একজন আলেম দেশ ও জাতীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ। মূল্যবান সম্পদ হারিয়ে গেলে মানুষ যেমনি দিশেহারা হয়ে যায় ঠিক তেমনি কোনো আলেম চলে গেলে পুরো দেশ ও সমাজ দিশেহারা হয়ে যাবে। এসব আলেম-উলামা না থাকলে পৃথিবী ঠিক থাকবে না। পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে। পৃথিবীর সব মানুষ মনুষ্যত্ব ভুলে গিয়ে চতুষ্পদ জন্তুতে পরিণত হয়ে যাবে। তাই আলেম-উলামাদের মর্যাদা সর্বোচ্চ। তাই উলামায়ে কেরামরা হলেন মাতার তাজ। তাদেরকে সম্মান করা ঈমানি দায়িত্ব। তাদেরকে সম্মান করা মানে দ্বীন ইসলাম আর ধর্মকে সম্মান করা। আর ধর্মে সম্মান করা মানেই মহান আল্লাহ তায়ালাকে সম্মান করা। আর তাদের সাথে কোনো খারাপ আচরণ মানেই ধর্মবিদ্বেষীর পরিচয়।
বর্তমানে না জানার কারণে আলেমদের অনেক সময় অবজ্ঞা ও তাচ্ছিল্যের চোখে দেখা হয়। অথচ আলেমদের সম্মান আল্লাহর কাছে এত বেশি, আসমান ও দুনিয়ার সব মাখলুক আলেমদের জন্য দোয়া-মাগফিরাত কামনা করতে থাকে। নবীজী সা: বলেছেন, ‘আলেমদের ওপর স্বয়ং আল্লাহ ও তার ফেরেশতারা এবং আসমান ও জমিনের সব মাখলুক এমনকি পিঁপড়া আপন আপন গর্তে এবং মাছ পানির ভেতর আপন আপন পদ্ধতিতে রহমতের জন্য সর্বদা দোয়া করতে থাকে’ (তিরমিজি : ২৬৮৫)। আমরা অনেক সময় না বুঝে জাতির সঠিক পথ প্রদর্শনকারী আলেম-উলামাগণকে যা ইচ্ছে তা-ই বলে থাকি। কখনো বা তাদেরকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করি। এমনকি কোনো কোনো সময় তাদের সাথে আমরা বেয়াদবিমূলক আচরণ করতেও কুণ্ঠাবোধ করি না। আমরা যদি এসব গর্হিত কাজের পরিণাম ও পরিণতি সম্পর্কে সম্যক অবহিত হতাম তাহলে কখনোই আমাদের দ্বারা এমন ভয়ানক কাজ সম্ভব হতো না।
সূরা জুমার ৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যারা আলেম এবং যারা আলেম না; তারা কি সমান হতে পারে?’ কুরআনের অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘অন্ধ আর চক্ষুষ্মান কি সমান হতে পারে’ (সূরা রাদ : ১৬)? আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার এবং যারা জ্ঞানপ্রাপ্ত, আল্লøাহ তাদের উচ্চ মর্যাদা প্রদান করেন’ (সূরা মুজাদালাহ : ১১)।
আলেমরাই হচ্ছেন পৃথিবীর সর্বোত্তম মানুষ। এ সম্পর্কে রাসূল সা: বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে নিজে কুরআন শিখে এবং অন্যকে তা শিখায়’ (তিরমিজি : ২৯০৭)। উলামায়ে কেরাম হচ্ছেন পৃথিবীর বুকে হেদায়েতের বাতিস্বরূপ। এই হেদায়েতের বাতি যে দিন বন্ধ হয়ে যাবে, সে দিন পৃথিবী অজ্ঞতার আঁধারে নিমজ্জিত হয়ে যাবে। এ সম্পর্কে রাসূল সা: বলেছেন, ‘উলামাদের দৃষ্টান্ত ওইসব তারকার মতো যাদের দ্বারা স্থলে ও জলের অন্ধকারে পথের দিশা পাওয়া যায়। আর যখন তারকাসমূহ আলোহীন হয়ে যায় তখন পথচারীর পথ হারানোর সম্ভাবনা থাকে’ (মুসনাদে আহমদ-৩/১৫৭)।
