এএফপি ও ব্যাংকক পোস্ট
থাইল্যান্ডের দণি সীমান্তে পৃথক ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট ল্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সশস্ত্র লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে অঞ্চলটির মূল মালয়-মুসলিম গোষ্ঠী বারিসান রেভোলুসি ন্যাশনাল (বিআরএন)। সংগঠনটির এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে থাই সীমান্ত অঞ্চলে দীর্ঘকাল ধরে চলা সঙ্ঘাত নতুন করে আন্তর্জাতিক নজর কেড়েছে।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে এএফপিকে দেয়া বিশেষ সাাৎকারে সম্প্রতি বিআরএনের শান্তি আলোচনাবিষয়ক প্রতিনিধিদলের মুখপাত্র নিকমাতুল্লাহ সেরি এ বিষয়ে সংগঠনের স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, চূড়ান্ত দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। ঐতিহাসিকভাবে থাইল্যান্ডের দণিাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো মালয়-মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা, যা অতীতে স্বাধীন পাতানি সালতানাতের অংশ ছিল। ১৯০০-এর দশকের সূচনায় অঞ্চলটি তৎকালীন সিয়াম (বর্তমান থাইল্যান্ড) সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৬০-এর দশক থেকে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর একটি অংশ নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় পরিচয় ও স্বায়ত্তশাসনের অধিকার রায় সঙ্ঘাত শুরু করে। পরবর্তী সময়ে ২০০৪ সাল থেকে রক্তয়ী সশস্ত্র সহিংসতা নতুন মাত্রা পায়। পর্যবেণকারী সংস্থা ‘ডিপ সাউথ ওয়াচ’-এর তথ্যমতে, গত দুই দশকে এই সংঘর্ষে সাত হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
২০১৩ সাল থেকে প্রতিবেশী দেশ মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় থাই সরকার ও বিআরএনের মধ্যে ধারাবাহিক শান্তি সংলাপ চালু থাকলেও তা বারবার থমকে গেছে। গত জুলাই মাসে বন্দুক ও বোমা হামলায় পাঁচজন থাই সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার পর ব্যাংকক কর্তৃপ আলোচনা স্থগিতের ঘোষণা দেয়। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সহিংসতার সরাসরি দায় স্বীকার বা অস্বীকার না করলেও মুখপাত্র নিকমাতুল্লাহ সেরি জানান, অঞ্চলটিতে তাদের মূল ল্য রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
ব্যাংককের কাছে মতা ভাগাভাগির একটি অন্তর্বর্তী রূপরেখা প্রস্তাব করার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, পাঁচ থেকে ১০ বছর মেয়াদি সেই অন্তর্বর্তীকালীন শাসনে কেবল মুসলিমদের জন্য শরিয়াহভিত্তিক বিচার ও পুলিশি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর পরবর্তী ধাপে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থায়ী শাসনব্যবস্থা নির্ধারণের কথা বলেন তিনি। থাইল্যান্ডের সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চল হওয়ায় মালয়েশিয়ার নিরাপত্তাতেও এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব রয়েছে। এ দিকে থাই কর্তৃপরে অবস্থান অপরিবর্তিত; তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, সাংবিধানিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা অুণœ রেখে কেবল রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের পথ খোঁজা সম্ভব।
