ইউকিপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী পর্নোগ্রাফি হলো- যৌন উত্তেজনা ও উদ্দীপনা সৃষ্টির লক্ষ্যে যৌনবিষয়ক অঙ্কিত ছবি কিংবা সরাসরি যৌনবিষয়ক আলোচনাকে বোঝায়। বই, (গল্প, কবিতা, উপন্যাস, ম্যাগাজিন) অডিও-ভিডিওসহ অন্যান্য মাধ্যমে উপস্থাপিত হতে পারে পর্নোগ্রাফি, যা থেকে মানুষ সাময়িকভাবে উত্তেজিত হয়ে অবৈধ উপায়ে নিজেদের পবিত্র যৌবন কলুষিত করে। বর্তমান সময়ের যুবক-যুবতীরা অবলীলায় বিভিন্ন প্রলোভনে পড়ে অনায়াসেই নিজেদের যৌবন ধ্বংস করে দিচ্ছে। যাকে আল্লাহ তায়ালা সীমালঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করেছেন। (সূরা মু’মিনুন : ৬)
যৌবনকে স্বীয় স্ত্রী ব্যতীত ভিন্ন পদ্ধতিতে নষ্ট করে সাময়িকভাবে পুলকিত হওয়া, মনের মধ্যে অবৈধ কল্পনা-জল্পনা করে নিজেকে গুনাহের সাগরে ডুবিয়ে রাখার মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই। যে হৃদয়ে থাকবে আল্লাহ-রাসূলের কথা, কুরআন-হাদিসের অমিয় সুধা, সেখানে যদি তার পরিবর্তে স্থান করে নেয়, হারাম দৃশ্যাবলি ও অবৈধ কল্পনা-জল্পনা; তবে কি আমরা এর মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে সন্তুষ্ট করতে পারব? রবকে সন্তুষ্ট করতে হলে অবশ্যই আমাদের তাঁর বিধান মতো চলতে হবে। তাঁর বিধান হলো, ‘আমাদের যৌবনকে বৈধ পন্থা উপেক্ষা করে অবৈধ উপায়ে অপব্যবহার না করা।
পর্নোগ্রাফি কেবল পরকালীন জীবনের জন্যই ক্ষতিকর নয়; বরং এর বিষবাষ্প ইহলৌকিক জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে জড়িয়ে রয়েছে। পর্নোগ্রাফি আসক্তরা কখনোই প্রশান্তি পায় না। তারা সর্বদা অস্থিরতার রাজ্যে হাবুডুবু খেতে থাকে। সব মা-বোনকে ভিন্ন চোখে মাপতে থাকে। শরীরের মাঝে জন্মগত শক্তি ধীরে ধীরে লোপ পেতে থাকে। পর্নোগ্রাফির সাথে এক দিকে যোগ হতে থাকে বিভিন্ন জটিল ও কঠিন রোগ, অপর দিকে যোগ হতে থাকে মানসিক অস্থিরতা। মন থেকে দুনিয়ার মায়া-মমতা কমতে থাকে। মৃত্যুর দিকে ঝুঁকতে থাকে। এ ছাড়াও আরো বহুবিধ ক্ষতি রয়েছে, যেগুলো প্রতিটি মানুষকে তিলে তিলে ধ্বংসের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত করতে পারে।
কিয়ামত দিবসে পাঁচটি প্রশ্নের মাঝে অন্যতম একটি হলো, ‘তোমার যৌবনকাল কিভাবে খরচ করেছ?’ নবীজী সা: বলেন, ‘তোমরা পাঁচটি জিনিস হারাবার আগে অপর পাঁচটি জিনিস মূল্যায়ন করো। এর মাঝে একটি হলো, বার্ধক্য আসার আগে যৌবনকে মূল্যায়ন করো।’
পর্নোগ্রাফির ভয়ঙ্কর ধ্বংসলীলা থেকে বাঁচতে হলে আপনাকে অবশ্যই মানসিকভাবে শক্তিশালী হতে হবে, যা কেবল নিজের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে নিজ উদ্যোগেই বেঁচে থাকা সম্ভব। যে অন্তরে আল্লাহ- রাসূলের নাম নেই, কুরআন-হাদিসের বাণী নেই, সেই অন্তরে নোংরামি আর অশ্লীলতা জায়গা করে নেয়াই স্বাভাবিক। আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখুন। একাকিত্ব ও নির্জনতাকে বয়কট করুন। বিয়ের মতো মহৎ কাজ সেরে ফেলুন, যা আপনার-আমার যৌবনকে পূত-পবিত্র রাখতে অনেক বড় নেয়ামকের ভূমিকা পালন করবে।
লেখক : শিক্ষার্থী, ইফতা বিভাগ, জামিউল উলুম মাদরাসা, ঢাকা