নীলফামারী প্রতিনিধি
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ১ নম্বর ভোগডাবুড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ছাদে গড়ে তোলা হয়েছে হাঁস ও ছাগলের খামার। প্রতিষ্ঠানটির ফার্মাসিস্ট পলাশ চন্দ্র দীর্ঘ দিন ধরে বহুতল ভবনের ছাদে পশু-পাখি পালন করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিন দেখা গেছে, কেন্দ্রটির সামনের অংশ জঙ্গলে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। চার দিকের ময়লা-আবর্জনা ও ঝোপঝাড়ের কারণে দূর থেকে দেখলে মনে হয় ভবনটি পরিত্যক্ত। ফার্মাসিস্ট পলাশ সর্বদাই প্রধান ফটক বন্ধ রাখেন। রোগী ও স্বজনদের বেশ কসরত করে ভেতরে ঢুকতে হয়। ভবনের ছাদে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি চেয়ার-টেবিল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে ছাগল ও হাঁসের ঘর। সেবা দেয়ার চেয়ে পশু-পাখির পরিচর্যাতেই সময় কাটে তার।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সপ্তাহে ছয় দিন কেন্দ্র খোলা রাখার কথা থাকলেও সেখানে মাত্র তিন দিন সেবা মেলে, তা-ও বেলা একটার পর। মূল ফটক বন্ধ দেখে প্রতিদিন বহু রোগী সেবা না পেয়ে ফিরে যান। এতে দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ঘরের মেঝেময় পশু-পাখির বিষ্ঠা পড়ে থাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চরম দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও পলাশ চন্দ্র কারও কথা শোনেননি।
ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য তাকদীরুল আহসান সোহেল বলেন, কেন্দ্রটি আমার বাড়ির পাশে। বারবার নিষেধ করেও লাভ হয়নি। সামনের জায়গা নোংরা পরিবেশ বানিয়ে রাখা হয়েছে। সন্তানকে টিকা দিতে গিয়েও গেট বন্ধ পেয়েছি। অভিযোগ প্রসঙ্গে ফার্মাসিস্ট পলাশ চন্দ্র বলেন, পরিবারের জন্য হাঁস-ছাগল পালন করছি। সংসার চালাতে যা যা করা দরকার, আমি তাই করব। এসব পালনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি আছে।
তবে ডোমারে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ছাদে হাঁস-ছাগল পালনের বিষয়টি অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেছেন ডোমার ইউএনও শায়লা সাঈদ তন্বী। তিনি জানান, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনিব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তবিবুর রহমান বলেন, খুব দ্রুত কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। নীলফামারী পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের উপপরিচালক আল কামাল জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।





