বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের উপলক্ষ্যে রাজধানীর ডেমরায় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় দাওয়াত কার্ড ছাড়া আসা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সারুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ।
রোববার বিকেলে দারুন্নাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসা ভবনে সারুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অন্তর্গত ডিএসসিসির ৬৭ নম্বর ওয়ার্ড আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় দাওয়াত কার্ড ছাড়া আসা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের চলে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় স্থানীয় বঞ্চিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বের হয়ে যাওয়া নেতাকর্মীরা জানায়, জাতীর পিতার শাহাদাৎ বার্ষীকি ও জাতীয় শোক দিবসের দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠান থেকে আমাদের বের করে দেয়া হবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। নগর নেতারাই আমাদের বের হয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তারা নাকি এখানে দোয়ার অনুষ্ঠান শেষে ইউনিট কমিটি করার প্রস্তুতিমূলক আলোচনা করবেন। তাই আমাদের বের করা হয়েছে। এখানেও হয়ত কোনো ষড়যন্ত্র চলছে।
তারা আরো অভিযোগ করেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সারওয়ার কবির নিজেই বলেছেন, কেন্দ্রিয় নেতারা থাকা অবস্থায় জোর করে এখানে বসে থাকবেন এটা আমরা আশা করি না। তাছাড়া ইউনিট কমিটিতে ত্যাগী নেতাদের আমরা অন্তর্ভুক্ত করবো। কমিটিতে জোর করে কেউ কোনো পদ নিতে পারবেন না। তাই এখানে বিশৃঙ্খলা না করে দাওয়াত কার্ড ছাড়া আসা নেতাকর্মীরা চলে যান। এ সময় নেতাকর্মীরা বের হয়ে যায়। অথচ অনুষ্ঠানে তৃনমূল আওয়ামী লীগকে সুসংঘঠিত করার বক্তব্য দিচ্ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের আগত অতিথি বক্তারা।
সারুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মিজবাহুর রহমান ভূঁইয়া রতন ও শরফুদ্দীন আহমেদ সেন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সারওয়ার কবির, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এফ এম শরিফুল ইসলাম শরিফ, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক এস কে বাদল, সদস্য-সালাউদ্দিন বাদল, হাজী ইলিয়াছুর রহমান বাবুল, সৈয়দা রোকসানা ইসলাম চামেলী, ড. খন্দকার তানজির মান্নান, ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খাঁন মাসুদ ও সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজল।
এ বিষয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এফ এম শরিফুল ইসলাম শরিফ মোবাইল ফোনে বলেন, জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা ও দোয়া মাহফিল শেষে দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী এখানে ইউনিট পর্যায়ে কমিটি গঠন নিয়ে প্রস্তুতিমূলক আলোচনা করা হবে। তাই অনুষ্ঠানটি আমরা মাদরাসার হল রুমে রেখেছি। এদিকে অনুষ্ঠানে স্লোগান দিয়ে আসা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী কিছু নেতাকর্মীরা চলে আসে। তাই বিশৃঙ্খলা এড়াতে তাদের চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সারওয়ার কবির মোবাইল ফোনে বলেন, অনুষ্ঠানটি ওপেন হাউস নয়। এ কারণে আমরা কার্ডভিত্তিক দাওয়াত করেছি। ওপেন হলে এখানে কর্মীদের জায়গা দেয়া সম্ভব নয়। এদিকে আমরা প্রতিদিনই ওয়ার্ড পর্যায়ে ইউটি কমিটি গঠন নিয়ে কাজ করছি দলীয় নির্দেশনায়। আগামি ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিটি ভ্যানুতে ১৫০ জন সদস্য সংগ্রহ করার ব্যবস্থা করছি যারা প্রকৃত আওয়ামী লীগ। এক্ষেত্রে প্রথমে আমরা ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রথমে ৩৭ সদস্যের ইউনিট কমিটি ও পরে পূর্ণাঙ্গ ওয়ার্ড কমিটি করবো। আর এ কাজ করতে আমরা ওয়ার্ড ও এলাকাভিত্তিক সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতা ও কর্মীদের নিয়ে কাজ করছি যাতে হাইব্রিট কেউ কমিটিতে অনুপ্রবেশ না করতে পারে।






