‘আমি মরে গেছি। আমাকে তারা বার বার মারার চেষ্টা করছে। আমার এক মেয়েকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করেছে ওরা। আমার হৃদয়ের সেই ক্ষত এখনো শুকায়নি। এখন আবার আমার ছোট মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়েছে শয়তানের দল। আমি শেষ হয়ে গেছি।’ এভাবেই নিজের হৃদয়ের ক্ষত ব্যক্ত করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন লোকমান হোসেন নামের এক বাবা। পেশায় তিনি গ্রাম পুলিশের একজন সদস্য।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় গ্রাম পুলিশ লোকমান হোসেনের ভাটরা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণীতে পড়–য়া শিশু মেয়েটিকে দুই যুবক মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে বাড়ির পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে ধরে নিয়ে যায় পার্শ্ববর্তী এক সুপার বাগানে। সেখানে মেয়েটিকে ধর্ষণ চেষ্টার সময় শিশুটির আর্তচিৎকারে বাড়ির লোকজন এগিয়ে এলে ধর্ষণচেষ্টাকারী দুই যুবক পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ওই রাতেই শিশুটির বাবা লোকমান হোসেন বাদি হয়ে বাউরখাড়া গ্রামের মন্দার বাড়ির আবদুল হান্নানের ছেলে শাহরিয়ার আলম (২০) ও মোহাম্মদপুর গ্রামের চৌকিদার বাড়ির আবদুর রহিমের ছেলে রবিন হোসেনকে (২১) আসামি করে রামগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পরই গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে রামগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযুক্ত শাহরিয়ার আলম ও রবিন হোসেনকে গ্রেফতার করে।
ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা লোকমান হোসেন বলেন, ২০২১ সালে আমার মেয়ে প্রিয়া আক্তার ফাতেমাকে (১৪) একই ইউনিয়নের বাউরখাড়া গ্রামের মন্দার বাড়ির হারুন মিয়ার ছেলে বাহার হোসেন ধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এ ঘটনায় আমি রামগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ বাহার হোসেনকে আটক করে। বর্তমানে জেলে রয়েছে বাহার হোসেন। এক মেয়ে হারানো সেই ক্ষত না শুকাতেই আবার ছোট মেয়েকে ধর্ষণ চেষ্টা চালায় বখাটেরা।
রামগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, ধর্ষণ চেষ্টায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। আসামি দুইজনকে গ্রেফতার করে বুধবার লক্ষ্মীপুর আদালতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।