সুন্নাত আর বিদ’আত যেমন দু’টি আলাদা শব্দ তেমনিভাবে আমলের দিক থেকেও রয়েছে আসমান জমিন ব্যবধান। সুন্নাত বলা হয় এমন আমলকে যা রাসূল সা: করেছেন। আর রাসূল সা:-এর অনুসরণ করা প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, রাসূল তোমাদেরকে যা দেন তোমরা তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো এবং তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো, আল্লাহ তায়ালা তো শাস্তি দানে কঠোর ( সূরা হাশর : ৩৭)
আল্লাহ তায়ালা অন্যত্র ইরশাদ ফরমান, হে নবী! আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভালোবাসো তাহলে আমাকে অনুসরণ করো। তাহলে আল্লাহ তায়ালা ও তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং তিনি তোমাদের গুনাহকে ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ তায়ালা বড় ক্ষমাশীল দয়ালু (সূরা আলে ইমরান : ৩১)
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা: থেকে বর্ণিত, রাসূল সা: ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণে বলেন, হে লোক সকল! আমি তোমাদের কাছে দু’টি মূল্যবান জিনিস রেখে যাচ্ছি যদি তোমরা সে দু’টি জিনিস শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে রাখো তাহলে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। জিনিস দু’টি হলো ১. কিতাবুল্লাহ তথা আল্লাহ তায়ালার কিতাব ২. রাসূল সা:-এর সুন্নাত। (আল-মুসতাদরাক)
পক্ষান্তরে সুন্নাতের পরিপন্থী পাহাড় সমতুল্য আমল করার চেয়ে সুন্নাত মোতাবেক সরিষাদানা পরিমাণ আমল করা অধিক ভালো। আর বিদ’আত বলা হয়, ইসলামী শরিয়তে যে কাজের কোনো ভিত্তি নেই, এরূপ কাজকে ধর্মীয় ও সওয়াবের কাজ মনে করে করাকে। বিদায় হজের সময় মহান আল্লাহ তায়ালা রাসূল সা:-এর ওপর আয়াত অবতীর্ণ করেন, আমি আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামতকে পরিপূর্ণ করলাম আর দ্বীন হিসেবে আমি তোমাদের জন্য ইসলামকেই মনোনীত করলাম। (সূরা মায়েদা-০৩)
উপরোক্ত আয়াতের মাধ্যমে সুস্পষ্ট যে, আল্লাহ তায়ালা ইসলামের বিধিবিধান সর্বক্ষেত্রে পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ করে দিয়েছেন। সুতরাং এতে সংযোজন বা বিয়োজনের কোনো অবকাশ নেই। বরং কেউ যদি এরূপ করে তাহলে তা হবে বর্জনীয়। যেমনটি রাসূল সা: বলেছেন, যে কেউ আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে তা বর্জন করতে হবে। (বুখারি শরিফ)
এক হাদিসে বিদ’আতের পরিণতি সম্পর্কে বর্ণিত আছে, প্রত্যেক বিদ’আতই (দ্বীনের মধ্যে নব আবিষ্কৃত বিষয়) ভ্রষ্টতা আর প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণতি হলো জাহান্নাম। (নাসায়ি)
লেখক : নেউতিগাছা, চাটমোহর, পাবনা



