( দ্বিতীয় অংশ )
পাত্রী নির্বাচনে করণীয় : বিয়ের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অর্জনে সফলতার জন্য পাত্রী নির্বাচনে মৌলিকভাবে দ্বীনদারিকেই বিবেচনায় রাখতে হবে। অনুরূপ পাত্র নির্বাচনেও একই করণীয়।
১. দ্বীনদার পরিবার নির্বাচন করা : হজরত আবু হুরায়রা রা: বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘নারীদেরকে বিয়ে করো চারটি গুণের কারণে। তার ধনসম্পদের কারণে, তার বংশমর্যাদার কারণে, তার সৌন্দর্যের কারণে এবং তার ধার্মিকতার কারণে। সুতরাং ধার্মিক নারী লাভ করতে চেষ্টা করো, তুমি সফল (যদি দ্বীনদার নারী পাও)।’ (বুখারি, মুসলিম সূত্র : মিশকাত-৩০৮২) এ হাদিসে চারটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, যে চারটি বিষয় মানুষ সাধারণত বিয়ের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা জরুরি। নবী করিম সা: তার মধ্যে চতুর্থটি অর্থাৎ দ্বীনদারীকেই মৌলিকভাবে বিবেচনায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এর প্রতি উৎসাহ দিতে গিয়ে বলেন, ‘সাবাশ হে! তুমি দ্বীনদার নারী পেয়ে সফল হও।’ এর দ্বারা স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, বিয়েতে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অর্জনে সফলতা নির্ভর করে দ্বীনদার স্ত্রী পাওয়ার ওপর। অপর এক হাদিসে নবী সা: বলেন, ‘তোমরা নারীদের কেবল রূপ দেখে বিয়ে করো না। অসম্ভব নয় এ রূপই তাদের ধ্বংস করবে। তাদেরকে তাদের ধনসম্পদের কারণে বিয়ে করো না। হতে পারে তাদের এ ধনসম্পদ তাদের অবাধ্য করে তুলবে; বরং তাদেরকে বিয়ে করবে তাদের দ্বীনদারির ভিত্তিতে। একজন কুশ্রী কালো দাসীও (রূপসী, ধনবতী, স্বাধীন নারী অপেক্ষা) শ্রেয়, যদি সে দ্বীনদার হয়।
অপর এক বর্ণনায় এসেছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো নারীকে বিয়ে করবে কেবল তার বংশীয় ক্ষমতার কারণে, আল্লাহ তায়ালা তার অসহায়ত্বই বৃদ্ধি করবেন। যে ব্যক্তি কোনো নারীকে বিয়ে করবে তার সম্পদের লোভে, আল্লাহ তায়ালা তার দারিদ্র্যই বৃদ্ধি করবেন। যে ব্যক্তি কোনো নারীকে বিয়ে করবে কেবল তার বংশমর্যাদার কারণে, আল্লাহ তায়ালা তার হীনতাই বৃদ্ধি করবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো নারীকে বিয়ে করবে নিজ দৃষ্টি সংযতকরণ, চরিত্রের হিফাজত ও আত্মীয়তা রক্ষার উদ্দেশ্যে, আল্লাহ তায়ালা তার জন্য তার স্ত্রীকে এবং স্ত্রীর জন্য তাকে কল্যাণময় করবেন।’ (আল মুজামুল আওসাত-২২৪২, হিলইয়াতুল আউলিয়া, খণ্ড-৫, পৃষ্ঠা-২৪৫)
এসব হাদিসের শিক্ষা হচ্ছে, স্ত্রী নির্বাচনে দ্বীনদারি ও আখলাক-চরিত্রকেই প্রথমে বিবেচনায় রাখা। স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সাহচর্য একটি স্থায়ী সাহচর্য। এ সাহচর্য কেবল দ্বীনি আমল-আখলাকের চর্চা দ্বারাই শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণজনক হতে পারে। একজন নেককার স্ত্রীর আমল-আখলাকের প্রভাব তার স্বামীর ওপর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, নেককার স্ত্রীর উৎসাহ-অনুপ্রেরণায় উচ্ছৃঙ্খল ও দ্বীনবিমুখ স্বামীর জীবন আমূল বদলে যায়। যেকোনো সঙ্গ-সাহচর্যই যখন অনিবার্য