আল-আমিন হোসাইন নাজিরপুর (পিরোজপুর)
উন্নত জাতের বীজ, কলম ও চারা এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সুবিধা পাওয়ার আশায় ছিলেন পিরোজপুরের নাজিরপুরসহ দণিাঞ্চলের কৃষকরা। তাদের প্রত্যাশা ছিল, সরকারি হর্টিকালচার সেন্টারটি চালু হলে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। তবে নির্মাণ ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও চালু হয়নি নাজিরপুর হর্টিকালচার সেন্টার। দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ পড়ে থাকায় সরকারি অর্থে নির্মিত এই স্থাপনা থেকে কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না কৃষকরা।
প্রায় ১০ একর জমির ওপর নির্মিত সেন্টারটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অধীনে পরিচালিত হওয়ার কথা। সারা দেশে কৃষকদের মধ্যে সুলভ মূল্যে উন্নত জাতের ফলজ, বনজ, ঔষধি ও সবজির চারা, কলম ও বীজ সরবরাহের পাশাপাশি উদ্যান পালন বিষয়ে প্রশিণ ও কারিগরি সহায়তা দেয়ার ল্েয ৭৩টি হর্টিকালচার সেন্টার নির্মাণের প্রকল্প নেয়া হয়। এর আওতায় নাজিরপুরেও সেন্টারটি নির্মাণ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালে সেন্টারটির অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ শেষ হয়। পরে প্রকল্প কর্তৃপরে কাছ থেকে এটি পিরোজপুর জেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে নির্মাণকাজ শেষ হলেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সেন্টারটির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় সেন্টারের মাঠে হোগলপাতা, কাশফুলসহ বিভিন্ন ধরনের আগাছা ও ঘাস জন্মেছে। স্থানীয়রা ওই মাঠ ধান শুকানো ও গবাদিপশু চরানোর কাজে ব্যবহার করছেন। সন্ধ্যার পর সেখানে মাদকের আড্ডা বসে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। ফলে কৃষকদের জন্য নির্মিত স্থাপনাটি এক দিকে যেমন অব্যবহৃত পড়ে আছে, অন্য দিকে এর অবকাঠামোও ধীরে ধীরে তির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় এক কৃষক বলেন, তাদের জানানো হয়েছিল সেন্টার থেকে উন্নত জাতের চারা, কলম ও বীজ কম দামে পাওয়া যাবে। কিন্তু বড় অবকাঠামো নির্মাণের পর দীর্ঘদিন ধরে সেখানে তালা ঝুলছে। কৃষকদের কোনো সেবা মিলছে না।
নাজিরপুর কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, সেন্টারটির জমি অধিগ্রহণ ও নির্মাণে মোট কত টাকা ব্যয় হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য স্থানীয় কার্যালয়ে নেই। ফলে প্রকল্পটির মোট ব্যয় সম্পর্কেও স্থানীয় পর্যায়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
পিরোজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, কৃষকদের জন্য উন্নত মানের চারা ও কলম উৎপাদন এবং বিতরণের ল্েযই হর্টিকালচার সেন্টারটি নির্মাণ করা হয়েছে। এর হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে এখনো পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। জনবল সঙ্কটের সমাধান হলে সেন্টারটির মাধ্যমে কৃষকরা উন্নত চারা ও কলম উৎপাদন-বিতরণের সুবিধা পাবেন। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামো দীর্ঘদিন অব্যবহৃত রেখে নষ্ট না করে দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল পদায়নের মাধ্যমে হর্টিকালচার সেন্টারটির কার্যক্রম চালু করা হোক।
কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নাজিরপুর হর্টিকালচার সেন্টার উদ্বোধনের পরই তালা
