আজকের পত্রিকা

সচিবালয়ের নিরাপত্তা বাড়াতে নানা উদ্যোগ

ঢেলে সাজানো হচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনী

সচিবালয়ের নিরাপত্তা বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ন্য ঢেলে সাজানো হচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীকে। এ লক্ষ্যে সচিবালয়ে বর্তমানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বড় ধরনের রদবদল আসছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিদ্র করা এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কেন্দ্রের সংবেদনশীল তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি এড়াতে সচিবালয়ের নিরাপত্তায় বড় ধরনের রদবদল ও সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন অনিয়ম, গাফিলতি বা অদক্ষতার দায়ে চিহ্নিত অন্তত শতাধিক পুলিশ সদস্যকে বদলি করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ‘গানম্যান’ ও গেটের নিরাপত্তায় থাকা এই সদস্যদের তালিকা চূড়ান্ত করে ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দফতর ও ডিএমপি কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন পদায়নের ক্ষেত্রে দক্ষ, চৌকস ও সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্সপ্রাপ্ত (গোয়েন্দা ছাড়পত্র) সদস্যদের অগ্রাধিকার দিতে নির্দেশনা প্রদান কাছে পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন পদায়নের ক্ষেত্রে দক্ষ, চৌকস ও সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্সপ্রাপ্ত (গোয়েন্দা ছাড়পত্র) সদস্যদের অগ্রাধিকার দিতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনে অফিস করায় সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এ দিকে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে সচিবালয়ে অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং অবৈধ পণ্য বা বিপজ্জনক যন্ত্র নিয়ে প্রবেশ ঠেকাতে সচিবালয়ের পুরো নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামোয় ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় সচিবালয়ে প্রবেশকারী যানবাহনে মাদক ও অস্ত্র শনাক্তে উন্নতমানের স্ক্যানিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। একই সাথে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বসানো হবে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ভিত্তিক আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা, যা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণে সহায়তা করবে।

নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে সচিবালয়ে প্রবেশের পাস ব্যবস্থাতেও আনা হচ্ছে বড় পরিবর্তন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দর্শনার্থীদের জন্য ইস্যু করা পাস নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কার্যকর থাকবে। ফলে একজন কর্মকর্তা প্রয়োজন অনুযায়ী কেবল কয়েক ঘণ্টার জন্য কোনো দর্শনার্থীকে পাস দিতে পারবেন। এতে সচিবালয়ে অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ কমার পাশাপাশি নিরাপত্তা নজরদারি আরো অনেক বেশি কার্যকর হবে।

সূত্র জানায়, সচিবালয়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত শতাধিক পুলিশ সদস্যকে বদলির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গেট ও বিভাগীয় নিরাপত্তা এবং পদস্থ কর্মকর্তাদের ‘গানম্যান’ হিসেবে নিয়োজিত এই সদস্যদের তালিকা চূড়ান্ত করে ব্যবস্থা নিতে ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পুরো নিরাপত্তাব্যবস্থাকে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ভিত্তিক আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা ও উন্নত স্ক্যানিং প্রযুক্তির মাধ্যমে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে নিয়োগ পাওয়া এবং বিভিন্ন অনিয়মের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তত ১৬৯ জন পুলিশ সদস্যকে একযোগে বদলির প্রক্রিয়া চলছে। সচিবালয়ের বিভিন্ন গেট, মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নিরাপত্তা দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্য এবং সিনিয়র কর্মকর্তাদের ‘গানম্যান’ হিসেবে কর্মরতদের মধ্য থেকেই মূলত বাছাই করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে কনস্টেবল, নায়েক, এএসআই, এসআই ও ইন্সপেক্টর পদের কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়মিত রদবদল একটি স্বাভাবিক এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত প্রক্রিয়া। দীর্ঘ সময় একই স্থানে দায়িত্ব পালন করলে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের সাথে বিভিন্ন ব্যক্তি বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত যোগাযোগ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা পরবর্তীতে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস কিংবা নিরাপত্তা দুর্বলতার কারণ হতে পারে।

বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলো সচিবালয় থেকেই পরিচালিত হওয়ায়, এখানে নিয়োজিত নিরাপত্তা সদস্যদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এটি সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিবর্তনের অংশ হিসেবে বদলি করা হচ্ছে। এক জায়গায় কারো পাঁচ-ছয় বছর বা তার অধিক সময় থাকার সুযোগ নেই। বদলি বা পদোন্নতি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। যাদের বদলি করা হবে ইতোমধ্যে তাদের তথ্য ডিএমপি কমিশনার ও আইজিপি বরাবর পুলিশ সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে। তাদের যোগদানের তারিখ এবং সার্ভিস রেকর্ড যাচাই-বাছাই করেই এই সুপারিশ করা হয়েছে। পুলিশ সদর দফতর বা ডিএমপি কর্তৃপক্ষ এগুলো বিবেচনায় নিয়ে দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সূত্র জানায়, নতুন পদায়নের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ‘সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স’ বা গোয়েন্দা ছাড়পত্র এবং কারিগরি দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত সচিবালয়ে অফিস করায় এবং রাষ্ট্রীয় নীতিগত সিদ্ধান্তগুলোর গোপনীয়তা বজায় রাখতে এই পরিবর্তন কার্যকর করা হচ্ছে।

এই সম্পর্কিত আরও

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাত মিনিটে এক মাইল দৌড়াতে হবে

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ডিআরইউ গেমসের পুরস্কার বিতরণ

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পিএসজির প্রথম জয়

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঝিলি-বর্ষার লক্ষ্য মূল জাতীয় দল

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইউএস ওপেনের নতুন চ্যাম্পিয়ন জভেরেভ