রাতারাতি সেলিব্রিটি বনে যাওয়া যায়, এমন একটি অ্যাপসের নামই হচ্ছে টিকটক। বাড়ন্ত বয়সের ছেলেমেয়েরা এই নেশায় এখন যেন নিরন্তর বিলকুল মরিয়া হয়ে উঠেছে। অথচ এই টিকটক বানাতে গিয়ে কত প্রাণ যে ঝরে গেছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই।
এমন হুমকির মধ্যে যখন তরুণসমাজ তখন এই অ্যাপকে একটা নিয়ন্ত্রণে আনা অধিক প্রয়োজন তা না হলে যে যুবসমাজ একদিন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে।
বলা বাহুল্য, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায় বিশ্বের প্রায় ৭৫টি ভাষায় এই টিকটক অ্যাপটি বানানো হয়েছে। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, গোটা পৃথিবীতে এই অ্যাপটি প্রায় ৮০০ মিলিয়নবার ডাউনলোড হয়েছে। সুতরাং আমাদের সমাজের তরুণ-তরুণীদের এ পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে কুরআন এবং হাদিসের নীতিমালা অনুসরণ করা কাম্য। প্রিয় নবীর অনুসরণ ও অনুকরণ ছাড়া ধরাধামে কেউ উত্তম চরিত্রের অধিকারী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’। (সূরা আহজাব : ২১) হাদিস শরিফে রাসূল সা: ইরশাদ করেন, ‘আমি উত্তম চরিত্রের পরিপূর্ণতা সাধনের জন্যই প্রেরিত হয়েছি।’ (মুসনাদে আহমাদ, মিশকাত)
আমাদের সমাজের একশ্রেণীর মানুষ আছে যারা মানুষকে গুনাহের দিকে আহ্বান করে, নিজেরাও ধ্বংসে নিপতিত হচ্ছে সাথে অন্য মানুষকে ধ্বংসের গহ্বরে তলিয়ে দিচ্ছে, যা একটা সমাজ ও জাতির জন্য বিরাট হুমকিস্বরূপ।
আর অশ্লীলতা, ঠাট্টা-বিদ্রƒপে পরিপূর্ণ এসব ভিডিও তৈরি করা অত্যন্ত জঘন্য পাপ। দুনিয়া ও আখিরাতে যার জন্য ভয়াবহ শাস্তির ঘোষণা এসেছে। যতজন এই ভিডিওগুলো দেখবে সবার পাপের একটা অংশ ভিডিও-নির্মাতা পেতে থাকবে। এমনকি মৃত্যুর পরও এই গুনাহ জারিয়াহ বা চলমান হিসেবে আমলনামায় যোগ হতে থাকে।
এ ব্যাপারে প্রিয় নবী সা: ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষকে নেক কাজের দাওয়াত দেবে সে ওই লোকদের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে, যারা তার দাওয়াত পেয়ে নেক কাজ করবে অথচ তাদের সওয়াবের সামান্যও হ্রাস পাবে না। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি মানুষকে গুনাহের কাজে আহ্বান করবে সে ওই লোকদের সমপরিমাণ গুনাহ পাবে, যারা তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে গুনাহের কাজ করবে। অথচ তাদের গুনাহ হ্রাস পাবে না।’ (মুসলিম : ৬৯৮০)
সুতরাং নিজেরা এই ব্যাপারে হুঁশিয়ার হোন। তাহলে একটি পরিবার একটি সমাজ সুন্দর হয়ে উঠবে খুব সহজে। জাগরণের এই জাগ্রত জোয়ারে স্ফুরিত আলোর দিকে ভেসে যাক তরুণসমাজ। তবেই সার্থক হবে আমাদের পরিবার, সমাজ।
লেখক : শিক্ষক, কলামিস্ট, ছড়াকার