চলতি বছর রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৯৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। রাজশাহী বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষায় মোট পাস করেছে এক লাখ ৯৫ হাজার চার শ’ ছয় পরীক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর এই চিত্র পাওয়া যায়।
চলতি বছরের পরীক্ষায় মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৭ হাজার সাত শ’ নয় শিক্ষার্থী। গত বছর রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২৬ হাজার এক শ’ ৬৭ জন শিক্ষার্থী। ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সীমিত সিলেবাসে পরীক্ষা নিলেও এবার পরীক্ষার ফলাফল গতবারের চেয়ে ভালো হয়েছে। এ বছর পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা ভালো ফলাফল করেছে।
প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে প্রতিবছরের মতো এবার আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসএসসির ফল ঘোষণা করা হয়নি। পরীক্ষার্থীরা বোর্ডের ওয়েবসাইট, এসএমএস ও নিজ নিজ স্কুলে গিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পর থেকে ফলাফল জানতে পারে।
রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আরিফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, চলতি বছর রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল ২ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ২ লাখ ৬ হাজার ৩১৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে সব বিষয়ে পাস করেছে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪০৬ জন শিক্ষার্থী। পাসের হার ৯৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। ছাত্র পাসের হার ৯৪ দশমিক ৪ শতাংশ। ছাত্রী পাসের হার ৯৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
তিনি আরো জানান, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৭ হাজার ৭০৯ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৭৩৯ জন ছাত্রী ও ১২ হাজার ৯৭০ জন ছাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরাই তুলনামূলক ভালো ফলাফল করেছে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান, এ বছর রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের অধীনে থাকা শতভাগ পাস করা স্কুলের সংখ্যা ৩৯৮টি। গতবার ছিল ৩০৮টি। একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি অর্থাৎ শূন্য পাসের হারের তালিকায় গত বছরের মতো এবারও কোনো স্কুল নেই। এ বছর ২৬৮ কেন্দ্রের মাধ্যমে ২ হাজার ৬৬৭টি স্কুল রাজশাহী বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এই বছর নিয়মিত ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৯৩ জন শিক্ষার্থী সব বিষয়ে পাস করেছে। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৭ হাজার ৪৯১ জন নিয়মিত শিক্ষার্থী।
রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে এ বছর সীমিত সিলেবাসে পরীক্ষা হয়েছে। এরপরও পরীক্ষার ফলাফল গতবারের চেয়ে আশানুরূপ ভালো হয়েছে। শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিক নিয়মে পাঠগ্রহণ না করেলেও শিক্ষার্থীরা অনলাইনে যুক্ত থেকে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে গেছে। নিয়মিতভাবে স্কুলের অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিয়েছে। এতে অন্তত শিক্ষা কার্যক্রম থেকে পিছিয়ে পড়া অনেকাংশে রোধ করা গেছে। সীমিত সিলেবাস নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজ প্রচেষ্টায় ভালো ফলাফল করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।






