‘যদি তারা গরিব হয়, আল্লাহ তায়ালা নিজ অনুগ্রহে তাদের ধনী বানিয়ে দেবেন।’ (সূরা নূর, আয়াত-৩২) উল্লিখিত আয়াত প্রত্যেক নববিবাহিত এবং ওসব অবিবাহিতদের জন্য সান্ত্বনার বার্তা- যারা নিজেদের জীবন নিয়ে অনেক বেশি শঙ্কিত। তাদের ধারণা, আমি এখন একা। তাতেই আমাকে আর্থিক খরচের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে! এই মানুষটিই যদি আবার আরেকজন নতুন মানুষের জিম্মাদারি কাঁধে তুলে নেয় তবে তাকে কিভাবে প্রতিপালন করবে? এটি তার দুশ্চিন্তাপ্রসূত ভাবনা! এবং তার ঈমানের দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। যার কোনো ভিত্তি কুরআন-হাদিসের কোথাও নেই এবং এসব ধারণা বোকামি বৈ কিছু নয়। যিনি আমাদের খুব আদর-যতœ ও মায়া-মহব্বত করে বানিয়েছেন। আবার সাথে সাথে রুজি-রোজগার করার সক্ষমতা দান করেছেন। আবার বিয়েপরবর্তী সময়ে স্বাবলম্বিতা দান করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এত সবের পরও যদি কেউ আল্লাহর দেয়া প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করে নিজের কাঁধে অযাচিত সব দুশ্চিন্তার পাহাড় চাপিয়ে নেয়- তার মতো বোকা মানুষ জগতে বোধ হয় আর কেউ নেই!
দুশ্চিন্তা তো তখনই আসবে, যখন কেউ আল্লাহর জিম্মাদারি জোরপূর্বক নিজের কাঁধে তুলে নেবে, যা বহন করা কারো জন্য আদৌ সম্ভব নয়। এমন এক মহা গুরুদায়িত্ব নিজের কাঁধে টেনে নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা করার কোনো মানে হয় না। যিনি আমাদের মানবরূপে বানিয়েছেন, তিনি বিভিন্নভাবে আমাদের প্রশান্ত করেছেন, রিজিক পৌঁছানোর যথাযথ ওয়াদা করেছেন।
আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘যে আল্লাহর প্রতি ভরসা করবে, তিনি তার সঙ্কট উত্তরণের রাস্তা বের করে দেবেন এবং এমন সব রাস্তা থেকে রিজিক পৌঁছাবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। বান্দা হিসেবে আমাদের উচিত, স্রষ্টার দেয়া প্রতিশ্রুতিতে পূর্ণ আশ্বস্ত হওয়া। তা না করে যারা বাহ্যিক রূপরেখাকে শান্তি ও সফলতার মাপকাঠি হিসেবে মনে করে, যোগ্যতাকেই কর্মসংস্থানের প্রধানতম হাতিয়ার মনে করে, আর খারাপ রেজাল্টের কারণে হতাশার বেড়াজালে আটকে পড়ে; এরাই মূলত আল্লাহর প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে। এবং ঠুুনকো যুক্তি দাঁড় করিয়ে নিজেদের বিয়ে বিলম্ব করে, যা তাদের জীবনে অনেক বড় হতাশা ও বঞ্চনার কারণ। এসব পেরেশানি কাটিয়ে ওঠে দুশ্চিন্তামুক্ত এক জীবন গড়তে আল্লাহর প্রতিশ্রুতির প্রতি পূর্ণ আস্থাশীল হওয়ার বিকল্প নেই।
দ্বিতীয়ত, বিবাহিতদের মধ্যে অনেক দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষ এমন খুঁজে পাবেন, যারা নিজেদের জীবনে সুখী হতে একাধিক সন্তান গ্রহণ করাকে প্রধানতম বাধা হিসেবে মনে করেন এবং তারা স্লেøাগান তোলে, ‘দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়’। তাদের ভাবসাব এমন, যেন সন্তানের রিজিকের মালিক স্বয়ং তারাই। নাউজুবিল্লাহ!
যেখানে পবিত্র কালামে সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা এসেছে- ‘জল ও স্থলে যত প্রাণী রয়েছে, এসবের রিজিক আল্লাহ রাব্বুল আলামিনই পৌঁছে থাকেন।’ (সূরা হুদ, আয়াত-৬)
সেখানে সন্তান গ্রহণে কার্পণ্য করা, তাদের রিজিকের বিষয়ে আপত্তিকর প্রশ্ন তোলা, বিভিন্ন উপায়-উপকরণ গ্রহণ করে সন্তান নেয়া থেকে চিরস্থায়ীভাবে বিরত থাকা- আল্লাহর ফয়সালার প্রতি অসন্তুষ্টির নামান্তর, যা কোনো মুমিন মুত্তাকি পরহেজগার বান্দার জন্য কখনোই সমীচীন নয়। এসব চিন্তাচেতনা ও দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আমাদের সবার বেরিয়ে আসা উচিত।
লেখক : মুহতামিম, সুলতানিয়া হাফিজুল উলুম মাদরাসা, বিনোদবাইদ, সাভার, ঢাকা
আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস
‘যদি তারা গরিব হয়, আল্লাহ তায়ালা নিজ অনুগ্রহে তাদের ধনী বানিয়ে দেবেন।’ (সূরা নূর, আয়াত-৩২) উল্লিখিত আয়াত প্রত্যেক নববিবাহিত এবং ওসব অবিবাহিতদের জন্য সান্ত্বনার বার্তা-...



