও

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাত মিনিটে এক মাইল দৌড়াতে হবে

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ডিআরইউ গেমসের পুরস্কার বিতরণ

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পিএসজির প্রথম জয়

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঝিলি-বর্ষার লক্ষ্য মূল জাতীয় দল

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইউএস ওপেনের নতুন চ্যাম্পিয়ন জভেরেভ