এস এম মিন্টু কক্সবাজার থেকে

মিয়ানমার থেকে আসা মাদকের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযানে নামছে যৌথবাহিনী। দেশে মাদকের বিস্তার ও সেবন অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় সরকার এই পরিকল্পনা নিয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় সেনাবাহিনী-বিজিবি দিয়ে যৌথভাবে ব্যাপকভাবে এই অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবা ও আইসসহ অন্যান্য মাদক সেবন ও কেনাবেচা রাজধানীসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে খুনোখুনি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজি ও চুরিসহ নানা অপরাধ।

এ দিকে গতকাল বুধবার সকালে কক্সবাজারে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মাদকের চালান ধ্বংসের ঘটনা।

বিজিবি কক্সবাজার রিজিয়ন সদর দফতরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: মফিজুর রহমান বলেন, আমাদের (বিজিবি) কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের আওতাধীন ব্যাটালিয়নগুলোর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তে পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে জব্দকৃত রেকর্ড প্রায় এক হাজার ৩২২ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে।

Drug-Coxs-Bazar

গতকাল সকালে বিজিবির রামু সেক্টরের ব্যবস্থাপনায় কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) প্রশিক্ষণ মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে ২ কোটি ৩৩ হাজার ৯৪৯ পিস ইয়াবা, ১৪০ কেজি ৪৯ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ২৬ কেজি হেরোইন, ৪ কেজি ৪০৫ গ্রাম কোকেন, ৫২ কেজি ৮০০ গ্রাম গাঁজা, ৪ কেজি আফিম, ৬১ হাজার ৪৯১ ক্যান বিয়ার, ২২ হাজার ১৫৫ বোতল বিভিন্ন প্রকার মদ, ২ বোতল হুইস্কি, ১ হাজার ৭৯৯ লিটার বাংলা মদ, ১৬৯ বোতল ফেন্সিডিল, ১৯২ ক্যান কমান্ডো এনার্জি ড্রিংক, ৫৪০ কৌটা বার্মিজ জর্দা, ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৬৪২ প্যাকেট সিগারেট এবং ৮০০ পিস ট্যাবলেট (টার্গেট) ধ্বংস করা হয়।

বিজিবি কর্মকর্তারা বলেন, গত বছর কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের আওতাধীন বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন সীমান্ত এলাকাসহ অন্যান্য স্থানে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ৬৯৩ জন আসামিসহ সর্বমোট ২ হাজার ২১৬ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্যে ৮৯৫ কোটি ৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকার মাদকসহ আটককৃত ২ হাজার ৬৯৩ জনকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ১ হাজার ৩২১ কোটি ৯০ লাখ ৫৯ হাজার ১১৬ টাকার মাদকদ্রব্য গতকাল ধ্বংস করা হয়।

এ সময় বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আকছার খান, বিজিবি রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ, র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল হাসান, কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার সাইফুদ্দিন শাহীন এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহীদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

বিজিবির রিজিয়ন কমান্ডার বলেন, মাদক বাংলাদেশের সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি নীরব ঘাতক। মাদক নামক এই ঘাতক নির্মূলে বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তে বিশেষ করে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), হেরোইন, গাঁজা ও অন্যান্য মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। সাম্প্রতিককালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কক্সবাজার পরিদর্শনে এসে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার নির্দেশনা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়নের আওতাধীন বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন মাদকবিরোধী অভিযানে বিশেষ সাফল্য অর্জন করেছে। বিজিবি মহাপরিচালকের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও কার্যকরী সিদ্ধান্ত এসব কার্যক্রমকে আরো বেগবান করেছে।

দেশে এখন মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা ৮৩ লাখ। তাদের বেশির ভাগ পুরুষ। নারী ও শিশুদের মধ্যেও মাদকাসক্তি রয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের (ডিএনসি) এক সমীক্ষায় মাদকাসক্ত জনসংখ্যার এই প্রাক্কলন করা হয়েছে। এ ধরনের সমীক্ষা এই প্রথম করেছে ডিএনসি। এর আগে ২০১৮ সালে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট একটি সমীক্ষা করেছিল, সেখানে মাদকাসক্ত মানুষের সংখ্যা পাওয়া গিয়েছিল ৩৬ লাখ।