বর্তমান সময়ে কারো হাতে অ্যান্ড্রয়েড ফোন আছে আর তাতে ফেসবুক-মেসেঞ্জার ইউটিউব ইন্সটল করা নেই এমন মানুষের সংখ্যা বিরল। এগুলো হচ্ছে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত অ্যাপ, যা মানুষের জীবন থেকে কেড়ে নিচ্ছে অতি মূল্যবান সময়। হারাম করে দিচ্ছে অগণিত রজনীর প্রশান্তিদায়ক ঘুম। আল্লাহ ও তাঁর বান্দার নির্জন সম্পর্কের মধ্যে হচ্ছে অন্তরায়। মুহূর্তেই ভেঙে যাচ্ছে তিলে তিলে গড়ে ওঠা স্বামী-স্ত্রীর সুখের সংসার। সমাজে বয়ে যাচ্ছে পাপের সয়লাব। একশ্রেণীর রুচিহীন মানুষ আর্থিক লোভের কারণে ফেসবুক ইউটিউবে নোংরা ভিডিও আপলোড করে আয় করছে টাকাপয়সা। মানুষের জন্য সহজ করে দিচ্ছে গুনাহের কাজগুলো। এসব অশ্লীল ভিডিও আবার একে অপরকে হোয়াটসঅ্যাপ, ইমু, মেসেঞ্জারে শেয়ার করে দিচ্ছে। নিজেও পাপে জড়াচ্ছে আবার অপরকেও পাপের ভাগিদার বানানো হচ্ছে। যা অতি জঘন্য অপরাধ। আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘তোমরা সৎকাজে ও আল্লাহভীতিতে একে অপরকে সাহায্য করো, আর পাপকাজ ও জুলুমের

ক্ষেত্রে একে অপরকে সাহায্য করো না।’ (সূরা মায়িদাহ-২)

এ ধরনের নোংরা ও অরুচিকর ভিডিও শেয়ার করা বা ফেসবুক-ইউটিউবে আপলোড করা অতি ঘৃণিত ও গর্হিত কাজ। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অশ্লীলতার বীজ বপন করার নামান্তর। মুমিনদের ঈমান-আমল নষ্ট করার হীন চক্রান্ত। যে বা যারাই এমন নিকৃষ্ট কাজে জড়িত বা যারা এসব কাজে সহযোগিতা করছে তাদের জন্য দুনিয়া ও পরপারে রয়েছে আল্লাহ তায়ালার কঠিন ও ভয়াবহ শাস্তি। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- ‘যারা কামনা করে যে, ঈমানদারদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রচার-প্রসার হোক, তাদের জন্য রয়েছে যাতনাদায়ক শাস্তি দুনিয়া ও আখিরাতে।’ (সূরা নূর-১৯)

লেখক : শিক্ষার্থী জামিয়া আরাবিয়া মাখযানুল উলুম, ময়মনসিংহ সদর