সাভারের তেঁতুলঝোড়ায় একেএইচ স্টিচ আর্ট লিমিটেড গার্মেন্টস কারখানায় অসুস্থ হয়ে মোসা: ফাতেমা বেগম (২৬) নামে এক নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এসময় সহকর্মীর মৃত্যু আতঙ্কে অন্য শ্রমিকদের দৌড়াদৌড়িতে আরো ২৪ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

মৃত মোসা: ফাতেমা বেগম রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার মো: ওয়াজেদ মিয়ার মেয়ে। 

গার্মেন্টস কারখানার কর্মকর্তা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে সুইং সেকশনের মোসা: ফাতেমা বেগম কারখানায় আসার পর তৃতীয় তলায় উঠলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে বসে পড়েন। পরে আশেপাশের সহকর্মীরা তাকে প্রথমে স্থানীয় ইউনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। 

পরে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

এ ঘটনার সময় সহকর্মী অন্য শ্রমিকদের দৌড়াদৌড়িতে অন্তত ২৪ জন নারী শ্রমিক আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর তারা বাড়ি চলে যান। 

এ ঘটনায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানা কর্তৃপক্ষ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। পরে শ্রমিকরা যার যার বাড়িতে চলে যান। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো: রফিকুল ইসলাম সুজন কর্মস্থলে শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং নিহত শ্রমিকদের আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।

একেএইচ কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: জহির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নয়াদিগন্তকে জানান, মৃত নারী শ্রমিক ফাতেমা সকালে কারখানায় অন্য শ্রমিকদের সাথে আসার পর তার কর্মস্থল ৫ তলায় ওঠার সময় তৃতীয় তলায় অসুস্থ হয়ে বসে পড়েন। পরবর্তীতে হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়াও সহকর্মীর মৃত্যু আতঙ্কে দৌড়াদৌড়িতে আরো ২৪ শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন।

শিল্প পুলিশ-১ (আশুলিয়া)-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া গতকাল এক নারী শ্রমিকের অসুস্থতাজনিত কারণে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, একই কারখানায় গত ১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সুইং অপারেটর কুলসুম (২৭) আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। কর্তৃপক্ষ ছুটি না দিলে এ নিয়ে কারখানার এক সুপারভাইজারের সাথে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সেই নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।