বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. শূচিতা শরমিনের পদত্যাগের দাবিতে আগামীকাল (মঙ্গলবার) দক্ষিণবঙ্গ অচল করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
সোমবার (১২ই মে) দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রান্ডফ্লোরে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে এ অবরোধের ঘোষণা আসে।
বিক্ষোভকালে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘ভিসির পদত্যাগের দাবিতে আজ ২৮তম দিনে তারা ব্লকেড কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, বারবার রাষ্ট্রপক্ষকে জানানোর পরেও কোনো সাড়া মেলেনি।’
শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, ‘যদি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ হয়, তার জন্য কর্তৃপক্ষই দায়ী থাকবে। তারা স্পষ্ট ভাষায় জানান, আগামীকাল দুপুর ১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে যদি ভিসি শূচিতা শরমিনকে অপসারণ করা না হয়, তবে তারা দক্ষিণবঙ্গ অচল করে দেবেন। ‘
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সুজয় বিশ্বাস শুভ বলেন, ‘আমাদের যৌক্তিক আন্দোলন মেনে নিয়ে ভিসিকে সরিয়ে দেয়ার জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের কথায় কোনো কর্ণপাত করেননি। আগামীকাল ২টার মধ্যে যদি ভিসি পদত্যাগ না করেন, তাহলে আমরা দক্ষিণবঙ্গ অচল করে দেয়ার ঘোষণা দিচ্ছি।’
আরেক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আন্দোলনের ২৮তম দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা আগামীকাল থেকে ব্লকেড কর্মসূচিতে যাচ্ছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক মুস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের সকল যৌক্তিক আন্দোলনের সাথে একাত্মতা পোষণ করছি।’
কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবারের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ভিসির স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণে কেউই ভালো নেই। এই ফ্যাসিস্ট মনোভাবের স্বৈরাচারী ভিসি যদি বহাল থাকেন, তাহলে এই বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস হয়ে যাবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষার স্বার্থে আমরা শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করে তাদের পাশে আছি।’






