ক্রিপ্টো মানে গোপন, আর কারেন্সি মানে মুদ্রা। সহজে বলতে গেলে গোপন মুদ্রা, যা ধরা যায় না, ছোঁয়াও যায় না। নেই কোনো নিজস্ব মূল্যমান। একে ডিজিটাল মুদ্রা, ভার্চুয়াল মুদ্রা বা অনলাইন কারেন্সিও বলা হয়। এর লেনদেনের জন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনও হয় না।
কিন্তু আমরা জানি একটা দেশের যে পরিমাণ মোট সম্পদ থাকবে তার সমপরিমাণ মুদ্রাও থাকবে। যদি তার চেয়ে কম বা বেশি মুদ্রা থাকে তাকে আমরা বলি মুদ্রাস্ফীতি। কিন্তু ক্রিপ্টোকারেন্সি এমন এক পদ্ধতি যেখানে দেশের মোট সম্পদের কোনো হিসাব না করে লাগামহীন ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিভিন্ন সংখ্যা পদ্ধতিতে মুদ্রা লেনদেন হবে। যা ভিত্তিহীন। ইসলামে কোনো ভিত্তিহীন অর্থ ব্যবস্থা সমর্থন করে না।
নবী সা: কর্তৃক গৃহীত ও বাস্তবায়িত মুদ্রা ছিল স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা। যা বাস্তবে ভিত্তি ছিল। কোনো কিছু যদি মুদ্রা হিসেবে প্রচলিত হতে হয় তাহলে তাকে প্রথমত, পণ্য ও সেবা পরিমাপের ভিত্তি হতে হবে অর্থাৎ, এটি দাম ও মজুরির নিরূপণকারী হতে হবে। দ্বিতীয়ত, একটি কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ প্রচলন করবে। যা দিনার ও দিরহাম প্রচলনের দায়ভার বহন করবে এবং এটি কোনো অজানা পক্ষ হতে পারবে না। তৃতীয়ত, মানুষের মাঝে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ও সহজলভ্য হতে হবে, শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ হলে চলবে না। এসব কিছু ক্রিপ্টোকারেন্সিতে নেই। তা ছাড়াও জুয়া, মাদক, অস্ত্র কেনাবেচা, অপহরণ কিংবা অর্থপাচার, বিটকয়েন এখন অপরাধীদের কাছে সবচেয়ে প্রিয়। গোপনীয়তার বেশি বলে।
সর্বশেষ এটা বলা যায়, এই ক্রিপ্টোকারেন্সি অর্থনীতি সিস্টেমে লাভবান হবে কিছু প্রভাবশালী দেশ। তারা পৃথিবীর অন্য সব দেশের মূল্যবান সম্পদ এই অদৃশ্য অর্থ দিয়ে তাদের দেশে নিয়ে যাবে।
শিক্ষার্থী, ফেনী সরকারি কলেজ,
বিভাগ-ব্যবস্থাপনা।