আতিকুর রহমান ঝালকাঠি
ঝালকাঠির সুগন্ধা, বিষখালী, হলতা ও গাবখান নদীতে ইলিশের আশায় জাল ফেলেও কাক্সিক্ষত মাছ পাচ্ছেন না জেলেরা। দিনভর নদীতে ঘুরে যে পরিমাণ মাছ মিলছে, তাতে নৌকার জ্বালানি, বরফ, জালসহ মাছ ধরার খরচই অনেক সময় উঠছে না। এর মধ্যে এনজিওর ঋণের কিস্তি এবং নৌকা-জাল কেনা বা মেরামতের জন্য মহাজনের কাছ থেকে নেয়া দাদন পরিশোধের চাপ রয়েছে। সামনে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ায় দুশ্চিন্তা আরো বেড়েছে তাদের।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া, দেউরি, বাদুরতলা ও চল্লিশকাউনিয়া এলাকার নদীর পাড়ে গিয়ে জেলেদের সাথে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন নলছিটি উপজেলার মাটিভাঙ্গা এলাকার জেলেরাও।
জেলেরা জানান, ইলিশের মৌসুমকে সামনে রেখে কয়েক মাস আগে থেকেই নৌকা ও জাল প্রস্তুত করতে হয়। অনেকেই এ জন্য এনজিও থেকে ঋণ কিংবা মহাজনের কাছ থেকে দাদন নেন। মৌসুমে ভালো মাছ পেলে মাছ বিক্রির আয় দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা থাকে তাদের। কিন্তু চলতি মৌসুমে আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় সেই হিসাব মিলছে না।
সদর উপজেলার দেউরি গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী জেলে নুরু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে মাছ ধরেন। তিনি বলেন, নদীর কোন এলাকায় কখন মাছ পাওয়া যায়, সে বিষয়ে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু এবার জাল ফেলেও আগের মতো ইলিশ মিলছে না। অনেক সময় সারাদিনে যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যায়, তাতে নৌকার তেলের খরচও ওঠে না। সামনে নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে আয় বন্ধ হয়ে যাবে। তখন সংসার চালানো ও ঋণের টাকা পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে।
একই গ্রামের জেলে আকাব্বর মৃধা ছেলেকে সাথে নিয়ে মাছ ধরেন। মৌসুমের আগে নৌকা ও জাল কেনা-মেরামতের জন্য ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। চার-পাঁচ মাস মাছ ধরে সেই ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা থাকলেও আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় তা সম্ভব হচ্ছে না। তার ভাষায়, মাছ কম পাওয়ার পাশাপাশি নৌকার তেল, জাল ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় হাতে তেমন টাকা থাকছে না।