(গত দিনের পর)
হজরত উসমান রা:-এর সূত্রে বর্ণিত- তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার এই অজুর মতো (সুন্দর করে) অজু করবে, অতঃপর দু’রাকাত নফল নামাজ আদায় করবে, যাতে সে আল্লাহর স্মরণ ছাড়া অন্য কোনো বিষয় ভাবেনি, তাহলে আল্লাহ তায়ালা তার পূর্বের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (বুখারি-৯৩৪, মুসলিম-২২৬, মিশকাত-২৮৭)
রাসূল সা: আরো বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে অজু করবে, অতঃপর নামাজ আদায় করবে, সেই ব্যক্তির এই নামাজ ও তার পূর্ববর্তী নামাজের মধ্যবর্তী সময়ের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।’ (মুসলিম-৫৬২)
হজরত উসমান রা: থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, নবী করিম সা: ইরশাদ করেছেন, ‘যখন কোনো মুসলমান নামাজের ওয়াক্ত হলে উত্তমরূপে অজু করে, অতঃপর খুশুখুজুর সাথে সুন্দরভাবে রুকু-সিজদা করে নামাজ আদায় করে, তখন এ নামাজ তার পূর্বের সব গুনাহের জন্য কাফফারা হয়ে যায়, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে কোনো কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়। আর নামাজের এ ফজিলত সে সর্বদা পেতে থাকে।’ (মুসলিম-২২৮)
দেহের পবিত্রতা অর্জিত হয় : পবিত্রতা মানব জীবনের অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পবিত্রতার মাধ্যমে মানব দেহ, মন সতেজ ও সজীব থাকে। পবিত্রতা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে অজু। আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা: থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘পবিত্রতা ব্যতীত নামাজ কবুল হয় না। আর অবৈধ উপায়ে প্রাপ্ত সম্পদের সদকাও কবুল হয় না।’ (তিরমিজি-১, মুসলিম-২২৪)
হজরত আবু মালেক আশআরি রা: থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, নবী করিম সা: বলেছেন, ‘পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক’। (মুসলিম-২২৩, মিশকাত-২৮১) এ হাদিসে রাসূলুল্লাহ সা: পবিত্রতাকে অর্ধেক ঈমান বলেছেন। অর্থাৎ ঈমানের মাধ্যমে অন্তরের পবিত্রতা অর্জিত হয়। আর অজুর মাধ্যমে দেহের পবিত্রতা অর্জিত হয়।
অজুর মাধ্যমে ছয়টি দিক থেকে পবিত্রতা অর্জন করা হয়। ডান হাত ধৌত করার মাধ্যমে ডান দিক থেকে, বাম হাত ধৌত করার মাধ্যমে বাম দিক থেকে, মুখমণ্ডল ধৌত করার মাধ্যমে সামনের দিক থেকে, ঘাড় মাসেহ করার মাধ্যমে পেছন দিক থেকে, মাথা মাসেহ করার মাধ্যমে উপরের দিক থেকে এবং পা ধৌত করার দ্বারা নিচের দিক থেকে পবিত্রতা অর্জিত হয়।
বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি করে : হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, রাসূল সা: বলেছেন, ‘আমি কি তোমাদের এমন আমলের কথা বলব না, যার ওসিলায় আল্লাহ তায়ালা মানুষের গুনাহ মাফ করে দেন এবং তার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন?’ সাহাবিরা বললেন, হ্যাঁ বলুন, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, ‘অসুবিধা ও কষ্ট থাকা সত্ত্বেও পূর্ণভাবে অজু করা, অধিক পদক্ষেপে মসজিদে যাওয়া এবং এক নামাজ শেষ হওয়ার পর পরবর্তী ওয়াক্তের নামাজ পড়ার জন্য প্রতীক্ষায় থাকা। আর এটিই হচ্ছে রিবাত বা প্রস্তুতি (তিনি এ কথা তিনবার বললেন)।’ (মুসলিম-২৫২, তিরমিজি-৫১, মিশকাত-২৮২)
