দানশীলতা একটি মহৎ গুণ ও ইবাদত। দানের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার দেয়া সম্পদের শুকরিয়া আদায় করা হয়, সম্পদ বৃদ্ধি পায়, গরিব ও অসহায় মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শিত হয়। সমাজের নিঃস্ব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও তাদের সাথে সুখ-দুঃখ সমানভাবে ভাগাভাগি করা যায়। ফলে এর মাধ্যমে যেমন আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভ করা যায়, তেমনিভাবে নিজেদের নেকির পাল্লাও ভারী করা যায়। তাই আমাদের উচিত বেশি বেশি দান করা। দান-সদকার গুরুত্ব সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘যারা আল্লাহর রাস্তায় নিজেদের অর্থসম্পদ দান করে তাদের দানের উদাহরণ হলো একটি বীজের মতো, যা থেকে সাতটি বিশেষ শিষ বা ছড়া জন্মায়। প্রত্যেক ছড়ায় ১০০ করে দানা থাকে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা আরো বেশি দান করেন। আল্লাহ অতি দানশীল ও সর্বজ্ঞ।’ (সূরা বাকারাহ-২৬১)
দান-সদকা করলে গুনাহ মাফ হয়, আল্লাহ তায়ালার ক্রোধ নিবারণ হয়। ‘যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান-খয়রাত করো, তবে তা কতই না উত্তম। আর যদি গোপনে করো এবং অভাবগ্রস্তদের দিয়ে দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরো উত্তম। আল্লাহ তায়ালা তোমাদের কিছু গুনাহ দূর করে দেবেন। আল্লাহ তোমাদের কাজকর্মের খুব খবর রাখেন।’ (সূরা বাকারাহ-২৭১)
দানের ফজিলত বর্ণনা করতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘দান করলে মানুষের সম্পদ কমে না; বরং সম্পদ আরো বেড়ে যায়।’ (তিরমিজি-২৩২৫) দান-সদকা করলে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচা যায়। রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘তোমরা খেজুরের একটি টুকরো দান করে হলেও জাহান্নাম থেকে বাঁচো।’ (বুখারি-১৩৫১)
‘প্রতিদিন আকাশ থেকে দু’জন ফেরেশতা নেমে আসেন। একজন বলেন, ‘হে আল্লাহ, আজকের দিনের দানকারীকে তার প্রতিদান দাও। আর অপরজন বলে- হে আল্লাহ, কৃপণ লোককে শিগগিরই ধ্বংস করো।’ (বুখারি-১৩৫১)
রাসূলুল্লাহ সা: আরো বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে আদম সন্তান! তুমি খরচ করো, তাহলে তোমার প্রতিও খরচ করা হবে।’ (বুখারি-৪৯৩৩) এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সা:-কে বলল, ইসলামের কোন আমলটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন, ‘কাউকে খাবার খাওয়ানো ও পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেয়া।’ (বুখারি-১১) অপর এক হাদিসে এসেছে, ‘সাদাকাহ করলে সম্পদ কমে না’। (মুসলিম-৬৭৫৭)
আমাদের পাশেই কোনো গরিব বা অসহায় ব্যক্তি না খেয়ে আছে, তার খবর আমরা মোটেই রাখি না। এ ধরনের অসহায় মানুষের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া সামর্থ্যবান প্রতিটি মুসলমানের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।