ভোলার চরফ্যাশনে গরু ব্যবসায়ী আবুল বাশার হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সাইদুল ইসলাম জমাদার ও তার স্ত্রী সালমা বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দক্ষিণ আইচা থানার নজরুলনগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে সাইদুলকে আদালতে পাঠানো হয়। অসুস্থ থাকায় সালমা বেগমকে পুলিশ হেফাজতে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
নিহতের ছোট ভাই ইব্রাহিম জানান, সাইদুল ও সালমার সাথে জুয়েল নামে এক ব্যক্তির লগ্নির টাকা নিয়ে বিরোধ ও মামলা চলছিল।
ওই মামলায় জুয়েলকে ঘায়েল করতে না পেরে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আরেকটি মামলা করা হয়। মামলায় আবুল বাশারকে সাক্ষী করা হয়েছে। তবে বাশার মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী মিলে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে সালমা বেগম মোবাইল ফোনে আবুল বাশারকে তার বাড়িতে ডেকে নেন। তখন স্থানীয় বাবুরহাট বাজারে থাকা বাশার ফোন পেয়ে সালমার বাড়িতে যান। সেখানে শরবতের সাথে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে তাকে খাওয়ানোর পর হত্যা করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে বাড়ির পুকুরে খুঁটি গেড়ে পানিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুর থেকে গলা ও পেট কাটা অবস্থায় বাশারের লাশশ উদ্ধার করে।
দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সাইদুল ইসলাম জমাদারকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তার স্ত্রী সালমা বেগম শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় পুলিশ হেফাজতে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’
