বাসস

শিা এবং প্রাথমিক ও গণশিামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, উচ্চশিার জন্য বিদেশে যাওয়া শিার্থীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশকে আরো বিনিয়োগ করতে হবে। একই সাথে দেশের মেধাবী শিার্থীদের কাজে লাগিয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে ‘ব্রেইন ড্রেইন’ বা মেধাপাচারের প্রবণতাকে উল্টো দিকে ঘোরাতে হবে।
গতকাল রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশে চীনা দূতাবাস আয়োজিত ‘ঢাকা চায়না ডে ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শিামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে একটি শিা হাবে পরিণত করার ল্েয কাজ করা হচ্ছে। এক সময় মালয়েশিয়ার শিার্থীরা বাংলাদেশে পড়াশোনা করতে আসত। বর্তমানে বিপুলসংখ্যক শিার্থী উচ্চশিার জন্য মালয়েশিয়ায় যাচ্ছে। মালয়েশিয়া কীভাবে শিা হাবে পরিণত হয়েছে, বাংলাদেশকেও সেখান থেকে শিা নিতে হবে।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার নেতৃত্ব বিদেশে শিার্থীদের উচ্চশিার জন্য পাঠানোর পাশাপাশি তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিনিয়োগ করেছে। বাংলাদেশেও বিদেশে পড়াশোনা করা শিার্থীদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের জ্ঞান ও দতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
এ সময় এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ মানবসম্পদ। দেশের তরুণ ও শিার্থীদের জ্ঞান, দতা, অধ্যবসায় ও পরিশ্রমকে কাজে লাগাতে হবে। বিদেশে বাংলাদেশী শিার্থীদের মেধা ও সাফল্যের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, চীনের উন্নয়ন থেকে বাংলাদেশ শিা নিতে পারে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কম্পিউটার, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিা এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিাপ্রতিষ্ঠানের সংযোগ তৈরির েেত্র চীনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো যেতে পারে।
বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে শিামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে শিা ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন েেত্র আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিণ খাতের উন্নয়নেও চীনের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। চীনের শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কারিগরি ও পলিটেকনিক শিা প্রতিষ্ঠানের যে সংযোগ রয়েছে, বাংলাদেশেও এ ধরনের শিল্প-শিা সংযোগ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এহছানুল হক মিলন আরও বলেন, বাংলাদেশে তৃতীয় ভাষা শেখানোর বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিার্থীদের তৃতীয় একটি ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। এ েেত্র চীন সহযোগিতা করতে আগ্রহী।
তিনি বলেন, শিা জাতির সাফল্যের চাবিকাঠি। শিাব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রাথমিক থেকে উচ্চশিা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. ফরাসউদ্দিন বক্তব্য রাখেন। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক শামস রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।