রাজধানীতে তাবলীগ জামাতের দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষই বেশ মারমুখী অবস্থান নিয়েছে। উত্তরার বিমানবন্দরের কাছে আশকোনায় আজ সকালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সড়কের এক পাশে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঘটনাস্থলে বিপুল পরিমাণ আইন শৃঙ্খলারক্ষা বাহিনী উপস্থিত আছেন বলে জানা গেছে। উভয় পক্ষের মধ্যে যেকোন সময় বড় ধরণের সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জানা যায়, শুক্রবার থেকে টঙ্গীর বিশ্ব এজতেমা ময়দানে তবলীগ জামাতের যে জোড় এজতেমা শুরু হওয়ার কথা ছিল তা এক পক্ষের বাধার কারণে পন্ড হয়ে গেছে। পুরো এজতেমা ময়দান এখন জোবায়ের দেওবন্দ কওমিপন্থীদের দখলে।

সা’দপন্থী তাবলীগ জামাতের মুরব্বিরা ৩০ নবেম্বর শুক্রবার থেকে ৫ দিনব্যাপী জোড় এজতেমার ডাক দিলে জোবায়েরপন্থী কওমী আলেমরা এর বিরোধিতা করে জোড় এজতেমা প্রতিহতের ডাক দেয়। এ পর্যায়ে দুপক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমাবেশ ঘটায় স্থানীয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাত থেকে দু’পক্ষ প্রস্তুতি নিতে থাকে এজতেমা ময়দানের দখল নিতে। শুক্রবার সকালে সা’দপন্থীরা বাস-ট্রাকে করে জোড় এজতেমায় যোগ দিতে এসে দেখে গেটগুলোতে তালা। কিছুক্ষণ অবস্থানের পর সা’দপন্থী মুসল্লিরা এজতেমা ময়দান ত্যাগ করেন। এরপরেই দু’পক্ষ মারমুখী অবস্থান নিয়ে আশকোনায় অবস্থান করছেন।


তাবলীগ জামাতের মধ্যে বেশ কয়েক বছর ধরেই বিভক্তি দেখা যাচ্ছে। সাদপন্থী ও কওমীপন্থীদের মধ্যকার একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তাদের বিভক্তির কারণে ২০১৯ সালের বিশ্ব ইজতেমাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এরই প্রেক্ষিতে সরকারের আস্থাভাজন হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লাম আহমদ শফী সাম্প্রতিক কালে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করে চিঠি দিয়েছেন।

গত ৯ সেপ্টেম্বর তাবলিগ জামাতের মারকাজ নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর কাকরাইল মসজিদে তাবলিগ জামাতের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হজ শেষে সৌদি আরব থেকে ফিরে সাদপন্থী তাবলিগের মুরব্বিরা কাকরাইল মসজিদে প্রবেশ করতে গেলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।