নিজের জমি নেই এক বিঘাও। অথচ বছরের পর বছর স্থানীয় অসহায় মানুষদের জিম্মি করে প্রায় ১৬ একর ফসলি জমি দখল করে সেখানে মাছের ঘের, কলা ও লেবু বাগান করে এক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট গ্রামের জাহিদুল ইসলাম জুয়েল। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে ভোলাকোট ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগ নেতা। বিগত চার বছর ধরে তিনি ভোলাকোট গ্রামের কেন্দ্রীয় ঈদগাঁয়ের পূর্ব পাশের ১৬ একর কৃষি জমি দখল করে রাখেন। এ ঘটনায় কৃষিজমির মালিক আরিফ হোসেনসহ ভুক্তভোগীরা দু’টি নন জিআর ও তিনটি সিআর মামলা দায়ের করেন।
এরপর দীর্ঘ তদন্ত ও শুনানি শেষে গত বৃহস্পতিবার রামগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মনিরা খাতুনের নেতৃত্বে প্রশাসন এসে ওই কৃষিজমির চারপাশের বাঁধ উচ্ছেদ করে দেয়। জমির মালিক আবদুল কাদের, আবদুল আজিজ, নুরজাহান বেগম, রেহানা বেগম ও আরিফ হোসেন জানান, ২০১৮ সালে একটি মহলের ইন্ধনে ও সহযোগিতায় জাহিদুল ইসলাম জুয়েল জোর করে তাদের কৃষিজমি জবর দখল করেন। জুয়েল প্রথমে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমির মালিকদের জিম্মি করে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করেন। কৃষি জমিগুলো গর্ত হয়ে যাওয়ার পর তিনি পরে প্রায় ১৬ একর জমি দখল করে চারপাশে বাঁধ দিয়ে মাছের ঘের, কলা ও লেবুর বাগান করেন। এ সময় বাধা দিতে গিয়ে অনেকেই মারধরের শিকার হন। তার পালিত সন্ত্রাসী ও মাদকসেবীদের ভয়ে কেউ মুখ খোলারও সাহস পায়নি। উপরন্ত জমির মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাদেরকে তটস্থ করে রাখেন জাহিদুল ইসলাম জুয়েল।
জাহিদুল ইসলাম জুয়েল নলচরা গ্রামের রুহুল আমিনের ৪৭ শতক জমি দখল করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির এক মামলায় বর্তমানে জেলা কারাগারে আটক থাকায় এ ঘটনায় তার কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
রামগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মনিরা খাতুন বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে বেশ কয়েকবার জুয়েলকে নোটিশ দিয়েছি। কিন্তু তিনি পরোয়া করেননি।
রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন ইসলাম জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কৃষি কর্মকর্তাসহ জমির প্রকৃত মালিকদের সাথে কথা বলেছি। সরেজমিন দেখি, অনেক ফসলি জমি এরইমধ্যে নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। জমিগুলো উদ্ধার ও প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করতে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও চারপাশের বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে।
