বিয়ের অনুষ্ঠান তো ভালোভাবেই সম্পন্ন হলো। তবে এবার ঘুরে আসা যাক। আর সেটা যদি হয় হেলিকপ্টারে করে, তবে তো কথাই নেই! কিন্তু বিয়ের পর একটু ভালো সময়, রোমান্টিক সময় কাটাতে বের হওয়ায় যেন জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল আর একই সাথে মর্মান্তিক এক কাহিনীর সূচনা হয়ে রইল। এমনই এক ঘটনা ঘটেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে।
নিজেদের বিয়ের আসর থেকে সরাসরি ভ্রমণে বের হওয়ার কিছুক্ষন পরই হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে বর-কনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে এ ঘটনা ঘটেছে বলে কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।
নবদম্পতি উয়িল বায়লার ও বেইলি অ্যাকারমান বায়লার সাম হিউস্টন স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংবাদপত্রেই প্রথম তাদের মৃত্যুর সংবাদ ছাপা হয়।
জানা যায়, শনিবার তাদের বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার মাত্র দেড় ঘন্টা পর সান আন্টোনিও থেকে ১৩৫ কিলোমিটার পশ্চিমে ইভালদিতে বায়লারদের পারিবারিক পশু খামারের কাছে পাহাড়ি এলাকায় তাদের বহনকারী বেল ২০৬বি হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।
এ ঘটনায় হেলিকপ্টারটির পাইলট জেরাল্ড ডগলাস লরেন্সও নিহত হয়েছেন বলে উয়িল বায়লারের দাদা উইলিয়াম বায়লার নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে এবিসি।
অন্যদিকে পাইলট লরেন্স মার্কিন সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন ছিলেন এবং তিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধে লড়াইও করেছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবারের এক সদস্য।
বিয়ের আসর থেকে নবদম্পতি যখন তাদের পারিবারিক হেলিকপ্টারটিতে উঠছিলেন তখন সেখানে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
লরেন্স অনেক বছর ধরেই এই হেলিকপ্টারটি পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড (এনটিএসবি) ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে বলে জানানো হয়েছে।
আরো পড়ুন: অতিরিক্ত হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের অভিযোগে বিয়ে বাতিল
বিবিসি, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮
'হবু স্ত্রী সোশাল মেসেজিং সার্ভিস হোয়াটসঅ্যাপের পেছনে প্রচুর সময় ব্যয় করেন' - এই অভিযোগে বর তাদের মধ্যে নির্ধারিত বিয়ে বাতিল করে দিয়েছেন। অবশ্য কনে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ভারতের উত্তর প্রদেশের একটি গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটেছে।
শুধু তাই নয়, কনে এবং তার পরিবার মিলে স্থানীয় থানায় একটি মামলা দায়েরও করেছেন। তারা অভিযোগ করেছেন যে বর তাদের কাছে বড় অংকের যৌতুক দাবি করেছিল।
ভারতে হোয়াটসঅ্যাপ খুবই জনপ্রিয় মেসেজিং সার্ভিস। প্রায় ২০ কোটি মানুষ এই অ্যাপটি ব্যবহার করেন।
তবে হোয়াটসঅ্যাপ নিয়ে ভারতে প্রচুর বিতর্ক রয়েছে, কারণ এই অ্যাপে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া খবরের কারণে বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। শিশু পাচারের মতো ভুয়া ভিডিও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বেশ কিছু এলাকায় সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। হোয়াটসঅ্যাপের এধরনের ব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে অ্যাপটির কর্তৃপক্ষ।
কী হয়েছিল?
বিয়ের দিনই এই বাতিল করা হয়। বরের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে কনে বিয়ের আগেই তার হবু শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে হোয়াটসঅ্যাপে বেশ কয়েকটি মেসেজ পাঠিয়েছিলেন।
ভারতীয় সংবাদপত্র হিন্দুস্তান টাইমসে প্রকাশিত এই খবরে বলা হয়, আমরোহা জেলার নাওগা গ্রামে কনে এবং তার আত্মীয় স্বজনরা বরের আসার জন্যে অপেক্ষা করছিলেন।
কিন্তু বর আসতে দেরি হওয়ায় মেয়েটির পিতা বরের পিতাকে ফোন করেন। তখন বরপক্ষকে থেকে তাকে জানানো হয় যে এই বিয়ে হবে না কারণ কনে ভাল নয়- তার ‘অতিরিক্ত মাত্রায় হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের অভ্যাস আছে।’
আমরোহার একজন পুলিশ কর্মকর্তা ভিপিন তাদা জানিয়েছেন, ‘বরপক্ষ এই বিয়েটি বাতিল করে দিয়েছে কারণ মেয়েটি নাকি বিয়ের আগেই হবু শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে হোয়াটসঅ্যাপে প্রচুর মেসেজ পাঠাচ্ছিল।’
তবে কনের পরিবার বলছে, আসল কাহিনি এরকম নয়। বরং সত্য ঘটনা হল, বরপক্ষ থেকে তাদের কাছে বড় অংকের যৌতুক দাবি করা হয়েছিল। আর সেকারণেই একেবারে শেষ মুহূর্তে তারা বিয়ে ভণ্ডুল করে দিয়েছে।
কনের পিতা বরপক্ষের বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি করার অভিযোগে থানায় একটি মামলাও দায়ের করেছেন। পিতা উরজ মেহান্দি দাবি করেছেন যে বরপক্ষ থেকে তাদের কাছে ৬৫ লাখ রুপি চাওয়া হয়েছিল যৌতুক হিসেবে।
পুলিশকে তিনি বলেছেন, ‘বরপক্ষকে স্বাগত জানাতে আমাদের আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব সবাই বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিল। তারা আসছে না দেখে আমি বরের পিতাকে ফোন করি। তখন তারা আমাকে জানান যে এই বিয়ে হবে না।’ পুলিশ এখন পাল্টাপাল্টি এসব অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে।
পুলিশকে তিনি বলেছেন, ‘বরপক্ষকে স্বাগত জানাতে আমাদের আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব সবাই বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিল। তারা আসছে না দেখে আমি বরের পিতাকে ফোন করি। তখন তারা আমাকে জানান যে এই বিয়ে হবে না।’ পুলিশ এখন পাল্টাপাল্টি এসব অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে।






