মুমিনের হৃদয় হবে পানির মতো স্বচ্ছ-নির্মল। অন্তর থাকবে আয়নার মতো সাফ। চিন্তা-চেতনা হবে পরিশুদ্ধ। অন্তরে থাকবে না কোনো কুটিলতা কিংবা দ্বিচারিতা। মানুষের সাথে করবে না প্রতারণা কিংবা ধোঁকাবাজি। যে মানুষের সাথে প্রতারণা করে সে প্রকৃত মুমিন নয়। কারণ মুমিন প্রতারক হতে পারে না। হাদিসের ভাষায় সে নবীজি সা:-এর উম্মতই নয়। হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত-রাসূল সা: বাজারে একটি খাদ্যশস্যের স্তূপ অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন। তিনি নিজের হাতকে স্তূপের মধ্যে প্রবেশ করালেন। তিনি তাঁর হাতে ভিজা অনুভব করেন। স্তূপের মালিককে তিনি প্রশ্ন করেন, এ কি? সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এটি বৃষ্টির পানিতে ভিজে গিয়েছিল। তিনি বললেন, ভিজাগুলো স্তূপের উপরে রাখলে না কেন, যাতে লোকেরা দেখতে পেত? এরপর তিনি বললেন, প্রতারক ও ধোঁকাবাজদের সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। (সুনানে তিরমিজি-১৩১৫)

অনেক মানুষ আছে যারা দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে। ফরজের পাশাপাশি নফল নামাজ ও দান-সদকাও করে। দ্বীনের অন্যান্য বিধিবিধানও মেনে চলে। কিন্তু কথায় কথায় মিথ্যার আশ্রয় নেয়। কখনো কারো সাথে ঝগড়া বেঁধে গেলে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে। অথচ সে জানে না এগুলো হচ্ছে মুনাফিকের চিহ্ন বা আলামত। যা একজন মুমিনের মধ্যে থাকতে পারে না। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা: থেকে বর্ণিত- আল্লাহর রাসূল সা: বলেছেন, ‘যার মধ্যে চারটি স্বভাব পাওয়া যাবে, সে খাঁটি মুনাফেক হয়ে যাবে। আর যার মধ্যে এগুলোর একটি স্বভাব থাকবে, তার মধ্যে মুনাফেকির একটি স্বভাব থেকে যাবে; যতক্ষণ না সে তা বর্জন করবে- ১. তাকে আমানত দেয়া হলে সে খিয়ানত করবে; ২. কথা বললে মিথ্যা বলবে; ৩. ওয়াদা করলে খেলাপ করবে এবং ৪.ঝগড়া করলে গালিগালাজ করবে। (রিয়াদুস সালেহিন-৬৯৫)

মানুষের আরেকটি বদভ্যাস হলো কথা দিয়ে কথা না রাখ। কারো কাছে কোনো ওয়াদা করলে তার খেলাফ করা। অথচ ওয়াদা বা অঙ্গীকার পূর্ণ করা আল্লাহর নির্দেশ। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- ‘আর তোমরা অঙ্গীকার পূর্ণ করো, নিশ্চয়ই অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে।’ (সূরা বনি ইসরাইল-৩৪) এক হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত- রাসূল সা: বলেছেন, ‘মুনাফিকের চিহ্ন হলো তিনটি- ১. কথা বললে মিথ্যা বলে; ২. ওয়াদা করলে তা খেলাপ করে এবং ৩. আমানত রাখা হলে তাতে খিয়ানত করে।’ (রিয়াদুস সালেহিন-৬৯৪)
লেখক : শিক্ষার্থী, জামিয়া আরাবিয়া মাখযানুল
উলুম, ময়মনসিংহ সদর