আজকের পত্রিকা

১০ বছর প্রধানমন্ত্রী, রাজি বিএনপি

১০ বছর প্রধানমন্ত্রী, রাজি বিএনপি
প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখছেন অধ্যাপক আলী রিয়াজ · নয়া দিগন্ত

আল্লাহতে বিশ্বাস ও বিসমিল্লাহ চায় জামায়াত-এনসিপি

বিএনপি শর্ত দিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের জন্য এনসিসি বা সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ নিয়োগ কমিটি বা এ ধরনের সাংবিধানিক আইন থাকতে পারবে না।

এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকতে পারবেন, শেষ পর্যন্ত এই প্রস্তাবে একমত পোষণ করেছে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। তবে শর্ত দিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের জন্য এনসিসি বা সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ নিয়োগ কমিটি বা এ ধরনের সাংবিধানিক আইন থাকতে পারবে না।

গতকাল বুধবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সংলাপ শেষে এমন কথা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টি, গণ অধিকার পরিষদসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই শর্তহীনভাবে প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছরের প্রস্তাবে আগের মতোই একমত পোষণ করেছেন।

গতকালের সংলাপে জাতীয় নাগরিক কাউন্সিলের (এনসিসি) পরিবর্তে ‘সংবিধান ও সংবিধিবদ্ধ নিয়োগ কমিটির প্রস্তাব করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, যাতে উল্লেখ করা হয়, এই কমিটির মাধ্যমে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যেমন নির্বাচন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) নিয়োগ করা হবে। এই কমিটির সদস্য হবেন সাতজন। তারা হলেন- প্রধানমন্ত্রী, নিম্নকক্ষের স্পিকার, উচ্চ কক্ষের স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, প্রধান বিরোধীদল ব্যতীত অন্যান্য বিরোধীদল থেকে একজন, রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি (আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত) ও প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি। অধিকাংশ রাজনৈতিক দল জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এই প্রস্তাবে রাজি থাকলেও বিএনপি ও তাদের সমমনা কয়েকটি দল এর প্রয়োজনীয়তা নেই বলে জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নিয়ে শর্তসাপেক্ষে একমত বিএনপি : জীবদ্দশায় একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রীর পদে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে বিএনপি একমত জানিয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিলের (এনসিসি) মতো আর কোনো বডি নির্বাহী ক্ষমতার কর্মকাণ্ডে বাধাগ্রস্ত করে বা ইন্টার ফেয়ার করে এমন ব্যবস্থা থাকলে আমরা সে প্রস্তাবটা গ্রহণ করবো না।

তিনি বলেন, এনসিসির মতো ব্যবস্থা থাকলে আমরা আগের অবস্থায় থাকবো (প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদে ১০ বছর মানবো না)। বলা যায়, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের ক্ষেত্রে বিষয়টা এখনো আমরা ঐকমত্যে পৌঁছতে পারিনি, এটি পেন্ডিং রয়ে গেলো।

গতকাল বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

বিএনপির এ স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, আজকের আলোচনার প্রথম বিষয় সংবিধানের মূলনীতি, দ্বিতীয় বিষয় সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ কমিটি (আগে যেটা এনসিসি ছিল) এবং তৃতীয় বিষয় হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী মেয়াদ সংক্রান্ত।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি প্রশ্নে সংশোধিত প্রস্তাব হলো- সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, গণতন্ত্র এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি উল্লিখিত হবে। এটি তারা করবে যারা জনগণের ম্যান্ডেট পাবে। আমরা বলেছি, রাষ্ট্রীয় মূলনীতির সঙ্গে পঞ্চম সংশোধনীতে যে আর্টিকেলগুলো ছিল সেগুলো সংযোজন করবো এবং সংস্কার কমিশনের উপরোক্ত বাক্যগুলো আমরা সংযোজন করবো। তবে এ বিষয়টাতে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এটা পেন্ডিং রয়ে গেছে।

তিনি বলেন, এনসিসির পরিবর্তে সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ কমিটি প্রস্তাব করেছে ঐকমত্য কমিশন। সেটি হলো- সদস্যরা (প্রস্তাবিত) প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার (নিম্নকক্ষ), স্পিকার (উচ্চকক্ষ), বিরোধী দলীয় নেতা, প্রধান বিরোধী দল ছাড়া অন্য বিরোধী দলগুলোর একজন প্রতিনিধি, রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি (আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন), প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি। এতে সাতজন দাঁড়ায়। আগে দুইটি বিষয়ে বাদ দিয়েছে সেটি হলো তিন বাহিনীর প্রধান ও অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ এ কমিটির আওতাভুক্ত থাকবে না।

দ্বিমত পোষণ করে তিনি বলেন, সংবিধানের নতুন একটা বডি চাচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব সাংবিধানিক পুরুষের জন্য নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন রয়েছে; তার মধ্যে সংস্কার করা হোক। আর ওইখানে সার্চ কমিটি গঠন করে দেয়া হোক। নির্বাহী আদেশের মধ্যদিয়ে সেই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে আইনে নিয়োগের ব্যবস্থা থাকবে। সেসব প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার জন্য আইন থাকবে।

