ফেসবুকনির্ভর বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টটি। এর মাশুল গুনতে হয়েছে ফেসবুক প্রধান মার্ক জাকারবার্গকেও। ফেসবুকের শেয়ারদরে পতনের জেরে ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তালিকা থেকেও কয়েক ঘর নিচে নেমে এসেছেন জাকারবার্গ। এক সময়ে তিনের ঘরে থাকা জাকারবার্গের অবস্থান এখন ছয়ে।
কী কারণে বিভ্রাট
কিন্তু ঠিক কী কারণে বিভ্রাটের কবলে পড়েছিল ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম? কেন এতটা সময় লেগেছে সেবা ফিরিয়ে আনতে? ফেসবুক কর্তৃপক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, নিজেদের ডাটা সেন্টারের মধ্যে নেটওয়ার্ক ট্রাফিক সমন্বয়কারী ‘ব্যাকবোন রাউটারে’র কনফিগারেশন পরিবর্তনের কারণেই বিভ্রাটের কবলে পড়তে হয়েছিল তাদের। থমকে গিয়েছিল সব সেবা। শুধু ফেসবুকই নয়, তাদের সবকিছুই গায়েব হয়ে গিয়েছিল অনলাইন থেকে। অন্যদিকে, এ ব্যাপারে আরো বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে ক্লাউডফ্লেয়ার। তারা বলছে, গোটা ঘটনার সঙ্গে দুটি বিষয় জড়িত। এর একটি ডোমেইন নেম সিস্টেম (ডিএনএস), আর অন্যটি ‘বর্ডার গেটওয়ে প্রটোকল (বিজিপি)। ইন্টারনেটের পুরোটাতে রয়েছে অসংখ্য সংযুক্ত নেটওয়ার্ক। এর মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করে বিজিপি। সাধারণত বিজিপিই বলে দেয় নেটওয়ার্ককে কোথায় যেতে হবে। অন্যদিকে, ডিএনএস হলো প্রত্যেক ওয়েবসাইটের অবস্থান সম্পর্কিত ‘অ্যাড্রেস সিস্টেম’ আইপি অ্যাড্রেস। এক কথায় বলা যায়, বিজিপি হলো ‘রোডম্যাপ’, যা ‘আইপি অ্যাড্রেস’ পর্যন্ত যাওয়ার সবচেয়ে কার্যকরী রাস্তাটি খুঁজে বের করে।
সোমবার একাধিক আপডেটের মাধ্যমে ফেসবুক বিজিপিকে জানায়, তাদের সেবা পর্যন্ত যাওয়ার যে পথগুলো ছিল, তা আর নেই। ফলে যারা ফেসবুকে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন, তারা আদতে পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। এতে শুধু ফেসবুক নয়, প্রতিষ্ঠানটির মালিকানাধীন সব সেবা আক্রান্ত হয়েছিল। এমনকি ফেসবুকের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমও বিভ্রাটের হাত থেকে রেহাই পায়নি। অফিস থেকে ছিটকে পড়েছিলেন ফেসবুক কর্মীরা, ব্যবহার করতে পারেননি নিজেদের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ প্লাটফর্মও। ফেসবুকের অভ্যন্তরীণ সিস্টেমও বিভ্রাটের কবলে পড়ায় কর্মীদের জন্য সমস্যা শনাক্ত ও সমাধান করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সিকিউরিটি পাস সিস্টেম বিভ্রাটের কবলে পড়ায় যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম, ওয়ার্কপ্লেস এবং অফিসে প্রবেশ করতে পারছিলেন না খোদ প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরাই।
বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি অনলাইননির্ভর কেনাকাটাসহ নানাবিধ সেবায় লগ ইন করতেও ফেসবুক ব্যবহার করে থাকেন অনেকেই। অনেক দেশে আবার যোগাযোগের বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ। ফেসবুকের সাম্প্রতিক এ বিভ্রাট আদতে প্রভাব ফেলেছে শত শত কোটি মানুষের জীবনে।
অনেকে আবার বিভ্রাটের সময়ে ব্যক্তিগত ডেটার সুরক্ষা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। গার্ডিয়ান এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছে, ফেসবুক সচল থাকার সময়ে ব্যক্তিগত ডেটা যতটা ঝুঁকির মুখে থাকে, বিভ্রাটকালীনও ততটাই ছিল।
ফেসবুক নির্ভর ব্যবসায়ীদের বড় অঙ্কের লোকসান
ফেসবুকনির্ভর বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টটি। এর মাশুল গুনতে হয়েছে ফেসবুক প্রধান মার্ক জাকারবার্গকেও। ফেসবুকের...



