শিরক মানে আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলি সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসে যেসব বিশ্বাসের কথা বলা হয়েছে, সেসব বিশ্বাস মাখলুকের ব্যাপারে পোষণ করা। যেমন আল্লাহর জাত ও সত্তার সাথে কাউকে শরিক করাকে ইশরাক ফি জাতিল্লাহ বলে। আল্লাহর গুণাবলির সাথে কাউকে শরিক করাকে ইশরাক ফি সিফাতিল্লাহ বলে। আর আল্লাহর কুদরতের সাথে কাউকে শরিক করাকে ইশরাক ফি কুদরাতিল্লাহ বলা হয়।
সবচেয়ে বড় গুনাহ ও বড় অপরাধ হলো এই শিরক। কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তায়ালা শিরককে মহা অপরাধ বলে অবহিত করেছেন। ইরশাদ করেছেন- ‘(হে রাসূল!) আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি এ মর্মে ওহি নাজিল করা হয়েছে যে, আপনি যদি শিরক করেন, তাহলে অবশ্যই আপনার সব আমল পণ্ড হয়ে যাবে এবং আপনি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।’ (সূরা জুুমার-৭২) অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন- ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না, এ ছাড়া সব কিছু যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন এবং কেউ আল্লাহর সাথে শরিক করলে সে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হয়।’ (সূরা নিসা-১১৬)
রাসূল সা: ইরশাদ করেছেন, ‘যদি তোমাকে হত্যা করা হয় এবং জ্বালিয়েও দেয়া হয় তারপরও আল্লাহর সাথে তুমি কাউকে শরিক করবে না।’ (মুসনাদে আহমাদ-২২১২৮)
তাই মানুষ যত ভালোই হোক যত ভালো কাজই করুক কোনোভাবে যদি তার আমলের সাথে শিরকের মিশ্রণ ঘটে তাহলে তার সব আমলই বাতিল হয়ে যাবে। আল্লাহ তায়ালাকে যারা অস্বীকার করে, তারা নাস্তিক-জড়বাদী। যারা
আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করায়, তারা মুশরিক। আর যারা আল্লাহকে মানে এবং সব ক্ষেত্রে তাঁর একত্ববাদকে স্বীকার করে, তারা হলো প্রকৃত মু’মিন ও তাওহিদপন্থী। সুতরাং আমাদের কর্তব্য হলো আমরা যেমন আল্লাহকে বিশ্বাস করব তেমনি তাঁকে এক ও অদ্বিতীয় বলেও মনে-প্রাণে মেনে নেবো।
লেখক : শিক্ষার্থী, দারুস-সুন্নাহ মাদরাসা, টাঙ্গাইল