উলামায়ে কেরাম পৃথিবীতে না থাকলে মানুষের পথভ্রষ্ট হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। আলেমরা হচ্ছেন উম্মতের হেদায়েতের আলোকবর্তিকা। একজন আলেমের মৃত্যু উম্মতের জন্য বিপর্যয়ের কারণ। কেননা, একজন আলেমের মৃত্যুতে উম্মতের জন্য যতটা দ্বীনি ব্যাপারে ক্ষতি হয় একটি গোত্রের সব মানুষ মৃত্যুবরণ করলেও সেই ক্ষতি হয় না। রাসূল সা: বলেছেন, ‘আলেমদের মৃত্যু এমন মুসিবত যার প্রতিকার নেই এবং এমন ক্ষতি যা পূরণ হয় না। আর আলেম এমন এক তারকা যে (তার মৃত্যুর কারণে যেন পৃথিবী) আলোহীন হয়ে যায়। একজন আলেমের মৃত্যু অপেক্ষা একটি গোত্রের মৃত্যু অতি নগণ্য’ (বায়হাকি : ২/২৬৪)।
সুতরাং আলেমরা দুনিয়াতে না থাকলে ইলমও দুনিয়াতে থাকবে না। কেননা, আলেমদের দুনিয়া থেকে উঠিয়ে নেয়ার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়া থেকে ইলম উঠিয়ে নেন। আর ইলম যদি দুনিয়াতে না থাকে তাহলে মানুষ হেদায়েতের পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গোমরাহের দিকে ধাবিত হয়। রাসূল সা: বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা (শেষ জামানায়) ইলমকে এভাবে উঠিয়ে নেবেন না যে, লোকদের অন্তর থেকে সম্পূর্ণ বের করে নেবেন বরং তিনি ইলমকে এভাবে উঠিয়ে নেবেন যে, এক এক করে উলামায়ে কেরামদের উঠিয়ে নেবেন। আর যখন কোনো আলেম দুনিয়াতে অবশিষ্ট থাকবে না তখন লোকেরা উলামাদের পরিবর্তে অজ্ঞ ও মূর্খ ব্যক্তিদের নেতা বানিয়ে নেবে’ (বুখারি-১০০)।
আলেমদের সমালোচনার পরিণতি : ইমাম হাফেজ আবুল কাসেম ইবনে আসাকির রহ: বলেন, হে ভাই জেনে রাখো, উলামায়ে কেরামের দোষ চর্চা করা বিষাক্ত জিনিস। আল্লাহ উলামায়ে কেরামের কুৎসা রটনাকারীকে লজ্জিত করেন (এটা কারো অজানা নয়)। যে ব্যক্তি উলামায়ে কেরামের সমালোচনা করবে আল্লøাহ তার মৃত্যুর আগে তার অন্তরকে মৃত বানিয়ে দেবেন (আত-তিবয়ান ফি আদাবে হামালাতিল কুরআন : ২৭-২৯)।
উলামায়ে কেরামের প্রতি অবজ্ঞা করা এবং তাদের সাথে উপহাস ও তাদের শানে বেআদবি করার প্রথম ফল হলো অন্তর মরে যাওয়া এবং এর সর্বশেষ পরিণাম অনেক ভয়াবহ। কেননা, অভিজ্ঞতার আলোকে এ কথা প্রমাণিত যে, যারা কুরআন-সুন্নাহ ও ইসলামের বিধিবিধানকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখে তাদের বেশির ভাগের সূচনা হয়েছে কুরআন-সুন্নাহর ধারক-বাহক উলামায়ে কেরামের সমালোচনা করা এবং অবজ্ঞা দিয়ে। কেননা, কুরআন-সুন্নাহর ধারক-বাহকদের নিয়ে হাসি-ঠাট্টা ও অবজ্ঞা করতে করতে তাদের অন্তর থেকে মূল কুরআন-সুন্নাহ ও ইসলামের প্রতি প্রকৃত মূল্যবোধ দূর হয়ে যায়। এভাবেই তারা ধীরে ধীরে সিরাতে মুস্তাকিম ও আবার কেউ একেবারে ইসলাম থেকেই সট্কে পড়ে। যেকোনো মুসলমানকে গালি দেয়া, বিদ্বেষী মনোভাব, ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করা নাজায়েজ ও ফাসেকি কাজ।
আলেমদের সাথে ব্যবহার
একজন আলেম দেশ ও জাতীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ। মূল্যবান সম্পদ হারিয়ে গেলে মানুষ যেমনি দিশেহারা হয়ে যায় ঠিক তেমনি কোনো আলেম চলে গেলে পুরো দেশ ও...