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। সে বিধানগুলো এখানে সংযুক্ত করতে হবে। সেই আইনগুলো আমরা যদি মানসম্মত করি, সার্চ কমিটিকে যদি সেভাবে নির্ধারণ করি, আইনগুলো সেভাবে প্রণয়ন করতে পারি। এভাবেই রাষ্ট্রের মধ্যে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স হবে।

বিএনপির এ নীতিনির্ধারক বলেন, কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন যদি স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, মুক্ত গণমাধ্যম যদি নিশ্চিত করতে পারি, দুদকসহ অন্যান্য যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেগুলো যদি আমরা স্বচ্ছ করতে পারি। এগুলোই গণতন্ত্র রক্ষার কবচ হিসেবে কাজ করবে। এগুলো না করে শুধু নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা কমালে সুষ্ঠু রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব হয় না।

আল্লাহতে আস্থা ও বিসমিল্লাহ সংযোজনের প্রস্তাব জামায়াতের : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, বেশির ভাগ দলই রাষ্ট্রের মূলনীতিতে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ এবং ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজনের পক্ষে এবং সংশোধিত এনসিসি গঠনে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

গতকাল রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের সংলাপের ষষ্ঠ দিনের প্রথম পর্বে রাষ্ট্রের মূলনীতি ও জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠন কাঠামো নিয়ে সংলাপ শেষে ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন। সভায় ডা: তাহেরের সাথে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও ড. হামিদুর রহমান আযাদ উপস্থিত ছিলেন।

ডা: তাহের বলেন, রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও ধর্মীয় স্বাধীনতা এই চারটি বিষয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। সিপিবি ও দু-একটি বাম দল ছাড়া প্রায় সব দলই এ বিষয়ে একমত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়ায়, জনগণের অনুভূতিকে সম্মান জানিয়ে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ এবং ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন অপরিহার্য। যদিও এটি চূড়ান্ত হয়নি, তবে হাউজের অধিকাংশের মত এর পক্ষেই।

ডা: তাহের বলেন, এনসিসি নিয়ে প্রাথমিক প্রস্তাবিত নামটি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। কমিশন এখন এর সংশোধিত নাম প্রস্তাব করেছে ‘সাংবিধানিক এবং সংবিধিবদ্ধকরণ সংস্থাগুলোর নিয়োগ কমিটি’। এই কমিটি নির্বাচন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, দুদক এবং পাবলিক অ্যাকাউন্টসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্থায় নিয়োগের বিষয়গুলো দেখভাল করবে।

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা খর্ব করার প্রসঙ্গে ডা: তাহের বলেন, এসব সংস্থায় আগেও প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে নিয়োগ হতো না, সার্চ কমিটির মাধ্যমে হতো। বর্তমান প্রস্তাবে একাধিক সার্চ কমিটির বদলে একটি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা খাটো হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

সংশোধিত এনসিসি কমিটিতে এখন প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা/নেত্রী, সংসদের বিরোধী দলের বাইরের অন্যান্য দলগুলোর প্রতিনিধি, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, প্রধান বিচারপতির প্রতিনিধি (সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতি) এবং রাষ্ট্রপতির একজন প্রতিনিধি থাকবেন। সংসদের স্পিকার এই কমিটির সভাপতিত্ব করবেন।

ডা: তাহের জানান, একটি দল ছাড়া প্রায় সবাই এই সংশোধিত কমিটি ও নামের সাথে একমত পোষণ করেছেন এবং জামায়াতে ইসলামীও এর সাথে সম্পূর্ণ একমত। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আজকের নৈরাজ্যের জন্য একক ক্ষমতা এবং অযোগ্য দলীয় লোকদের নিয়োগ দায়ী।

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মেয়াদ প্রসঙ্গে ডা: তাহের জানান, তিনটি দল ছাড়া প্রায় সব দলই প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ ১০ বছর (দু’টি মেয়াদ নয়) ক্ষমতায় থাকার পক্ষে একমত হয়েছে।

গতকালকের বৈঠকে রাষ্ট্রের মূলনীতি, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ (উচ্চকক্ষের নির্বাচন পদ্ধতি), জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠন কাঠামো, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি ও নারী প্রতিনিধিত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আগে যেটা ছিল যে, শেখ হাসিনা যাকে চেয়েছেন তাকেই দুদক চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাচন কমিশন বানাতেন। পরির্বতনের পক্ষে বেশির ভাগ দল। কিন্তু দেখা গেল যে, শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী নীতি কারো কারো পছন্দ, সেটা রেখে দিতে চায়। আজকে বিএনপি একটা প্যাকেজ প্রস্তাব দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর উনারা মানবেন, যদি সাংবিধানিক কমিটি না রাখা হয়। আমরা (এবি পার্টি) বলেছিলাম যে, আপনারা এটাতে সমর্থন দেন কারণ অধিকাংশ দল সমর্থন করেছে।