উম্মতে মুহাম্মাদির পরিচয়ের চিহ্ন : আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সা: কবরস্থানে (মদিনার বাকিতে) উপস্থিত হলেন এবং মৃত ব্যক্তিদের উদ্দেশে বললেন, ‘হে মুমিন কবরবাসীগণ! আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমরাও ইনশাআল্লাহ আপনাদের সাথে মিলিত হবো।’ তারপর রাসূল সা: বললেন, ‘আমার আকাক্সক্ষা হয় আমি যদি আমার ভাইদের সাথে সাক্ষাৎ করতে পারতাম।’ সাহাবিরা বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আপনার ভাই নই? নবী করিম সা: বললেন, ‘তোমরা তো আমার সাহাবি। আমার সহযোগী। আমার ভাই হচ্ছে তারাই যারা এখনো দুনিয়াতে আসেনি।’
সাহাবিরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উম্মতের মধ্যে যারা এখনো দুনিয়াতে আসেনি, তাদের আপনি কীভাবে চিনবেন? রাসূলুল্লাহ সা: বললেন, ‘আপনারা বলুন, যদি কোনো ব্যক্তির একদল কুচকুচে কালো রঙের ঘোড়ার মধ্যে ধবধবে সাদা কপাল ও সাদা পা-বিশিষ্ট একটি ঘোড়া থাকে, তাহলে সে কি তার ঘোড়াটিকে চিনতে পারবে না?’ সাহাবিরা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! হ্যাঁ নিশ্চয়ই পারবে। তখন রাসূল সা: বললেন, ‘আমার ভাইগণও অজুর কারণে কিয়ামতের দিনে সেরূপ ধবধবে সাদা কপাল ও সাদা হাত-পা-বিশিষ্ট অবস্থায় উপস্থিত হবে এবং আমি হাউজে কাওসারের কাছে তাদের অগ্রগামী হিসেবে উপস্থিত থাকব।’ (মুসলিম-২৪৯, ইবনে মাজাহ-৪৩০৬, মিশকাত-২৯৮)
অজুর অঙ্গগুলো উজ্জ্বল হবে : আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সা:-কে বলতে শুনেছি, ‘মুমিনের অজুর সেসব স্থান উজ্জ্বল ও সুদর্শন হবে, যে স্থানগুলোতে অজুর পানি পৌঁছে।’ (মুসলিম-২৫০, রিয়াদুস সালেহিন-৪, মিশকাত-২৯১)
আবু হুরায়রা রা: থেকে আরেক হাদিসে বর্ণিত- তিনি বলেন, নবী করিম সা: বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন আমার উম্মতকে জান্নাতের দিকে ডাকা হবে তাদের অজুর বিশেষ চিহ্ন দেখে, যা হবে অতীব উজ্জ্বল ও ধবধবে সাদা। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার উজ্জ্বলতাকে বৃদ্ধি করতে চায়, সে যেন তা করে।’ (বুখারি-১৩৬, মুসলিম-২৪৬, মিশকাত-২৯০)
এসব হাদিস দ্বারা প্রতীয়মান হয়, অজুর কারণে কিয়ামতের দিন মুমিনদের মুখমণ্ডল ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অতীব উজ্জ্বল হবে। সুতরাং অজুর নির্দিষ্ট স্থানগুলো পূর্ণাঙ্গরূপে ভিজিয়ে উত্তমরূপে অজু করা উচিত।
লেখক : সম্পাদক, মাসিক সারস,
পূর্ব রূপসা, খুলনা।
অজুর ফজিলত
(গত দিনের পর)হজরত উসমান রা:-এর সূত্রে বর্ণিত- তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার এই অজুর মতো (সুন্দর করে) অজু করবে, অতঃপর দু’রাকাত নফল...



