রফিক আহমদ চকরিয়া (কক্সবাজার)
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের ডুলাহাজারা বনবিটের সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে গড়ে উঠছে অবৈধ বসতি ও বিভিন্ন স্থাপনা। বনভূমির জায়গা দখল করে পাকা ঘরবাড়ি, খামার ও মুরগির খামার নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এতে সংরক্ষিত বনভূমি সঙ্কুচিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ডুলাহাজারা রেলওয়ে স্টেশনের পাশে বনবিট কার্যালয়ের কাছাকাছি এলাকায় গত এক মাসে নতুন করে বেশ কয়েকটি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। প্রভাবশালী একটি চক্র বনভূমি দখলের সাথে জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, দখলদারদের সাথে বন বিভাগের কোনো কোনো অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ থাকায় দখল ঠেকানো যাচ্ছে না। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ডুলাহাজারা রেলওয়ে স্টেশনের পাশের সংরক্ষিত বনভূমিতে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয় পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা জানান, দখলের কারণে পুরনো গর্জনসহ বিভিন্ন মূল্যবান গাছ কাটা হচ্ছে। এতে বনভূমির পরিমাণ কমার পাশাপাশি এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহলের দাবি, শুধু অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেই হবে না। উচ্ছেদের পর পুনরায় যাতে দখল না হয়, সে জন্য নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। একই সাথে বনভূমি দখলের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান তারা।
ডুলাহাজারা বনবিট কর্মকর্তা শাহরিয়ার আমিন বনভূমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তবে দখলদারদের পক্ষ থেকে প্রাণনাশের হুমকির আশঙ্কা থাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে।
ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) কামরুল হাসান বলেন, ডুলাহাজারা বনবিটের ওই এলাকায় ইতোমধ্যে কয়েকবার অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা ও মুরগির খামার উচ্ছেদ করা হয়েছে। অভিযানের পর জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।





