আজকের পত্রিকা

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি

লোকসান গুনছেন চৌগাছার পেঁয়াজ চাষিরা

লোকসান গুনছেন চৌগাছার পেঁয়াজ চাষিরা
চৌগাছায় পেঁয়াজের ক্ষেতে কাজ করছেন কৃষকরা : নয়া দিগন্ত

যশোরের চৌগাছায় পেঁয়াজ চাষ করে উৎপাদন খরচই উঠছে না কৃষকদের। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় পেঁয়াজ চাষিরা লোকসান গুনছেন। বাজারে হঠাৎ দরপতনের কারণে বিঘাপ্রতি গড়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা। কয়েক মাস ধরে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেশি থাকায় লাভের আশায় এ উপজেলার প্রান্তিক কৃষকেরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেন। কিন্তু নতুন পেঁয়াজ ওঠার সাথে সাথেই বাজারে দাম আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারা।

চাষিরা জানান, সারা বছর পেঁয়াজের দাম বেশি থাকলেও যখন কৃষকেরা পেঁয়াজ চাষে গুরুত্ব দিতে শুরু করলেন, ঠিক তখনই বাজার ধসে পড়ে। তাদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ, কিন্তু ন্যায্য দাম না পাওয়ায় লোকসান অনিবার্য হয়ে উঠেছে। কৃষকেরা মনে করছেন, সরকার যদি পেঁয়াজ সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আগামী মৌসুমে অনেকেই এই ফসল চাষে আগ্রহ হারাবেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য কর্মকর্তা বাদশা ফয়সাল জানান, চলতি মৌসুমে চৌগাছায় পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৮০ হেক্টর। তবে এ বছর লালতীর কিং তাহেরপুরি ও স্থানীয় জাত মিলিয়ে প্রায় ৩২০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মুড়িকাটা পেঁয়াজ প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ অল্প কিছুদিন আগেও এই পেঁয়াজের দাম ছিল কেজিতে প্রায় ১৫০ টাকা। খুচরা বাজারে দাম ৩০-৩৫ টাকা এবং পাইকারি বাজারে ২৫-৩০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে।

খুচরা ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, সাধারণত পাইকারি ও খুচরা দামের পার্থক্য ৫ থেকে ১০ টাকা থাকে। কিন্তু এখন সেই ব্যবধান বেড়ে ১৫ থেকে ২০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। পাতিবিলা গ্রামের কৃষক আজাদ হোসেন বলেন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বাজারমূল্যের অস্থিরতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যই লোকসানের প্রধান কারণ। জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষে যে টাকা খরচ হয়েছে, তার অর্ধেক দামেও পেঁয়াজ বিক্রি করা যাচ্ছে না।

ইছাপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান ও আব্দুস সামাদ জানান, চলতি বছরে দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করে তারা ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা খরচ করেছেন প্রতি বিঘায়। ফলন ভালো হলেও বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করে প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। চৌগাছা বড় বাজারের আড়তদার আজিজুর রহমান বলেন, মৌসুমে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন করা জরুরি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসাব্বির হুসাইন বলেন, এয়ারফ্লো মেশিন বা স্থানীয় পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করলে কৃষকেরা তুলনামূলক ভালো লাভ পেতে পারেন।

এই সম্পর্কিত আরও

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাত মিনিটে এক মাইল দৌড়াতে হবে

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ডিআরইউ গেমসের পুরস্কার বিতরণ

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পিএসজির প্রথম জয়

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঝিলি-বর্ষার লক্ষ্য মূল জাতীয় দল

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইউএস ওপেনের নতুন চ্যাম্পিয়ন জভেরেভ