সাড়ে ১০ লাখ ফ্রিল্যান্সার ১০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আনছে দেশে। আর বর্তমান বিশ্ব বাজারে দেশের উন্নয়নে ফ্রিল্যান্সারা অনেক অবদান রাখছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

তিনি বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে এই তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। এর ধারাবাহিকতায় ফ্রিল্যান্সারা বেশি বেশি আয় করছে। ফ্রিল্যান্সারদের উপার্জিত অর্থে আমাদের রেমিট্যান্স দিন দিন সমৃদ্ধ হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সার ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (বিএফডিএস) আয়োজিত সিটিব্যাংক বিএফডিএস কনফারেন্স ২০২৩-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিএফডিএসের উদ্যোগে সারা বাংলাদেশ থেকে আগত ফ্রিল্যান্সারদের নিয়ে এই সম্মেলন হয়।

দেশের উন্নয়নে ফ্রিল্যান্সারদের অবদান তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ফ্রিল্যান্সারদের অবদান সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে পড়ছে। ফ্রিল্যান্সাররা তাদের অর্জিত বিদেশী আয় নির্ধারিত অনলাইন প্লাটফর্মগুলোর মাধ্যমে দেশে আনলে এর বিপরীতে ৪ শতাংশ নগদ সহায়তা পাবেন। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

দেশের প্রতিটি ব্যাংককে এই ৪ শতাংশ নগদ সহায়তা প্রদানের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে সরকার নানা ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করেছেন বলেই বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা স্বাধীনভাবে কাজ করছে। এটা বড় অর্জন। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এখন ইউনিয়ন পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। এখন গ্রামে বসেই তরুণদের কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ফ্রিল্যান্সাররা মুক্ত বিহঙ্গের মতো। তারা যা খুশি তাই করে। আমাদের তরুণেরা অনেক সাহসী, তরুণকালে এতো সাহস আমার ছিল না।’

অনুষ্ঠানে বিএফডিএস প্রতিষ্ঠাতা ও সিনিয়র সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন জয় বলেন, ‘ফ্রিল্যান্সারদের সুখে-দুঃখে সবসময় আমরা পাশে দাঁড়িয়েছি। তাদের জীবনমান উন্নয়নসহ মেধা ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে দেশকে এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে বিএফডিএস।’

বিএফডিএসের চেয়ারম্যান ডা: তানজিবা রহমান সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘বিশ্বে ফ্রিল্যান্সিংয়ের বাজার দেড় ট্রিলিয়ন ডলার। এ বাজারে কাজ করছে বাংলাদেশের প্রায় অননাইন ও অফলাইন মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ১০ লাখ বাংলাদেশী। ফ্রিল্যান্সিংয়ের কর্মী হিসেবে আমরা বিশ্বের দ্বিতীয়। অথচ আয়ের দিক থেকে অষ্টম। আমাদের দক্ষতা বাড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এই ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ডের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সাররা ব্যাংকিং ঋণসহ অন্যান্য সুবিধাদি পাচ্ছে। ঘরে বসে নারীরাও ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করছে। বাংলাদেশের এই আন্তর্জাতিক অনলাইন প্লাটফর্মে কর্মরত এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অনেক সমস্যা রয়েছে। বিএফডিএস এসব সমস্যা সমাধানে সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, আর্থিক, সামাজিক ব্যবস্থাপনা বাধাগুলো নিরসনে সরকারের সাথে কাজ করে যাচ্ছি আমরা।’

সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মাসরুর আরেফিন বলেন, ‘আমরা ফ্রিল্যান্সারদের সর্বোচ্চ সুবিধা দিয়ে আলাদা কার্ড করেছি। এর মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সাররা নানা সুযোগ-সুবিধাদি ও ব্যাকিং ঋণ পাবে। ডেবিট কার্ডসহ নানা বিষয়ে আমরা ফ্রি করে দিচ্ছি। ফ্রিল্যান্সারদের উন্নয়নে সিটি ব্যাংক সর্বোচ্চ ছাড় দেবে। তরুণেরা ফ্রিল্যান্সিং করে ডলার আয় করছে। এর ফলে দেশ গঠনে তরুণেরা অবদান রাখছে। সিটি ব্যাংকও এসব তরুণদের পাশে থাকতে চায়।’