জার্মানির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরও ভিসা পেতে দেরি নিয়ে গত কয়েকমাস ধরে অভিযোগ করছেন অনেক বাংলাদেশী শিক্ষার্থী। এ সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ঢাকায় নবনিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত আখিম ট্র্যোস্টার।

০১. শিক্ষার্থী ভিসার ক্ষেত্রে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে কেন?

শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করতে দূতাবাসের যে সামর্থ্য, ভিসার চাহিদা তার চেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে, আবেদনের সংখ্যা আরো বাড়ছে। তাই অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার জন্য ‘অপেক্ষার' (waiting) সময় বাড়াতে হচ্ছে৷ করোনা মহামারীর কারণে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে।

০২. শিক্ষার্থী ভিসার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার ‘অপেক্ষার' সময় কত দিন?

২০২০ সালের শুরুর দিকে এ সময় এক বছরের বেশি ছিল। অনলাইনে আবেদন পূরণের সময় এই তথ্য দেয়া হয়েছে। সব আবেদনকারীকে জানানো হয়েছিল, পরীক্ষা কিংবা ভর্তির সময়সীমা শেষের দিকে থাকলেও অপেক্ষার সময় কমানো সম্ভব নয়।

০৩. অপেক্ষার সময় দ্রুত কমানোর কোনো উপায় কি আছে?

দুর্ভাগ্যবশত না - ভিসা সেকশনের কাজ নতুন করে সাজানোর অবাস্তব পরামর্শ সত্ত্বেও নয়।

ভিসা সেকশন যতটুকু সম্ভব আবেদন গ্রহণ ও তা নিয়ে কাজ করছে। করোনা মহামারীর কারণে আমাদের ক্লায়েন্ট ও কর্মীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভাবতে হচ্ছে। সবসময় সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হচ্ছে। আরো ডকুমেন্ট গ্রহণ সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রক্রিয়ায় গতি আনবে না। ভিসার আবেদন নিষ্পত্তির বিষয়টি শুধু কাউন্টারের সংখ্যার উপর নয়, কোনো একজন কর্মীর দক্ষতার উপরও নির্ভর করে। ইতিমধ্যে বিপুল সংখ্যক আবেদন পাওয়া গেছে এবং সেই সংখ্যা আরো বাড়ছে। অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, অপেক্ষার সময় কমানোর জন্য অ্যাডহক ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া যুক্তিসঙ্গত নয়। বরং এতে সমস্যা বাড়ে, এমনকি কাজ স্থগিতও রাখতে হয়।

০৪. শিক্ষার্থী ভিসা নিষ্পত্তির জন্য কি ‘নতুন টিম’ এসেছে?

না। জার্মান দূতাবাস জার্মানি থেকে দুজন নতুন সহকর্মীকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়া সহকর্মীদের জায়গায় এসেছেন। দুর্ভাগ্যবশত, তারা অতিরিক্ত কর্মী হিসেবে আসেননি। ফলে তাদের আসার কারণে শিক্ষার্থী ভিসা নিষ্পত্তি করতে দূতাবাসের সামর্থ্য বাড়েনি। অতীতের মতোই আমাদের সব সহকর্মী কঠিন পরিস্থিতিতে চাপ নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করছেন। এমন অসন্তোষজনক পরিবেশে তারাও সমানভাবে ভুগছেন, কিন্তু তারা তাদের সেরাটা করার চেষ্টা করছেন।

০৫. এই পরিস্থিতিতে ভিসা সেকশন কি শুধু শিক্ষার্থী ভিসা নিয়ে কাজ করতে পারতো না?

আইনগত কারণে ভিসা সেকশন শুধু শিক্ষার্থী ভিসা নিয়ে কাজ করতে পারে না। তাছাড়া ফ্যামিলি রিইউনিয়ন ভিসা আবেদনের মতো অনেক জরুরি ও বৈধ ভিসা আবেদনও আছে, যেগুলো বাংলাদেশ-জার্মানি সম্পর্কের সাথে সংশ্লিষ্ট। সে কারণে অন্য সব ভিসা আবেদনের চেয়ে শিক্ষার্থী ভিসাকে অগ্রাধিকারে নেয়া ঠিক নয়।

০৬. দূতাবাস কি এটা নিশ্চিত করতে পারবে যে, শিক্ষার্থীরা জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ে শারীরিক উপস্থিতির সময়সীমা মিসড করবে না?

ওয়েবসাইটে আবেদন করার সময়ই দূতাবাস সব আবেদনকারীকে জানিয়ে দিয়েছিল যে, পরীক্ষা ও ভর্তির সময়সীমা বিবেচনা করা সম্ভব নয়।

সূত্র : ডয়চে ভেলে