বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ১৮ হাজার রোগীকে চিকিৎসা দেয়ার মতো ওষুধ দিয়েছে ডেল্টা ফার্মা। সোমবার সকালে ডেল্টা ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো: জাকির হোসেন ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো: মাহবুবুর রহমানের হাতে ওষুধগুলো হস্তান্তর করেন। এ সময় আরো আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির মহাসচিব এস এম শফিউজ্জামান।
ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর ওষুধগুলো স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাছে বুঝিয়ে দেবে যথাযথভাবে ব্যবহারের জন্য।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ২০ জন করোনা আক্রান্ত হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে গেছেন এবং দুইজন মারা গেছেন। সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট আক্রান্ত ২৭।
ডেল্টা ফার্মা দুই ধরনের ওষুধ দিয়েছে। এর একটি হলো হাইড্রক্সি ক্লোরোকুইন। এটা নিউমাটয়েড আথ্রাইটিস এবং সিস্টেমিক লুপাস ইরাইথিমেটোসাস (এসএলই) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হতো। এসএলই রোগটির পরিচিত নাম হলো লুপাস। ডেল্টার ডোনেট করা অপর ওষুধটির মা এজিথ্রোমাইসিন। এটা একটি অ্যান্টিবায়োটিক। এটা গলা অথবা ফুসফুসের সংক্রমণ হলে বেশ ভালো কাজ করে। সম্প্রতি চীনা চিকিৎসকেরা এই দুটি ওষুধ করোনায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে প্রয়োগ করে ফল পেয়েছেন। তারপর তারা বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকি ‘ন্যাচার’-এ এর গবেষণা ফল প্রকাশ করা হয়।
জানা গেছে, ন্যাচারে এর গবেষণা ফল প্রকাশ করা হলে এটা স্বাস্থ্য অধিদফতর ওষুধ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বাংলাদেশের যেসব ওষুধ কোম্পানি এসব ওষুধ উৎপাদন করে ওষুধ প্রশাসনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদফতর তাদের অনুরোধ জানায় স্বাস্থ্য অধিদফতরকে এসব ওষুধ প্রদানের জন্য। ডেল্টা ফার্মা তাদের অনুরোধ পেয়ে ১৮ হাজার রোগীকে চিকিৎসা করা যায় এমন ওষুধ সোমবার ওষুধ প্রশাসনকে দিয়েছে বিনামূল্যে।
তারা হাইড্রোক্সি ক্লোরোকুইন দিয়েছে তিন লাখ এবং এজিথ্রোমাইসিন দিয়েছে এক লাখ ২০ হাজার। জানা গেছে, এই দুইটি ওষুধের বাজার মূল্য প্রায় ৬৫ লাখ টাকা।
ওষুধ ডোনেশন অনুষ্ঠানে ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক বলেন, আমাদের কাছে করোনা চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট ওষুধ মজুদ আছে। তারপরও বাংলাদেশে আরো যেসব ওষুধ কোম্পানি এসব ওষুধ তৈরি করে তাদের অনেুরোধ করব জনস্বার্থে আরো বেশি ওষুধ তৈরি করে সরকারকে ডোনেট করুন।
তিনি জনসাধারণের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা নিজেরা এসব ওষুধ কিনে খাবেন না। কারণ ওষুধটির ডোজ একমাত্র চিকিৎসকেরাই জানেন। তারা রোগীর উপসর্গ অনুযায়ী ওষুধ প্রদান করে থাকেন।



