অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নির্মাণাধীন গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদ এবং জীববিজ্ঞান অনুষদের সম্প্রসারিত ভবনের কাজ স্থগিত রয়েছে। তবে কাজ বন্ধের কোনো নিদিষ্ট কারণ জানা যায়নি। এদিকে জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও স্থান নিয়ে জটিলতা না থাকলেও প্রায় দুই মাস ধরে কাজ বন্ধ রাখায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২০ এপ্রিল ‘অধিকতর উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় গাণিতিক ও পদার্থবিষয়ক অনুষদ ভবনের পূর্বনির্ধারিত স্থানের পরিবর্তে নতুন স্থান চিহ্নিত করতে টেকনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট কমিটি (টিএমসি) পুনর্গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা সরেজমিনে তিনটি বিকল্প স্থান পরিদর্শন করে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংক্রান্ত জরিপ এবং বায়োডাইভার্সিটি ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্টের ভিত্তিতে পদার্থবিজ্ঞান ভবনের পশ্চিম পাশে ভবনটি নির্মাণের জন্য স্থান নির্বাচন করেন।

অন্যদিকে গত বছরের এপ্রিল মাসে জীববিজ্ঞান অনুষদের সম্প্রসারিত ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সম্প্রতি ভবনটির তৃতীয় তলার সাদ ঢালাইয়ের জন্য রড বাঁধাই করা হয়েছে। তবে গাণিতিক ও পদার্থ বিষয়ক অনুষদের নির্মাণ কাজ স্থগিত করা হলে অনুষদের বেশ কিছু শিক্ষার্থী জীববিজ্ঞান অনুষদ ভবনের কাজও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। শিক্ষার্থীদের নির্দেশনার পরেও জীববিজ্ঞান অনুষদের ভবন নির্মাণের কাজ চলমান ছিল।

প্রশাসন জানায়, নির্মাণকাজের সময় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ চলমান রাখা হবে। কিন্তু পরে ভিসি নিজেই নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার মৌখিক নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সর্বশেষ মিটিংয়ে পরিবেশ রক্ষা নিশ্চিত করে গণিত ও পদার্থবিষয়ক অনুষদের সম্প্রসারিত ভবনের নির্মাণ চালিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে কিছু শিক্ষার্থী এ ভবনসহ জীববিজ্ঞান অনুষদের সম্প্রসারিত ভবনের নির্মাণ কাজেও বাঁধা দেয়। তাদের দাবি, মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের নির্মাণ বন্ধ রাখতে হবে। হয়তো সেটার পরিপ্রেক্ষিতেই কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে।’

তবে সরেজমিনে দেখা যায়, অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মাস্টার প্ল্যান ছাড়াই নির্মাণাধীন বিভিন্ন ভবনের কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শেখ কামাল স্পোর্টস কমপ্লেক্স, লেকচার থিয়েটার কাম এক্সামিনেশন হল, ইন্টারন্যাশনাল গেস্ট হাউস কাম রিসার্চার হাউস। এছাড়া প্রোভোস্ট কোয়ার্টারসহ আরো বেশ কয়েকটি স্থাপনার নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। সেগুলোর কোনোটির জন্যই নেই মাস্টার প্ল্যান। কিন্তু অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে মাস্টারপ্ল্যান না থাকায় ভবন নির্মাণ কাজ স্থগিত রাখার স্পষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক জামালউদ্দিন রুনু বলেন, ‘কিছু শিক্ষার্থীর মাস্টার প্ল্যানের দাবি ছিল। চারুকলা অনুষদের ভবনসহ সকল অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের আগে তারা মাস্টার প্ল্যান চেয়েছে। অথচ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বিবেচনা করেই অনুষদ ভবনের নির্মাণ কাজ এগিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আমার মতে, শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চলতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে অ্যাকাডেমিক ভবনের বিকল্প নেই। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকল অংশীজনদের এ বিষয়ে বিবেচনা করা উচিৎ।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কর্মকর্তা এবং অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী নাসির উদ্দীন বলেন, ‘চারুকলা ভবনের কাজ স্থগিত হওয়ার পর সার্বিক দিক বিবেচনায় অন্য ভবনগুলোর কাজও আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ আছে তা ভিসি ভালো বলতে পারবেন।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে ভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানকে মোবাইলফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের নভেম্বরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে’র অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২১টি অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ১ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়। মোট তিন ধাপের এ প্রকল্পে শিক্ষার্থীদের জন্য হল, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আবাসিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, অ্যাকাডেমিক ভবনের সম্প্রসারণ, খেলার কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। যার মধ্যে আবাসিক হল ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সম্প্রসারিত ভবনের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।