এক মুসল্লি আজ সকালে আমার কাছে এসে বেশ কিছু প্রশ্ন ছুড়ে মারে! তার প্রশ্নগুলো হলো, আপনাদের আলেম সম্প্রদায়ের অনেক সমস্যা রয়েছে। বললাম, কিভাবে, কী হয়েছে?
বললেন, আপনাদের এক নম্বর সমস্যা হলো, আপনারা জুমার মিম্বারে উঠে উচ্চকণ্ঠে সুদ- ঘুষখোরদের বিরুদ্ধে জোরালো বক্তব্য দিতে পারেন না!
বললাম, আপনার কথা রাইট। তবে এর পেছনে আপনাদের দুর্বলতাই সবচেয়ে বেশি। তা এভাবে যে, আজকে যদি কোনো এক আলেম দরাজ কণ্ঠে সুদ-ঘুষখোরদের বিরুদ্ধে জোরালো প্রচারণা চালায়- তবে স্থানীয় ঘুষখোর সুদখোররা তার পেছনে উঠেপড়ে লেগে যাবে, যা তার জীবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে। এখন যতই গুটিকয়েক মানুষ প্রতিহত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
সময়মতো বিপদের সময় কাউকেই খুঁজে পাওয়া যায় না। তখন হুজুুরের নিজেকেই সর্বোচ্চ দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কাজেই নির্দিষ্ট কিছু পাপিষ্ঠের পাপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ক্ষেপিয়ে তুলে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা টেনে আনার দরকার কী? তবে হ্যাঁ, যেসব আলেম ঘোলাটে পরিবেশ সামলানোর সক্ষমতা রাখেন, তারা নির্বিঘেœ সত্যের কথা অবলীলায় বলে যাচ্ছেন। এতে কাউকে কখনো তোয়াক্কা করছেন না। সেসব আলেমকে মোবারকবাদ।
তার দ্বিতীয় নম্বর প্রশ্ন ছিল, আলেমরা নিজেদের মসজিদ মাদরাসাভিত্তিক কর্মসংস্থান জড়িয়ে রাখে। অথচ আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেন, তোমরা সারাত শেষে আমার অনুগ্রহ তালাশে ছড়িয়ে পড়ো। তবে আপনাদের যেসব আলেম মসজিদ-মাদরাসাকে কেবল নিজেদের কর্মসংস্থান বানিয়ে নিয়েছেন তারা কতটুকু ভালো কাজ করছেন?
বললাম, আপনি অত্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন। দেখুন ভাই, আমাদের বাংলাদেশ মুসলিম কান্ট্রি। এ কথা খুব জোরেশোরে আমরা ফলাও করি। তাই না?
আবার ৯০-৯৫ শতাংশ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশ, সেটিও দাবি করি। কিন্তু কখনো কি আমরা ভেবে দেখেছি যে, আমাদের এই মুসলিম কান্ট্রি বাংলাদেশের যারা সবচেয়ে সম্মানিত আলেম সম্প্রদায় রয়েছেন, তাদের সম্মান পরিপূর্ণ নিশ্চিত করতে পেরেছি কি না?
যে দেশের আলেম সম্প্রদায় আজ সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। সামান্য কোনো বিষয় নিয়ে সত্য কথা উচ্চকণ্ঠে বলতে গেলে জেলহাজতে বছরের পর বছর পড়ে থাকতে হয়, সে দেশের জনসাধারণ মানুষ আলেমদের মুক্তি লাভে জোরালো কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছি?
এখানকার আলেমরা অনেক বেশি অবহেলিত, নির্যাতিত ও অবহেলিত হচ্ছেন। যেখানে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন স্বয়ং মসজিদ কমিটির সদস্য হতে আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করার মহৎ গুণ অর্জন করার শর্ত জুড়ে দিয়েছেন, সেখানে আজকের সমাজে মসজিদ-মাদরাসার স্টাফদের কমিটির সদস্যদের ভয় করতে চলতে হচ্ছে; এই সমাজে মসজিদ-মাদরাসার স্টাফরা বাড়তি কিছু করার অনুমতির আশা করা বাতুলতা ছাড়া আর কিছু নয়।
লেখক : মুহতামিম, সুলতানিয়া হাফিজুল উলুম মাদরাসা, বিনোদবাইদ, সাভার, ঢাকা