বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সমাজকর্ম বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষের ১ম সেমিস্টারের সকল ক্লাস শেষ হলেও তিন মাস ধরে আটকে আছে পরীক্ষা। পরীক্ষার সেই ফাইলে ভিসি স্বাক্ষর না করায় পরীক্ষা আটকে আছে বলে অভিযোগ করেছেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এদিকে ওই পরীক্ষা কমিটিতে প্রথম পরীক্ষক হিসেবে প্রো-ভিসিকে রাখায় ভিসি এমনটা করেছেন বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। একইসাথে প্রো-ভিসিকে সরিয়ে নতুন ফাইল পাঠানোর নির্দেশও দেন ভিসি। এমন ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী সমাজকর্ম বিভাগের একটি কোর্সে পড়িয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী কোর্স শিক্ষক ওই কোর্সের প্রথম পরীক্ষক হন। সে অনুযায়ী পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সেই ফাইলে প্রো-ভিসিকেই প্রথম পরীক্ষক করে বিভাগ থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়। পরে ভিসি অধ্যাপক ড. শূচিতা শরমিন প্রো-ভিসির নাম দেখে এতে আপত্তি জানান। একইসাথে প্রো-ভিসিকে পরীক্ষা কমিটি থেকে বাদ দিতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে বিভাগের চেয়ারম্যানকে মৌখিকভাবে নির্দেশ দেন।
আরো জানা যায়, ভিসি লিখিত নির্দেশনা না দিয়ে মৌখিকভাবে বলায় বিভাগের চেয়ারম্যান বিষয়টি ভালোভাবে জানতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতরে একটি লিখিত চিঠি পাঠান। যেখানে ফাইলের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তবে প্রো-ভিসিকে পরীক্ষা কমিটি থেকে বাদ না দেয়ায় ভিসি ওই ফাইলে স্বাক্ষর করেননি। এতে প্রায় তিন মাস ধরে ভিসি দফতরে আটকে থাকে পরীক্ষার ফাইলটি। ফলে সকল ক্লাস শেষ করেও পরীক্ষায় বসতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে সমাজকর্ম বিভাগের দু’জন শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, ওই বর্ষের সব ক্লাস ও সংশ্লিষ্ট বিষয় শেষ করে শুধু পরীক্ষা নেয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষকরা। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের ২৬ তারিখে চিঠি দেয়া হলেও এপ্রিলের ২৯ তারিখেও চিঠির কোনো অগ্রগতির বিষয়ে জানানো হয়নি বিভাগকে। তবে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পরীক্ষা ১৫ এপ্রিল শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে শিক্ষার্থীদের অনেকটা পিছিয়ে পড়তে হবে বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষকরা।
এ বিষয়ে সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান অসীম কুমার নন্দী জানান, আমরা যথাযথ প্রক্রিয়া মেনেই পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দফতরে চিঠি দিয়েছে। আমাকে মৌখিকভাবে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল প্রো-ভিসি ক্লাস নেয় কি না। তবে তাকে সরানোর জন্য লিখিত কোনো চিঠি পাইনি। এ বিষয়টি নিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সাথে আমার কয়েকবার কথা হয়েছে।
সদ্য সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমি একসাথে ভিসির কাছে কয়েকটি ফাইল পাঠিয়েছিলাম। কিছুদিন পর তিনি সেগুলো সংশোধনের জন্য ফেরত দেন। পরে তা সংশোধন করে পুনরায় জমা দেই। পরবর্তী সময়ে ভিসি আমাকে ডেকে বলেন, ‘একটি কোর্সে প্রথম পরীক্ষক হিসেবে প্রো-ভিসি স্যারকে রাখা হয়েছে যা নিয়ম অনুযায়ী ঠিক নয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘ভিসির মতামতের বিষয়টি আমি বিভাগের চেয়ারম্যান সাথে আলোচনা করে এ জানতে চাইলে চেয়ারম্যান আগের ভিসি অধ্যাপক ড. ছাদেকুল আরেফিনের উদাহরণ টেনে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। পরে সেভাবেই আমি ভিসিকে বিষয়টি জানাই। তখন ভিসি বলেন, ‘যদি কোনো বিকল্প না থাকে তাহলে প্রো-ভিসিকে পরিবর্তন করে নতুন ফাইল পাঠাতে বলেন বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে।’
এ বিষয় জানতে চাইলে ভিসি ড.শূচিতা শরমিন বলেন, ‘আমি কোনো বিষয় নিয়েই আর কথা বলতে চাই না বলে কল কেটে দেন।’