প্রভাব বিস্তার করে, তখন স্বামী-স্ত্রীর সার্বক্ষণিক সাহচর্য কিভাবে প্রভাব না রেখে পারে? তাই এ হাদিসে পুরুষদের উৎসাহ দেয়া হয়েছে তারা যেন নিজেদের ঈমান-আমলের হিফাজত, আখলাক-চরিত্রের সংরক্ষণ ও দ্বীনদারিতে উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে মুত্তাকি পরহেজগার নারীদের বিয়ে করে। একই কথা পাত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বিভিন্ন হাদিসে এ বিষয়েও তাগিদ এসেছে।
২. বিয়ের আগে পাত্রী দেখা : হজরত মুগিরা ইবনে শোবা রা: বলেন, আমি এক নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ সা: আমাকে বললেন, ‘তুমি কি তাকে দেখেছ?’ আমি বললাম, না। তিনি বললেন, ‘তাকে দেখে নাও। কেননা, এই দেখে নেয়া তোমাদের উভয়ের মধ্যে (দাম্পত্যজীবনে) ভালোবাসা জন্মাবে।’ (মুসনাদে আহমদ, সুনানে তিরমিজি, সুনানে নাসায়ি, সুনানে ইবনে মাজাহ ও দারেমি, সূত্র : মিশকাতুল মাসাবিহ-৩১০৭)
৩. কুমারী রমণী নির্বাচন করা : হজরত জাবের রা: বলেন, একবার আমরা নবী কারিম সা:-এর সাথে এক যুদ্ধে ছিলাম। আমরা যখন মদিনার কাছে এসে পৌঁছলাম, আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি সম্প্র্রতি বিয়ে করেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি বিয়ে করেছ?’ আমি বলিলাম, জি হ্যাঁ। তিনি বলিলেন, ‘কুমারী না বিবাহিতা?’ আমি বললাম; বরং বিবাহিতা। তিনি বললেন, ‘কুমারী বিয়ে করলে না কেন? তুমি তার সাথে আমোদ-প্রমোদ করতে আর সেও তোমার সাথে আমোদ করত?’ অতঃপর যখন আমরা মদিনায় উপনীত হলাম এবং আপন আপন বাসস্থানে যেতে চাইলাম। তিনি বললেন- থামো, আমরা বরং রাতে অর্থাৎ, সন্ধ্যায় প্রবেশ করব যাতে রুক্ষকেশী নারী মাথায় চিরুনি করে নেয় এবং প্রবাসী স্বামীর স্ত্রী নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করে সারতে পারে।
এ হাদিসের ব্যাখ্যায় তারা বলেন, তুমি তার সাথে আমোদ-প্রমোদ করতে... অর্থাৎ, উভয়ের মধ্যে ভালোবাসা গভীর হতো এবং সুখময় জীবন উপভোগ করতে। (মিশকাতুল মাসাবিহ-৩০৮৮)
তাবে তাবেয়ি আব্দুর রহমান ইবনে সালেম ইবনে উতাইবা ইবনে উওয়াইম ইবনে সাঈদা আনসারি বর্ণনা করেন- রাসূলুল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা কুমারী রমণীদের বিয়ে করবে। কেননা, তাদের মুখ বেশি মিষ্ট, তাদের গর্ভাশয় অধিক গর্ভধারিণী এবং তারা অল্পে তুষ্ট থাকে।’ ইমাম ইবনে মাজাহ হাদিসটি মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেছেন। (মিশকাতুল মাসাবিহ-৩০৯২)
৪. ধনসম্পদ ও রূপ সৌন্দর্য : এখানে রূপ সৌন্দর্য নিয়ে আলাদাভাবে কিছু বলার প্রয়োজন বাকি নেই। পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে করণীয় শিরোনামের অধীনে উল্লিখিত প্রথম হাদিসে এর সুস্পষ্ট বর্ণনা এসে গেছে। (আগামী দিন সমাপ্য)
লেখক : শিক্ষার্থী, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
ঈমান পূর্ণতায় বিয়ের ভূমিকা
( দ্বিতীয় অংশ )পাত্রী নির্বাচনে করণীয় : বিয়ের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অর্জনে সফলতার জন্য পাত্রী নির্বাচনে মৌলিকভাবে দ্বীনদারিকেই বিবেচনায় রাখতে হবে। অনুরূপ পাত্র নির্বাচনেও একই করণীয়।১. দ্বীনদার...



