কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা
পিরোজপুরের কাউখালীতে চলতি মৌসুমে আমড়ার বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পেয়ে মুখে হাসি ফুটেছে স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীদের। কাউখালীর মোকামগুলো থেকে এখন প্রতিদিন কোটি টাকার আমড়া চালান হয়ে যাচ্ছে ঢাকা, চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জ, খুলনা, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং দেশের বাইরেও।
উপকূলীয় জেলা পিরোজপুরের কাউখালীতে ৮০-এর দশক থেকেই বাণিজ্যিকভাবে আমড়া চাষ শুরু হয়। ফলটি অত্যন্ত লাভজনক এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় দিন দিন এর চাষ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বর্তমানে উপজেলার পতিত জমি, সরকারি খাস জমি লিজ নিয়ে, সড়ক ও জনপথের দুই ধারে এবং অধিকাংশ বাড়িতে নিজস্ব উদ্যোগে ব্যাপক হারে আমড়ার চাষ করা হচ্ছে।
প্রতি বছর আষাঢ় থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত কাউখালীর হাট-বাজার ও মোকামগুলোতে আমড়া কেনাবেচার ধুম পড়ে। উপজেলার আমড়া অত্যন্ত সুস্বাদু ও উন্নত মানের হওয়ায় দেশজুড়ে এর রয়েছে বিশাল চাহিদা।
কাউখালী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪০ সেক্টর জমিতে আমড়া চাষ করা হয়েছে যার উৎপাদন প্রায় ৬০০ টন।
আমড়া ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন ও হাফিজ খান জানান, কাউখালী থেকে প্রতিদিন গড়ে ট্রাক ও ট্রলারে করে ২০০ থেকে ২৫০ বস্তায় প্রায় ৩০০ মণ আমড়া দেশের বিভিন্ন পাইকারি মোকামে পাঠানো হচ্ছে।
আমড়া বাংলাদেশের একটি সুপরিচিত ও জনপ্রিয় ফল। এটি পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ ছাড়াও ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও লৌহের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ। ফলে এটি যেমন স্থানীয়দের ভিটামিনের চাহিদা মেটাচ্ছে, তেমনি বাম্পার ফলনে অর্থকরী ফসল হিসেবে চাষিদের লাভবান করছে।
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা কৃষি অফিসার সোমা রানী দাস জানান, আমড়া একটি দ্রুত বর্ধনশীল গাছ। অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে এ গাছ বৃদ্ধি পায় এবং ফল দেয়া শুরু করে। পরিকল্পিতভাবে আমড়া চাষ বৃদ্ধি করতে পারলে একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে চাষিরা প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ও অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।















