মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২-এর অপপ্রয়োগ বন্ধের দাবি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির কাছে দীর্ঘদিনের ছিল। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সভাপতি মোহাম্মদ আবুল বাসারের সংগঠনের পক্ষে এই দাবির প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রিক্রুটিং এজেন্সিকে হয়রানি না করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন বলে বায়রার নেতৃবৃন্দ জানান। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে গত ২৪ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে একদিকে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে বায়রার সদস্যরা সম্মানের সাথে ব্যবসা করতে পারছে। আজকে দেশে বৈধপথে যে রেমিট্যান্স আসছে এই সকল প্রবাসীরা বায়রার মাধ্যমে বৈধপথে বিদেশ গেছে বলে দাবি করেন আবুল বাসার।

বুধবার রাতে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে রিক্রুটিং এজেন্সি ফ্রেন্ডস এসোসিয়েটস (রাফা) আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বায়রার সভাপতি ও অন্যান্য বক্তারা এসব কথা জানান। বায়রার সাধারণ সদস্যদের দীর্ঘ দিনের বহুল আকাঙ্খিত দাবি বাস্তবায়ন করার জন্য রিক্রুটিং এজেন্সি ফ্রেন্ডস এসোসিয়েটসের (রাফা) আয়োজনে মোহাম্মদ আবুল বাসারসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সকল সদস্যক সংবর্ধনা দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক বায়রা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমদ এমপি। রাফা সভাপতি মোহাম্মদ আবুল বারাকাত ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বায়রা সভাপতি মোহাম্মদ আবুল বাসার, বায়রা মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী হায়দার চৌধুরী, বায়রার সহ-সভাপতি রিয়াজ-উল-ইসলাম, বায়রা সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন (স্বপন), রাফার সাধারণ সম্পাক মো: ফরিদ আহমেদ, রাফার সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন প্রমুখ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমদ বলেন, বায়রার সমস্যার শেষ নেই। একটার পর একটা সমস্যা লেগেই থাকে। মানব পাচার আইন বায়রার মূল সমস্যা ছিল। এই আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধ হওয়ায় একদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে, অন্যদিকে বায়রার সদস্যরা সম্মানের সাথে ব্যবসা করতে পারছে। আজকে সংসদে রেমিট্যান্স নিয়ে কথা হয়। এই রেমিট্যান্স প্রবাহের অন্যতম কারিগর বায়রা। কারণ তাদের মাধ্যমে বৈধপথে পাঠানো প্রবাসী ভাই-বোনেরা আজকে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে। মানব পাচার আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধ হওয়ায় একদিকে রেমিট্যান্স বেড়েছে, অন্যদিকে বায়রা সদস্যদের হয়রানি বন্ধ হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা সবসময় মানব পাচার আইনের অপপ্রয়োগ বন্ধের পক্ষে। আমরা বৈধভাবে বিএমইটির মাধ্যমে বৈধপথে বিদেশে লোক পাঠাই। অথচ এই আইনের অপপ্রয়োগের ফলে আমরা হয়রানির শিকার হতাম। অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। মান-সম্মান নিয়ে বাকি জীবন কাটিয়ে দিতেন। কারণ আমাদের সমাজে একটা অবস্থান আছে। অনেক সময় বিনা কারণে র‌্যাব ধরে নিয়ে গিয়ে সংবাদ সংবাদ সম্মেলন করে। এতে সমাজে বেঁচে থাকার মতো উপায় থাকে না। আমরা এমন আইন চাই, যারা অবৈধভাবে বিদেশে লোক পাঠায় তাদের ধরা হোক।

বায়রা সভাপতি মোহাম্মদ আবুল বাসার বলেন, আমরা নানা ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে। এই জন্য ৬৮০ জনকে ১ লাখ করে টাকা দিয়েছি। সৌদি দূতাবাসে সমস্যা ছিল, এটাও সমাধান করেছি। এখন বছরে ৭ থেকে ৮ লাখ মানুষ সৌদি আরবে গিয়ে দেশের জন্য অবদান রাখছেন। বিএমইটিতে একসময় স্মার্ট কার্ডের চেহারা বোঝা যেত না এটা সমাধান করেছি। তিনি বলেন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অনেক সময় বিনা কারণে আমাদের হয়রানি করে। আমাদের তখন সম্মান ও মর্যাদা বলতে কিছু থাকে না।