একজন নারী তার দাম্পত্যজীবন সূচনা করার আগ পর্যন্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকেন। দিন যত গড়াতে থাকে- বড় হতে থাকে, তার মধ্যে বয়সের পূর্ণতা আসতে থাকে। একদিন সে বিয়ের উপযুক্ত বয়সে উপনীত হয়। তখন তাকে নতুন এক জীবনের ভাবনা ভাবতে হয়। যে জীবন নিয়ে তার ভাবনার শেষ নেই। এ এক ভিন্ন জীবন!
যেখানে নতুন নতুন মানুষের দেখা পাবে, পুরনো মানুষের দূরত্ব বাড়বে। সে জীবন প্রতিটি নারীর জন্য অনেক বেশি কৌতূহলী হয়ে থাকে। যেখানে একজন স্বামী থাকবেন- যিনি তার সারা জীবনের কর্তা হবেন, সুখ শান্তির ঠিকানা হবেন। তাকে ঘিরে নারীর কল্পনা-জল্পনার শেষ কোথায়! কেমন হবে সে মানুষটি- তার আচার-আচরণ, কথাবার্তা, হাঁটাচলা সব কিছু নিয়ে রয়েছে নারীর যথেষ্ট কৌতূহল। এসব কৌতূহল নিয়ে নারীকে বিয়ের পীড়িতে বসতে হয়।
বিয়ের বেলায় একজন নারীর সামান্য মৌন সমর্থন থাকে মাত্র। সম্পূর্ণ সিদ্ধান্ত অভিভাবকরাই নিয়ে থাকেন। তারাই মেয়ের ভালো-মন্দ বিষয় যাচাই-বাছাই করে থাকেন। যে নারী তার অভিভাবকের সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে এক অচেনা অজানা মানুষের সাথে বিয়ে বসতে সম্মতি জানায়, সে নারীটি বিয়ের পর যখন তার স্বামী থেকে অবহেলা এবং তুচ্ছতাচ্ছিল্য দেখতে পায়- তখন আর তার দুঃখ-বেদনার শেষ থাকে না। সব কিছু চেয়ে চেয়ে দেখা ও সয়ে যাওয়া ছাড়া বিকল্প পথ থাকে না।
দাম্পত্যজীবনের সূচনা হয় দু’জন মানুষ দিয়ে। যেখানে একজন পুরুষ অপরজন নারী। এক নারী ও পুরুষের সমন্বয়ে গঠিত এক অভূতপূর্ব সংসার। যাকে আমরা দাম্পত্যজীবন বলে থাকি। দাম্পত্যজীবন সুখময় করতে নারীর পাশাপাশি পুরুষের যথেষ্ট সাপোর্টের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যেখানে উভয়ের সাপোর্টের মাধ্যমেই গড়ে উঠতে পারে এক সোনালি সংসার।
একজন নারী তার স্বামীর কাছে বেশি কিছু চাওয়া-পাওয়ার থাকে না; বরং তার চাহিদা খুবই নগণ্য! যেকোনো স্বামী চাইলেই তাদের সে চাহিদা পুরিয়ে দিতে পারেন। একজন আদর্শবান নারীর চাহিদা খুবই নগণ্য। তারা টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত নিয়ে তুষ্ট নন; বরং তারা স্বামীর ভালোবাসার সামান্য পরশ পেলে তাতেই খুশি। যে নারী তার জীবনের সব মায়ামমতা ভুলে গিয়ে স্বামীর কাছে নিজেকে সঁপে দেয়, সে নারীর সাথে কেবল অবাধ্য স্বামীরাই জুলুম করতে পারে! নাশুকরি করে তাদের ওপর জুলুম-নির্যাতনের মতো জঘন্য কাজে জড়াতে পারে!
এরপর দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয় শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে। যাদের সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি করার প্যারা সর্বদা নারীর মাথায় চেপে থাকে। জেঁকে বসে তাদের শাসনের ভয়!
কারো শ্বশুর-শাশুড়ি ভালো হওয়া অনেক বড় নিয়ামত। যা অনেক নারীর জীবনে জোটে না, সে নারীকে জীবনভর তার শ্বশুর-শাশুড়ির অব্যক্ত যন্ত্রণা বয়ে বেড়াতে হয়, অসহ্য চিৎকার সয়ে যেতে হয়। এভাবেই তাকে এক অগ্নিকুণ্ডের পরীক্ষায় ঝাঁপ দিতে হয়। আর যদি কোনো নারীর শ্বশুর-শাশুড়ি সচ্চরিত্রবান হয়- সে নারীর জীবনে অনাবিল সুখ-শান্তির অন্ত থাকে না। প্রতিটি নারীর বিয়ে-পরবর্তী সময়ে সুন্দর সুন্দর ইচ্ছে থাকে। কেউ কেউ তার দাম্পত্যজীবনে প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হয়। আবার কেউ হতাশার ঘোরে আচ্ছাদিত হয়।
স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে স্বপ্ন। স্বামীকে নিয়ে কিভাবে শান্তিতে থাকা যায়। সুখ-শান্তির অনাবিল হাওয়ায় বয়ে বেড়ানো যায়- সেই চিন্তাচেতনা তার মন মননে ছেয়ে থাকে। এভাবেই প্রতিটি নারীর দাম্পত্যজীবন সুখময় কিংবা দুঃখময় হয়। রাব্বে কারিম সব নারীর জীবন সুখময় করুন। আমিন, ইয়া রাব্বাল আলামিন।



