আনাদোলু
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি সুনিশ্চিত করতে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের প্রতি নিজেদের অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন পূর্বতিমুরের প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস-হোর্তা। জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে বুধবার দেয়া ভাষণে তিনি কূটনৈতিক এই বার্তা বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন। রামোস-হোর্তা বলেন, জাতিসঙ্ঘের সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের মতো পূর্বতিমুরও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে দ্বিরাষ্ট্র কাঠামোই একমাত্র বাস্তবসম্মত সমাধান। এর মাধ্যমে ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনি জনগণ উভয়ই পরস্পর শান্তিতে সহাবস্থান করতে পারবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বিদ্যমান অনিশ্চিত পরিস্থিতি জিইয়ে রাখার চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা কি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে নাকি শান্তির দিকে অগ্রসর হবেÑ বিশ্বকে এখন সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পূর্বতিমুরের প্রেসিডেন্ট আপে প্রকাশ করে বলেন, ফিলিস্তিনিদের দুঃখ-দুর্দশা চোখের সামনে দেখা সত্ত্বেও এবং আন্তর্জাতিক নানা সংস্থা থাকা সত্ত্বেও বিশ্বসমাজ ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা হত্যাযজ্ঞের বিষয়ে এক ধরনের সংবেদনহীন আচরণ করছে। অবিলম্বে কার্যকর সিদ্ধান্ত না নিলে বেসামরিক নাগরিক হত্যা ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে রূপ নেবে। তিনি মনে করিয়ে দেন, এই উদাসীনতা কোনো নিরপেতা হতে পারে না এবং নীরবতাও কারো নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। তিনি আরো উল্লেখ করেন, মৌলিক চাহিদার সংস্থান না করে সামরিক েেত্র অকাতরে অর্থ ব্যয় করে মানবজাতিকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এই প্রোপটে পারমাণবিক সমতাসম্পন্ন দেশগুলোকে আলোচনায় বসানো, ‘নো ফার্স্ট স্ট্রাইক’ নীতি গ্রহণ এবং আগামী এক দশকের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রাগার বিলুপ্তির ল্েয উদ্যোগ নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। পাশাপাশি জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্যপদ সম্প্রসারণ ও মৌলিক সংস্কারের ওপর তিনি জোর দেন।
অন্য দিকে জলবায়ু পরিবর্তনের য়তি সামলাতে ক্ষুদ্র দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর জন্য সহজ শর্তে ও অনুদানভিত্তিক অর্থায়নের জোরালো দাবি জানান পালাউয়ের প্রেসিডেন্ট সুরঙ্গেল হুইপস।
সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নে যেসব দেশের কোনো দায় নেই, অথচ যারা জলবায়ু ঝুঁকিতে সবচেয়ে বেশি জর্জরিতÑ তাদের অস্তিত্ব রায় ঋণের ফাঁদে ফেলা সমীচীন নয়। হুইপস জানান, পালাউয়ের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ৪৪ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিস্তার এবং সাশ্রয়ী নীতি ব্যবহারের মাধ্যমে এই ল্য অর্জন সম্ভব হবে।
