চাঁদ-সূর্য আল্লাহ তায়ালার এক আশ্চর্যকর সৃষ্টি। আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীকে সূর্যের আলো দিয়ে আবাদ করেছেন, করেছেন মানুষের বাসোপযোগী। সূর্যের আলো ছাড়া পুরো পৃথিবীই অন্ধকারে থাকত। আল্লাহ তায়ালা দিনে সূর্যের আলো দিলেন, রাতে দিলেন চাঁদের আলো।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের অসংখ্য জায়গায় বিভিন্নভাবে চাঁদ-সূর্যের বর্ণনা দিয়েছেন। যেমন ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ এমন, যিনি সূর্যকে দীপ্তিমান এবং চাঁদকে আলোকময় বানিয়েছেন এবং ওর (গতির) জন্য মনজিলগুলো নির্ধারিত করেছেন, যাতে তোমরা বছরগুলোর সংখ্যা ও হিসাব জানতে পার; আল্লাহ এসব বস্তু অযথা সৃষ্টি করেননি, তিনি এই প্রমাণগুলো বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন ওই সব লোকের জন্য যারা জ্ঞানবান। (সূরা ইউনুস-৫)
চন্দ্র-সূর্য সবকিছুই আল্লাহ নিয়ন্ত্রণ করেন এবং নির্দিষ্ট নিয়মে আল্লাহ এগুলোকে পরিচালনা করেন। ‘আল্লাহই ঊর্ধ্বদেশে আকাশমণ্ডলী স্থাপন করেছেন
স্তম্ভ ব্যতীত, তোমরা এটা দেখছ। অতঃপর তিনি আরশে সমাসীন হলেন এবং সূর্য ও চাঁদকে নিয়মাধীন করলেন; প্রত্যেকে নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত আবর্তন করে, তিনি সব বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন এবং নিদর্শনগুলো বিশদভাবে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা তোমাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ সম্বন্ধে নিশ্চিত বিশ্বাস করতে পার। (সূরা রাদ-২) ‘তিনি তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন সূর্য ও চাঁদকে, যারা অবিরাম একই নিয়মের অনুবর্তী এবং তোমাদের কল্যাণে নিয়োজিত করেছেন রাত ও দিনকে।’ (সূরা ইব্রাহিম-৩৩)
আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে চাঁদ-সূর্য তাদের নির্দিষ্ট কক্ষপথে আবর্তন করে। একটি অন্যটিকে অতিক্রম করে যায় না এবং আল্লাহ পর্যায়ক্রমে দিন-রাতের আগমন ঘটান। সূরা ইয়াসিনে আল্লাহ তায়ালা এ সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন, ‘এবং সূর্য ভ্রমণ করে ওর নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞের নিয়ন্ত্রণ এবং চন্দ্রের জন্য আমি নির্দিষ্ট করেছি বিভিন্ন মনজিল, অবশেষে ওটা শুষ্ক বক্র পুরাতন খেজুর শাখার আকার ধারণ করে। সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চাঁদের নাগাল পাওয়া এরং রাতের পক্ষে সম্ভব নয় দিনকে অতিক্রম করা; এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ কক্ষপথে সাঁতার কাটে।’ (সূরা ইয়াসিন : ৩৮-৪০)
সালাতের সময় নির্ধারণেও সূর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, সূর্য হেলে পড়ার পর থেকে রাতের ঘন অন্ধকার পর্যন্ত সালাত কায়েম করবে এবং কায়েম করবে ফাজরের কুরআন পাঠও। কারণ ভোরের কুরআন পাঠ সাক্ষীস্বরূপ। (সূরা ইসরা-৭৮)
চাঁদ-সূর্য আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির অন্যতম আশ্চর্যকর নিদর্শন। চাঁদ-সূর্যের দিকে আমরা যখন তাকাই তখন আমাদের মন বলে ওঠে চাঁদ-সূর্য আমার মহান রবের কতইনা আশ্চর্যকর সৃষ্টি!
লেখক : প্রাবন্ধিক, মিরসরাই, চট্টগ্রাম থেকে
চাঁদ-সূর্য
চাঁদ-সূর্য আল্লাহ তায়ালার এক আশ্চর্যকর সৃষ্টি। আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীকে সূর্যের আলো দিয়ে আবাদ করেছেন, করেছেন মানুষের বাসোপযোগী। সূর্যের আলো ছাড়া পুরো পৃথিবীই অন্ধকারে থাকত। আল্লাহ...



