বিশ্বের জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সব ধরনের কটূক্তি ও আক্রমণ থেকে রক্ষায় কাজ সচেষ্ট হবে ফেসবুক। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ফেসবুকের বৈশ্বিক নিরাপত্তা প্রধান অ্যান্টিগোন ডেভিস জানান, এখন থেকে প্রতিষ্ঠানটি অধিকারকর্মী ও সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করবে এবং এসব ব্যক্তি যেসব গ্রুপে রয়েছেন সেখানে কটূক্তি, হিংসাত্মক বক্তব্য ও হয়রানি বন্ধে নিরাপত্তার পরিমাণ বাড়াবে। ফেসবুক প্লাটফর্মে অবস্থানরত জনগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ওপর যেসব হামলা করা হয়ে থাকে, সেগুলো প্রতিরোধের ব্যবস্থা বাড়িয়েছে। মূলত, নারী, এলজিবিটিকিউ কমিউনিটি ও বিভিন্ন গোত্রের মানুষদের অনাকাক্সিক্ষত আক্রমণের হাত থেকে রক্ষার্থে গৃহীত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন নিয়মের আলোকে এখন থেকে ফেসবুক গুরুতর ও অবাঞ্ছিত যৌন বিষয়বস্তু প্রকাশ, অবমাননাকর সম্পাদিত ছবি কিংবা কারো ব্যক্তিগত প্রোফাইলে নেতিবাচক কমেন্ট করার সুযোগ দেবে না।
সামাজিক যোগাযোগের এ মাধ্যমটি ব্যক্তিগত পরিধির তুলনায় জনসম্মুখে বা জনপ্রতিনিধিদের পোস্টে অধিক সমালোচনামূলক বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দিয়ে থাকে। তবে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি সাংবাদিক ও অধিকারকর্মীদের প্রতি যেরূপ আক্রমণাত্মক আচরণ করা হয়, সেটি বন্ধে তাদের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনছে। মূলত এসব ব্যক্তি তাদের ব্যক্তিত্বের তুলনায় কাজের কারণে অধিক পরিচিত।
ফেসবুক জনপ্রতিনিধি বা জনগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও ব্যক্তিগতদের আলাদা নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ সামাজিক যোগাযোগ প্লাটফর্মে ব্যবহারকারীরা কাউকে ট্যাগ বা উল্লেখ না করে একজন সেলিব্রিটির মৃত্যুর কথা বলতে পারেন। তবে ফেসবুকের নতুন নীতি অনুসারে এখন কোনো ব্যবহারকারী কোনো অধিকারকর্মী, সাংবাদিকের মৃত্যুর বিষয়ে কথা বলতে পারবেন না।
অধিকারকর্মী, সাংবাদিক ব্যতীত আর কারা এ তালিকায় রয়েছেন, সে বিষয়ে ফেসবুক আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কিছু জানায়নি। চলতি বছরের শুরুতে ফেসবুক মার্কিন নাগরিক জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুসংক্রান্ত কটূক্তি ও উদযাপনমূলক কনটেন্ট সরিয়ে দেয়ার বিষয়ে জানিয়েছিল। কেননা তাকে অনিচ্ছাকৃত জনপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল।
কনটেন্ট যাচাই-বাছাইসহ প্লাটফর্মে সঙ্ঘটিত কিছু ঘটনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনপ্রণেতা ও নীতিনির্ধারকরা ফেসবুকের কড়া সমালোচনা করে আসছেন। কিছু দিন আগে ফেসবুকের বেশ কিছু গোপন নথি ফাঁস হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে সিনেটে শুনানিও অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে বিশ্বে ২৮০ কোটি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করছে। এত ব্যবহারকারীর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি কিভাবে জনপ্রতিনিধি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের পোস্ট ও কনটেন্ট কিভাবে পর্যালোচনা করবে সেটাই এখন দেখার সময় এসেছে।
অন্য দিকে, মুনাফা ধরে রাখতে শিশু ও কিশোর বয়সীদের মানসিক স্বাস্থ্যকে উপেক্ষা করার প্রমাণ পেলে শীর্ষ সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের তথ্য কমিশনার এলিজাবেথ ডেনহ্যাম। ফেসবুক ব্রিটিশ আইন লঙ্ঘন করছে কিনা, সেটি যাচাই করতে প্রতিষ্ঠানটির আলোচিত সাবেক কর্মী ও তথ্য ফাঁসকারী ফ্রান্সেস হাউগেনের কাছে তথ্য-উপাত্ত চেয়ে চিঠিও লিখেছেন তিনি।
ফ্রান্সেস হাউগেনের হাতে থাকা ফেসবুকের অভ্যন্তরীণ নথিপত্র ও গবেষণা প্রতিবেদন যুক্তরাজ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে এলিজাবেথ ডেনহ্যাম বিশ্লেষণ করে দেখতে চান। ফ্রান্সেস হাউগেন অভিযোগ তুলেছেন, মুনাফা নিশ্চিত করতে শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ধার ধারে না ফেসবুক নেতৃত্ব; সামাজিক বিভক্তি সৃষ্টি করে সহিংসতা উসকে দেয় এমন কন্টেন্ট ও ভুয়া খবরের প্রচারণা বন্ধেও আন্তরিক নয় প্রতিষ্ঠানটি। যদিও অভিযোগগুলো পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন মার্ক জাকারবার্গ।
সাংবাদিকদের সুরক্ষা দেবে ফেসবুক
বিশ্বের জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সব ধরনের কটূক্তি ও আক্রমণ থেকে রক্ষায় কাজ সচেষ্ট হবে ফেসবুক। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ফেসবুকের বৈশ্বিক নিরাপত্তা...