আমরা মনে করি, সমঝোতামূলক আলোচনা ছাড়া ঐকমত্যে পৌঁছানো যাবে না। আমরা যদি এত আলোচনার পরও ঐকমত্যে পৌঁছতে না পারি সেটা হবে দুঃখজনক। এক প্রশ্নের জবাবে মঞ্জু বলেন, যদি ঐকমত্যে পৌঁছতে না পারেন তাহলে সংবিধানের মূলনীতিতে এটাই লেখা হোক যে, আমরা এমন এক জাতি কোনো দিন ঐকমত্যে পৌঁছতে পারব না।’

গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, অধিকাংশ রাজনৈতিক দল সংবিধান ও সংবিধিবদ্ধ নিয়োগ কমিটির বিষয়ে একমত হয়েছে। তিনি কমিশনের প্রস্তাবের সাথে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগও এই কমিটির হাতে দেয়ার প্রস্তাব দেন।

তিনি বলেন, ‘এনসিসি বা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে কমিটি না থাকলে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছরে একমত’ বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল। আশা করছি হাউসের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে কমিশন আগামী রোববার ঐকমত্যে পৌঁছাবে।

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে ভিপি নুর বলেন, আজকে যদি ক্ষমতাকে কেন্দ্রকে সংস্কারের চিন্তা করা হয় তাহলে ভবিষ্যতে অনেকগুলো গণ অভ্যুত্থানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো গণ অভ্যুত্থানের প্রয়োজনীয়তা না হয় এবং ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত না হয়, সেজন্যই রাষ্ট্র কাঠামোকে একটা ভারসাম্যের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবের প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়ে বলেন, সংবিধান থেকে ৭২ এর মুজিববাদী মূলনীতি বাদ দিতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যে প্রেক্ষাপটে জীবন দেয়ার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন, সেই সংস্কার যদি বাস্তবায়ন সম্ভব না হয়, নতুন কাঠামো, নতুন গণতান্ত্রিক পদ্ধতি যদি জনগণের কাছে উপস্থাপন করতে না পারি, তাহলে গণ অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা ব্যর্থ হবে, সমস্ত ব্যর্থ হবে, তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যাতে রাষ্ট্রকাঠামো, রাষ্ট্রের ক্ষমতা যাতে এক ব্যক্তির কাছে সীমাবদ্ধ না থাকে এটা নিশ্চিত করতে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোকে ‘সংবিধান ও সংবিধিবদ্ধ নিয়োগ কমিটি’ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে আশাবাদী তিনি।

এদিকে গতকালের সংলাপ শেষে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ বলেন, কমিশনের দেয়া প্রস্তাবে প্রায় সব দলই মত দিয়েছে, এরপরও এর বিভিন্ন বিশদ প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি নিয়ে অধিকতর আলোচনা চলবে। তিনি জানান, আজকের আলোচনায় রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। যেহেতু সংবিধান এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে এখনো উপনীত হওয়া যায়নি, তাই প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। আলী রীয়াজ বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার বিদ্যমান মূলনীতি অটুট রাখার বিষয়ে কয়েকটি দল মত দিয়েছে, আবার কিছু দল ভিন্নমতও পোষণ করেছে। তাই এ বিষয়ে কোনো ঐকমত্য হয়নি। তবে সাম্য ও মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, গণতন্ত্র, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি এবং পক্ষপাতিত্বহীনতা- এ পাঁচ বিষয়ে অধিকাংশ দলের সমর্থন রয়েছে।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সাথেও আলোচনা করছি। আশা করি, এ অব্যাহত আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংশোধন-সংযোজনের মধ্য দিয়ে আমরা অভীষ্ট লক্ষ্যে অর্থাৎ একটি জাতীয় সনদে পৌঁছাতে পারব।

তিনি আরো বলেন, আলোচনায় ক্ষেত্র বিশেষে মতপার্থক্য থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃবৃন্দ কমিশনের বৈঠক ছাড়াও আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে পরস্পরের মধ্যে মতবিনিময় করছেন। এটি অবশ্যই সবার জন্য একটি ইতিবাচক বিষয়।

গতকাল ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাথে গতকালের আলোচনায় অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ, গণসংহতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি-সহ ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। দ্রুত ঐকমত্য গঠনের মধ্য দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রণয়নে আগামী রোববার রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আবারো আলোচনায় বসবে ঐকমত্য কমিশন।

এই সম্পর্কিত আরও

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সাত মিনিটে এক মাইল দৌড়াতে হবে

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ডিআরইউ গেমসের পুরস্কার বিতরণ

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

পিএসজির প্রথম জয়

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঝিলি-বর্ষার লক্ষ্য মূল জাতীয় দল

সোম, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইউএস ওপেনের নতুন চ্যাম্পিয়ন জভেরেভ