সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর সিলেট বিভাগে হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮০ জনে। একই সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ২০১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নতুন করে মৃত্যু হওয়া শিশু নয় মাস বয়সী আফরোজা সিলেট সদর উপজেলার বাসিন্দা। শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে সন্দেহজনক হাম ও উপসর্গ নিয়ে ২০১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৫৯ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৬০ জন, জালালাবাদ রাগিব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনজন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারজন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৫ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫৮ জন ভর্তি হয়েছেন।
নতুন রোগী ভর্তি বাড়ায় বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬২৬ জন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৫৭ জন, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৭৯ জন, জালালাবাদ রাগিব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৫ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে তিনজন, পার্কভিউ মেডিক্যাল হাসপাতালে আটজন, কোম্পানীগঞ্জে ছয়জন, বিশ্বনাথে তিনজন, বিয়ানীবাজারে পাঁচজন, গোলাপগঞ্জে নয়জন, ফেঞ্চুগঞ্জে পাঁচজন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৮৩ জন, ধর্মপাশায় একজন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে তিনজন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৪৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম ও উপসর্গে মোট ১৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সন্দেহজনক হাম রোগে ১৭০ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। জেলা হিসেবে সিলেটে ৭৩, হবিগঞ্জে ২৬, মৌলভীবাজারে ১৫ এবং সুনামগঞ্জে ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিভাগে মোট এক হাজার ৬৯ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটে ৩৯৬, হবিগঞ্জে ১৫৮, মৌলভীবাজারে ১৫৮ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে নিশ্চিত হাম শনাক্ত না হলেও হাসপাতালে সন্দেহজনক রোগী ভর্তির সংখ্যা দুই শতাধিক ছাড়িয়েছে।
গত রোববারও হাম-উপসর্গে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। সোমবার মৃত্যু হয় আরো এক শিশুর। ফলে টানা তিন দিনে বিভাগে হাম ও উপসর্গে আরো চার শিশুর মৃত্যু হলো।
