সালাত এমন ইবাদাত যার সুফল ও সুপ্রভাব মু’মিনের জীবনের সর্বক্ষেত্রে অনুভূত হয়। বাস্তবতা এমনই, যার সালাত সুন্দর, তার সবকিছু সুন্দর। তার আখিরাতের পথ হবে সুগম। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো- আমাদের জিন্দেগিতে সালাতের প্রভাব নেই বললেই চলে। সালাত অমান্যকারী যেমন মন্দ কর্ম ও অশ্লীল কাজে লিপ্ত হয় অনেক পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের মুসল্লিও এমন কাজে অনেকসময় লিপ্ত হয়ে যায়। তখন সালাত আদায়কারী আর অমান্যকারীর জীবনে তেমন পার্থক্য বাকি থাকে না।
পবিত্র কুরআনে এসেছে- ‘নিশ্চয়ই সালাত অশ্লীল ও মন্দ কর্ম থেকে বিরত রাখে।’ (সূরা আনকাবুত-৪৫) ইরশাদ হয়েছে- ‘ওই সব মু’মিন সফল, যারা তাদের সালাতে ভীতশ্রদ্ধ।’ (সূরা মু’মিনুন : ১-২)

আমাদেরকে সেই সালাত শিখতে হবে যা প্রকৃতপক্ষে মানবজীবনে প্রভাব সৃষ্টি করতে সক্ষম। ভয় ও আশা, একাগ্রতা ও তন্ময়তাসহ যে সালাত আদায় করা হয় সেটিই প্রকৃত সালাত যা মুসল্লির জীবনে প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। সুন্দর থেকে সুন্দর জীবন মুসল্লিকে উপহার দিতে পারে।
পক্ষান্তরে লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে গাফিলতের সালাত সম্পর্কে বলা হয়েছে- ‘অভিসম্পাত ওই মুসল্লিদের ওপর যারা তাদের সালাতের প্রতি উদাসীন এবং যারা লোক দেখায়।’ (সূরা মাউন : ৮-৯)

আমাদের গাফিলতির কারণে আজ শুধু অমুসলিমদের চোখেই নয়, দুঃখজনক হলেও সত্য, নামধারী অনেক মুসলমানের চোখেও সালাত প্রশ্নবিদ্ধ। এখন তারা বলতে সাহস পায়, কুরআনের আয়াত কিভাবে সত্য হলো? কুরআন বলে, সালাত অশ্লীলতা থেকে বিরত রাখে; অথচ মুসল্লি-অমান্যকারীকে আমরা একই রকম অশ্লীল ও মন্দ কর্মে লিপ্ত দেখতে পাই!

আসল কথা হলো- আল্লাহর কালাম চিরসত্য। সালাত অবশ্যই মুসল্লিকে অশ্লীলতা ও মন্দ কর্ম থেকে বিরত রাখে। তবে সালাত হতে হবে সালাতের মতো। প্রাণবন্ত সালাত অবশ্যই মুসল্লিকে সবধরনেরে আপত্তিকর অবস্থা থেকে হিফাজত করে।

এক হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওজু করে এবং যথাসময়ে সালাত আদায় করে এবং ভয় ও আশা নিয়ে একাগ্রচিত্তে কিয়াম, রুকু ও সিজদা পূর্ণরূপে আদায় করে, তার সালাত শুভ্র সুন্দর আকৃতি ধারণ করে রওনা হয় আর বলে, তুমি যেমন আমাকে হিফাজত করেছ তেমনি আল্লাহ তোমাকে হিফাজত করুন। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি সময় গড়িয়ে যাওয়ার পর মন্দভাবে সালাত পড়ে, তার সালাত কালো অন্ধকার সুরত ধরে রওনা হয়, আর বলে যায়- আল্লাহ তোমাকে বরবাদ করুন যেমন তুমি আমাকে বরবাদ করেছ, আর ওই সালাতকে মুসল্লির মুখের উপর নোংরা নেকড়ার মতো ছুড়ে মারা হয়।’ (তাবরানি-৩১৯০)

লেখক : শিক্ষার্থী, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা