শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আট ছাত্রলীগকর্মীকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ৭ জনকে এক সেমিস্টারের জন্য ও একজনকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়। শনিবার রাতে সিন্ডিকেট সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন একাধিক সিন্ডিকেট সদস্য।
সিন্ডিকেট সূত্র জানায়, গত ২৩ মার্চ বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিভাগ ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক রাজীব সরকারের উপর হামলার ঘটনায় সাত শিক্ষার্থীকে এক সেমিস্টার বহিষ্কারের পাশাপাশি বিভিন্ন বিভিন্ন অঙ্কের টাকা জরিমানা করা হয়। ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ না করলে আরও এক সেমিস্টার বহিষ্কার করার সুপারিশও করা হয় তাদের। এ সাতজনই শাখা ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেনের অনুসারী।
অন্যদিকে ২০১৮ সালের ২৫ মার্চ শাবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান নাঈমকে ছুরিকাঘাত করার ঘটনায় সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাবি ছাত্রলীগের গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদ রাসেলকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ডিকেট।
রাজীবের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুস্তাকিম আহমেদ মুস্তাককে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানান একজন সিন্ডিকেট সদস্য।
এক সেমিস্টরের জন্য বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হলেন- লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাবি ছাত্রলীগ সদস্য এম এ আরিফ (১০ হাজার টাকা জরিমানা), একই বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাবি ছাত্রলীগের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বারী সজিব (৮ হাজার টাকা জরিমানা), শাবি ছাত্রলীগের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের যুগ্ম সম্পাদক সুমন মিয়া (৩ হাজার টাকা জরিমানা), ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী মো: রিশাদ ঠাকুর (৮ হাজার টাকা জরিমানা), ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাবি শাখা ছাত্রলীগের এপ্লায়েড সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের সহ-সভাপতি মাহবুব আল আমিন শোভন (৭ হাজার টাকা জরিমানা), বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও বিভাগ ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক কাওসার আহমেদ সোহাগ (৫ হাজার টাকা জরিমানা), কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী ও বিভাগ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার আহমদ রানা (৬ হাজার টাকা জরিমানা)।
এ সাতজনের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরণের মারামারিতে জড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয় সিন্ডিকেট সভায়।



